মহানগরে কিশোরের
মৃত্যু ডেঙ্গুতে

মহানগরে কিশোরের<br>মৃত্যু ডেঙ্গুতে
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১১ই সেপ্টেম্বর— শহরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা পরোক্ষে স্বীকার করে নিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ। উত্তর কলকাতার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের কিশোর আরুষ দত্ত (১১)-র মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মৃত্যুর কারণ হিসাবে স্পষ্টই লেখা ডেঙ্গুর কথা। কলকাতায় এনিয়ে ডেঙ্গু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০-র বেশি। এদিনের ঘটনায় পৌর পরিষেবার উপর নাগরিকদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী কাউন্সিলররা।
উত্তর কলকাতার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৯/৬ সি প্যারিমোহন সুর লেনের বাসিন্দা বছর ১১-র  আরুষ দত্ত। বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বর হওয়ায় গত ৯ই সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি রক্তপরীক্ষা কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা কারানো হয় তার। ভর্তি করা হয় কাঁকুড়গাছি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রক্তপরীক্ষা রিপোর্টে এন এস ওয়ান পজেটিভ পাওয়া গিয়েছে। তখন ১লক্ষ ৮৬হাজার ছিল প্লেটলেট। কিশোরের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে ৯ই সেপ্টেম্বর রাতে মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকার পরে মঙ্গলবার ভোরে আরুষের মৃত্যু হয়। কিশোরের মৃত্যুর কারণ হিসাবে হাসপাতালের তরফে দেওয়া মৃত্যুর শংশাপত্রে ‘সিভিয়ার ডেঙ্গু ফিভার উইথ হ্যামারেজ’ বলে স্পষ্ট লেখা হয়। বিরোধী কাউন্সিলররা দাবি করেছেন, কর্পোরেশন স্বাস্থ্যবিভাগের ভূমিকাই মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিগত বছরগুলিতে যেভাবে কর্পোরেশন শহরে আক্রান্তের সংখ্যা চাপা দিতে মাঠে নেমেছে, ডেঙ্গুতে মৃত্যু অস্বীকার করে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পরোক্ষে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাতে নাগরিক মনে পৌর পরিষেবা নিয়ে বিরুপ ধারণা তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, কর্পোরেশনের আধিকারিকরা বিষয়টি যে ভাবে চাপার চেষ্টা করেছে প্রতি বছর তাতে হেলথ ইউনিটে দেখালে সত্য জানা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই বাড়ির সামনে কর্পোরেশনের চকচকে ওয়ার্ড হেলথ ইউনিট থাকার পরেও আরুষের পরিবার সেখানে না গিয়ে বেসরকারি পরিষেবাতেই আস্থা রেখেছিল। 
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন কলকাতা কর্পোরেশনে মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ জানান, রিপোর্ট পেয়েছি। ১১বছরের কিশোরের এভাবে মৃত্যু দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের লোক ওয়ার্ড হেলথ ইউনিটে দেখালে ভালো হতো। মৃত্যুর কারণ নিয়ে আমরা রিপোর্ট রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে পাঠিয়ে দেবো। ওই কিশোর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র ছিল। এমন ঘটনার পরে সেই স্কুলে কর্পোরেশনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রতিবার ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু)-র নির্দেশ মতো ডেঙ্গুর চিকিৎসা পদ্ধতি শহরে সমস্ত রেজিস্ট্রেশন আছে এমন চিকিৎসকদের পাঠানো হয়। সেই পদ্ধতি মেনে চিকিৎসা করলে ডেঙ্গু ভয়াবহ হয় না। এদিন আরুষের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩-এ দাঁড়ালো। এর আগে আরও দুজনের বেহালায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছেন।    

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement