অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের
ভাতা বাড়ালো কেন্দ্র

আন্দোলনের জেরে

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের<br>ভাতা বাড়ালো কেন্দ্র
+

নয়াদিল্লি, ১১ই সেপ্টেম্বর— আংশিক হলেও, লড়াইয়ের জয়। আন্দোলনের জেরে বাধ্য হয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রের বি জে পি নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, অক্টোবর মাস থেকে নির্দেশ কার্যকর হবে। নভেম্বর থেকে বর্ধিত ভাতা পাবেন তাঁরা। 
দীর্ঘদিন ধরেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার বামপন্থীরা। গত ৫ই সেপ্টেম্বর ‘মজদুর কিষান সংঘর্ষ’ র‌্যালিতেও অংশ নেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তার কয়েকদিনের মধ্যেই এই ভাতা বাড়াতে বাধ্য হলো কেন্দ্র। ‘অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অব অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স’ (এ ‌আই এফ এ ডব্লিউ এইচ) দেশের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহকারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন, নিজেদের দাবি ছিনিয়ে আনতে পারার জন্য। তবে যে পরিমাণ টাকা বেড়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু শ্রমিকবিরোধী এই সরকার অল্প পরিমাণ টাকাও যে বাড়িয়েছে সেটাকেই শ্রমিকদের আন্দোলনের জয় হিসাবে দেখছেন প্রত্যেকে।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি মাসে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বাড়লো ১৫০০ টাকা। মিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বাড়ছে ১২৫০ টাকা এবং হেল্পারদের ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যাঁরা এতদিন তিনহাজার টাকা করে পেতেন, তাঁরা প্রত্যেকেই পাবেন ৪৫০০ টাকা। মিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা পেতেন ২হাজার ২০০ টাকা, এখন পাবেন ৩৫০০ টাকা। অঙ্গনওয়াড়ি সহকারীরা পাবেন ২হাজার ২৫০টাকা। তাঁরা পেতেন ১৫০০টাকা। একইসঙ্গে এদিন দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে চলে আসবেন আশাকর্মীরা। 
এ ‌আই এফ এ ডব্লিউ এইচ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট এবং পরের বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহকারীরা আন্দোলন করে নিজেদের ভাতা বাড়াতে পেরেছেন। চারবছর ধরে লাগাতার আন্দোলনের ফসল এটি। সি আই টি ইউ-র নেতৃত্বে গত ৫ই সেপ্টেম্বরের মিছিলে কমপক্ষে ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহকারী পা মিলিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তাঁরা বলেছেন, মোদী স্পষ্ট করেননি আই সি ডি এস-এর জন্য অতিরিক্ত কত বরাদ্দ করা হবে। ৪৫তম শ্রমিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের কর্মীদের জন্য ন্যূনতম ১৮হাজার টাকা ভাতা এবং পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা ও সর্বোপরি শ্রমিকের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই তোলা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে যদিও এদিন কোনও দিশা দেখায়নি কেন্দ্র। বলা হয়নি পেনশন সংক্রান্ত কোনও কথাও। এ ‌আই এফ এ ডব্লিউ এইচ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, মোদী সরকার পুষ্টির পক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন মনে করলেও এরাই প্রতিনিয়ত আই সি ডি এস-এ বাজেট কমিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহকারীদের ভাতা বকেয়া পড়ে রয়েছে। মোদী সরকারের এসব নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। প্রসঙ্গত, দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং সদ্যোজাতের শুশ্রুষা, শিশু ও মায়ের পুষ্টির মান বজায় রাখা, একইসঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement