গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই বোমা মজুত

ধৃত ৭জনই তৃণমূলকর্মী

গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই বোমা মজুত
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: খয়রাশোল, ১১ই সেপ্টেম্বর— ঘটনার পর থেকেই শাসকদলের নেতারা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল বিরোধীদের উপর দায় চাপাতে। কিন্তু ঘটনাক্রম দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিয়েছিল নেপথ্যে কাহিনি।  স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা ছাড়া পথ ছিল না পুলিশের। তাই করেছে পুলিশ এবং মামলা রুজু হওয়ার পর সাতজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। গত সোমবার খয়রাশোলের বড়রায় সোমবার মজুত বোমা ফেটে তৃণমূল কার্যালয় ধূলিসাৎ হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার এই সাতজনই এলাকার পরিচিত তৃণমূলকর্মী এবং নানা দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপে সিদ্ধহস্ত বলে জানা গিয়েছে বড়রা গ্রাম থেকেই। 
খয়রাশোলের অপরাধমূলক কাজ বলতে খোলামুখ কয়লা খনি থেকে অবৈধ কয়লা পাচার। কোটি কোটি টাকার হাতবদল হয় এই কারবারের মাধ্যমে। আর এই টাকার উপর দখলদারি রাখতেই তো প্রয়োজন ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা’। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বিগত কয়েক বছরে বলে একবাক্যে বলছেন এলাকার মানুষ। যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই বড়রা তো এই কারবারের প্রাণকেন্দ্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই। কয়লা পাচারের অন্যতম পথ এই বড়রা। তাই বড়রার দখলদারি খুব প্রয়োজন। এলাকারই এক দীর্ঘদিনের তৃণমূলনেতা জানিয়েছেন, ‘‘দলের গোষ্ঠীবিবাদ তো আজকের নয়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসতে না আসতেই গোষ্ঠীবিবাদ চরমে উঠেছিল খয়রাশোলে। একদিকে অশোক ঘোষের দলবল, অপরদিকে অশোক মুখোপাধ্যায়ের দলবলের বিবাদে হানাহানি, হিংসা, রক্তপাত, বিস্ফোরণ এলাকার মানুষের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। পরে দুই নেতাই খুন হয়েছেন একে অপরের গোষ্ঠীর হাতে। কিন্তু বিবাদ বইয়ে নিয়ে চলেছে তাঁদের অনুগামীরা। মূলে সেই কয়লা।’’
 জানা গিয়েছে, সদ্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর হবে বড়রা পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন হবে। তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে দপ্তরটি বোমায় উড়েছে তার দেওয়ালে যার নাম লেখা আছে সেই শেখ আজফার কালোর মামার মেয়ে হবে প্রধান। এই শেখ কালো বর্তমানে খয়রাশোল ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপক ঘোষের ছত্রছায়ায় রয়েছে। আর ব্লক তৃণমূলেরই কার্যকরি সভাপতি উজ্জ্বল হক কাদেরি রয়েছে বিপরীত মেরুতে। এদের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। বিরোধের ভরকেন্দ্রে রয়েছে অবৈধ কয়লার ভাগ বাঁটোয়ারা। সেই বাঁটোয়ারা নির্ভর করে বড়রা কার দখলে থাকবে তার উপর। যা নিয়েই বিবাদ, সংঘর্ষ এলাকায় রোজনামচায় পরিণত হয়েছে। এই বিবাদে টক্কর দিতেই প্রয়োজন ‘মাল-মেশিন-সকেট’। যা নিশ্চিতভাবেই বিপুল সংখ্যায় মজুত আছে উভয় গোষ্ঠীর হাতে, জানিয়েছেন খোদ এক তৃণমূল নেতা-ই। 
 এদিকে বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সি আই ডি বোম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। কাঁকরতলা থানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘটনার তদন্ত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন জেলা পুলিশসুপার কুণাল আগরওয়াল। পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণস্থল থেকে এদিন বোম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা স্প্লিন্টার, বোমার খোল, বোমা তৈরির সামগ্রী, হামলদিস্তা, লাল বারুদের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। অনুমান সকেট বোমা মজুত ছিল। এই ঘটনায় রাতেই এলাকা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতরা এলাকায় তৃণমূলকর্মী হিসাবেই পরিচিত। দুবরাজপুর আদালতের সরকারি আইনজীবী মনিলাল দে জানিয়েছেন, ‘‘ধৃতদের শেখ সাত্তার, শেখ হাদমত ও শেখ সালাউদ্দিনকে ৬ দিনের পুলিশ হেপাজত এবং আনসার শেখ, এনামুল শেখ, শেখ সাজু ও শেখ নাজমুলকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’’ ভেঙে পড়া দলীয় কার্যালয়ের দেওয়ালে লেখা আফজার কালোর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় এখনও পুলিশ কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement