প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে
দোষী রাফালে কেলেঙ্কারিতে

একসঙ্গে বললেন যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি, প্রশান্ত ভূষণ

প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে<br>দোষী রাফালে কেলেঙ্কারিতে
+

নয়াদিল্লি, ১১ই সেপ্টেম্বর — রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে দুর্নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকেই সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুললেন কেন্দ্রের বি জে পি সরকারের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা ও অরুণ শৌরি। একই অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী তথা সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণও। মঙ্গলবার এখানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তিনজন বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই বৃহত্তম কেলেঙ্কারির জন্য ‘স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে দোষী’। পূর্বতন ইউ পি এ আমলের মূল চুক্তিতে ১২৬টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার কথা ছিল। কিন্তু ফ্রান্স সফরে গিয়ে চুক্তি বদলে দিয়ে এই সংখ্যা কমিয়ে ৩৬করেন মোদী। ভারতীয় বিমানবাহিনীর চাহিদা সত্ত্বেও একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মোদী দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে ‘আপস’ করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। ভারতীয় বায়ুসেনার উপপ্রধান এয়ার মার্শাল এস বি দেও-র সাম্প্রতিক বিবৃতির উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ‘দুর্নীতির কথা জানাজানি হওয়ার পরে সরকার এখন চুক্তির পক্ষে সাফাই গাইতে শীর্ষ সেনা অফিসারদের বাধ্য করছেন।’
এর আগে বারবার রাফালে কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস জানিয়েছে, ইউ পি এ আমলের চুক্তি অনুযায়ী একেকটি রাফালে যুদ্ধবিমানের দাম পড়ছিল ৫২৬কোটি টাকা। কিন্তু মোদীর চুক্তিতে প্রত্যেকটি যুদ্ধবিমানের দাম ঠিক হয়েছে ১৬০০কোটি টাকারও বেশি!
রাফালে যুদ্ধবিমানকে ‘বিউটিফুল এয়ারক্রাফট’ আখ্যা দিয়ে দুজন শীর্ষ সেনা অফিসার যে বিবৃতি দিয়েছেন তা উল্লেখ করে সিনহা, শৌরি এবং ভূষণ এদিন বলেন, ‘রাফালের মান সম্পর্কে আমরাও একমত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিমানবাহিনীর প্রয়োজন এবং সিদ্ধান্ত অমান্য করে মোদী কেন ১২৬টি রাফালে কমিয়ে মাত্র ৩৬টি করলেন?’ তাঁরা বলেন, ‘আগের চুক্তি অনুযায়ী এমন যুদ্ধবিমান তো আমাদের দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত হিন্দুস্থান অ্যারোনটিস লিমিটেড (এইচ এ এল) বানাতে পারত। কিন্তু মোদীর নতুন চুক্তিতে এই সুযোগ নেই! মোদীর নয়া চুক্তিতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান এভাবে উবে যাওয়ার কারণ কি?’ রাফালে কেলেঙ্কারির জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীই ব্যক্তিগতভাবে দোষী’, মন্তব্য করেন তাঁরা।
শুধু এয়ার মার্শাল দেও নন, গত সপ্তাহে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার মার্শাল রঘুনাথ নাম্বিয়ারও পৃথক বিবৃতি দিয়ে রাফালে কেনা নিয়ে কোন দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেন। এই প্রসঙ্গে সিনহা, শৌরি এবং ভূষণ এদিন বলেন, ‘সরকার বায়ুসেনা অফিসারদেরও মিথ্যে বলতে বাধ্য করছে। আপনারা (সরকার) ওঁদের মুখ দিয়ে বলাচ্ছেন যে বিমানবাহিনী নাকি ৩৬টি রাফালে কিনতেই বলেছিল! কিন্তু এই তথ্য পুরোপুরি মিথ্যে। অসত্য কথা বলছেন বিমানবাহিনীর উপপ্রধান। ২০১৫সালের ১০ই এপ্রিলের আগে বিমানবাহিনী একবারের জন্যও মাত্র ৩৬টি রাফালে কেনার কথা বলেনি। অফিসারদের দিয়ে মিথ্যে কথা বলিয়ে বিমানবাহিনীর নৈতিক মূল্যবোধটাই শেষ করে দিচ্ছে সরকার।’
প্রসঙ্গত, ফ্রান্স সফরে গিয়ে ২০১৫সালের ১০ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘ভারত ৩৬টি রাফালে জেট কিনবে।’ তাঁর এই কথার পরে ৫৮হাজার কোটি টাকার নতুন রাফালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০১৬সালের সেপ্টেম্বরে। উল্লেখ্য, রাফালে যুদ্ধবিমান সরবরাহকারী ফ্রান্সের দাসাল্ট সংস্থা ভারতে ব্যবসা করার জন্য অনিল আম্বানির কোম্পানির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। গত রবিবার আমেদাবাদে সাংবাদিকদের কাছে প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, শুধুমাত্র অনিল আম্বানির কোম্পানিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই রাফালে চুক্তি বদলে দিয়েছেন মোদী। রাফালে কেনার চুক্তি ঘিরে নরেন্দ্র মোদীর আমলে ‘অকল্পনীয় মাত্রার দুর্নীতি’ হয়েছে। এই চুক্তির বিনিময়ে ‘কমিশন’ হিসাবে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স সংস্থা ২১হাজার কোটি টাকা ঘুষ খেয়েছে। আটের দশকে ৬৪কোটি টাকার বোফর্স কেলেঙ্কারিতে ৪শতাংশ ‘কমিশন’ নেওয়া হয়েছিল। আর এবার রাফালে কেলেঙ্কারিতে অনিল আম্বানির কোম্পানি কমপক্ষে ৩০শতাংশ ‘কমিশন’ নিয়েছে। মঙ্গলবারও সিনহা, শৌরি এবং ভূষণ বোফর্সের থেকে অনেক বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে রাফালে চুক্তিতে। আম্বানির কোম্পানি যাতে কমিশন খেতে পারে, তার সমস্ত ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাই কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)-কে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রাফালে চুক্তির তদন্ত করানো উচিত বলে দাবি তোলেন তাঁরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement