আমডাঙা নিয়ে রাজ্যপালের
কাছে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস

আমডাঙা নিয়ে রাজ্যপালের<br>কাছে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১১ই সেপ্টেম্বর— শাসকদল এবং পুলিশ যত বাধাই দিক, সন্ত্রাস কবলিত আমডাঙায় গিয়ে বামপন্থীরা সভা করবেই। মঙ্গলবার বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমডাঙায় শাসকদলের নেতারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের শীর্ষনেতারা সভা করে হুমকি দিচ্ছেন। অথচ পুলিশ বিরোধীদের সভা করতে দিচ্ছে না। কিন্তু আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর আমরা আমডাঙায় যাবোই, সভা করবোই। পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দিক বা না দিক সভা হবেই।
মঙ্গলবার বিকালে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের প্রতিনিধিরা। আমডাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস নিয়ে তথ্যসহ একটি স্মারকলিপি রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা। রাজভবন থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ এবং শাসকদলের দুষ্কৃতীরা পঞ্চায়েত দখলের জন্য আমডাঙায় যেভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তার তথ্য রাজ্যপালের হাতে আমরা তুলে দিয়ে আমরা তাঁকে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ করেছি। রাজ্যপাল আমাদের দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের থেকেও জেনেছেন বলে আমাদের কাছে বলেছেন।
সুজন চক্রবর্তীও বলেন, রাজ্যে দুষ্কৃতীদের রাজত্ব চলছে বলে আমরা রাজ্যপালকে জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে তাঁর একশোভাগ পঞ্চায়েত চাই। তারপরে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। তারপরেও যেখানে শাসকদল জেতেনি সেখানে বিরোধীদের থেকে পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিতে আক্রমণ চলছে। এমনকি তৃণমূলের এক গোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীর হাত থেকে বোর্ড ছিনিয়ে নিতে হামলা করছে। হেরে যাওয়া পঞ্চায়েতকেও বিরোধীদের থেকে গায়ের জোরে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার একটি উদাহরণ হলো আমডাঙা।
তিনি বলেন, আমডাঙার তিনটে গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল হেরেছে। কোনোভাবেই তাদের বোর্ড গঠন করার সংখ্যা নেই। সেই কারণে ৩মাস ধরে দুষ্কৃতীদের জড়ো করে আক্রমণ চালাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি। হাইকোর্ট গত ২৮শে আগস্ট নির্দেশ দেয় যে নির্বাচিত সদস্যরা যাতে স্বেচ্ছায় ভোট দিয়ে বোর্ড গঠন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। এরপরেই শাসকদলের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তারা ভাটপাড়া, শাসন ইত্যাদি এলাকা থেকে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আমডাঙায় জড়ো করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুষ্কৃতীদের বোমা বন্দুকের সামনে আমডাঙার মানুষ সাধ্যমতো রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করেছেন। সেই ‘অপরাধে’ এখন আমডাঙার ঐ গ্রামগুলোকে পুরুষশূন্য করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে খাবার পর্যন্ত নেই। বিরোধী দলের নেতাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূল নেতারা দুষ্কৃতীদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানেন কোথা থেকে অস্ত্র আসছে, পুলিশের সবার আগে তাঁকেই গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু পুলিশ দলদাসের মতো আচরণ করছে, দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পুলিশই মানুষের ওপরে আক্রমণ চালাচ্ছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই সুজন চক্রবর্তী ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর আমডাঙায় সি পি আই (এম) সভা করবেই, সেখানে আমরা যাবোই। 
রাজ্যপালের কাছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের দেওয়া স্মারকলিপিতে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার, নিরীহদের মুক্তি এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। অবিলম্বে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী সদস্যদের নিরাপদে উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। 
সুজন চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভয়ংকর পরিস্থিতি চলছে। নারায়ণগড় পাত্রসায়েরের পরে খয়রাশোলেও তৃণমূলের পার্টি অফিসে বোমা বিস্ফোরণে প্রমাণিত হয়েছে যে এরাজ্যে শাসকদলের পার্টি অফিসগুলি বোমা বারুদের গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ঐ পার্টি অফিসগুলি সম্পর্কে সাবধান থাকা দরকার। 
মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে পুজোকমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলেছেন সেই সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, সরকারি টাকা কারোর পৈতৃক সম্পত্তি নয়। মুখ্যমন্ত্রী যদি পুজো কমিটিকে টাকা দিতে চান তাহলে সারদা নারদায় লুটের টাকা থেকে বিলোতে পারেন, কিন্তু জনগণের টাকা এভাবে বিলোতে পারেন না। সেতু মেরামতির জন্য টাকা খরচ করতে পারছেন না আর জনগণের টাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ছবি প্রচারের জন্য পুজোকমিটিকে টাকা বিলোবেন? আমরা এটা মেনে নেবো না। 
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement