নির্যাতিতাশিশুকে নিয়ে নির্বিকার
স্কুল-পুলিশ,
আদালতের ভর্ৎসনা

 নির্যাতিতাশিশুকে নিয়ে নির্বিকার<br>স্কুল-পুলিশ,<br>আদালতের ভর্ৎসনা
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১১ই সেপ্টেম্বর — বছর কেটে যাওয়ার পরে জি ডি বিড়লার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভর্ৎসনা করল হাইকোর্ট। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের নিরাপত্তার নিরিখে ঠিক কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা সাতদিনের মধ্যে হলফনাম দিয়ে স্পষ্ট করতে বললেন বিচারপতি। এক বছর পার হয়ে গেলেও জি ডি বিড়লা স্কুলের নির্যাতিতা এখনও কোনও বিচার পায়নি। সেই ঘটনার আতঙ্কের স্মৃতি বইছে ছোট্ট মেয়েটি।    
ছোট্ট মেয়ে সামলানো, পাশাপাশি পড়াশোনার ব্যবস্থা— সব একসঙ্গে করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে নির্যাতিতার শিশুর পরিবার। নিম্ন আদালতে মামলার শুনানির কারণে নতুন করে কোনও স্কুলেও ভর্তি করানো যাচ্ছে না। থমকে গিয়েছে তার পড়াশোনা। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত করেছে শিশুর পরিবার।
ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়ার এজলাসে সোমবার মামলার শুনানি চলাকালীন শিশুর পরিবারের পক্ষের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা তেব্রিওয়াল জানান, ঘটনার এক বছর হতে চললেও স্কুলেই ঢুকতে পারছে না শিশুটি। আজও তার চোখে মুখে আতঙ্ক রয়েছে। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশও তদন্ত কিছু করছে না।   
‘শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে বসেছে অথচ সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছেন।’ আইনজীবীর এমন সওয়ালের পরেই বিচারপতি নাদিয়া পাথেরিয়া স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বার বার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’৷ এতেও কি কারোর টনক নড়ছে না? কেন শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা হচ্ছে?
আদালত জানায়, শিশুটি যদি ওই স্কুলে যেতে ভয় পায় তাহলে কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র ভর্তির সুবিধা করে দিচ্ছে না। বিরোধীপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি জানান, শিশুটিকে কোন স্কুলে ভর্তি করা যায় তা দ্রুত জানাতে হবে। সেই ভর্তির যাবতীয় দায়িত্বও নিতে হবে ওই জি ডি বিড়লা স্কুল কর্তৃপক্ষকে।  
জি ডি বিড়লা স্কুলে ছাত্রীদের নিরাপত্তায় এখন কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা জানানোর পাশাপাশি শিশুটির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা স্পষ্ট করতে বলেছেন বিচারপতি।

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement