টানা বৃষ্টিতে ধস জাতীয় সড়কে,
জল বাড়ছে উত্তরের নদীগুলিতে

টানা বৃষ্টিতে ধস জাতীয় সড়কে,<br>জল বাড়ছে উত্তরের নদীগুলিতে
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিলিগুড়ি, ১১ই সেপ্টেম্বর— নাগাড়ে বর্ষণে সেবকের মঙপুর কাছে মঙ্গলবার ৩১নং জাতীয় সড়কে ফের ধস নামল। নতুন করে ধস নামায় সড়কপথে শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিম ও ডুয়ার্সের মালবাজারের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। ওই পথে আসা সমস্ত গাড়িকে ঘুরপথে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে এদিন পশ্চিম সিকিমে একটি বহুতল ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মুরগির খামারও। জানা গিয়েছে ৬টি পরিবারের বসবাস ছিল বহুতলটিতে। যদিও এই ঘটনায় হতাহতের খবর নেই। পরিবারগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে আনা হয়েছে। এলাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন এন ডি আর এফ জওয়ানরা।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে জল বেড়েছে মালবাজার মহকুমার চেল, ঘিস, লিস, মাল, জলঢাকা নদীতে। মালবাজার মহকুমার সাউগাঁও এলাকায় লিস নদীর ওপর গাইড বাঁধ ১০০মিটার জুড়ে ভেঙে গিয়েছে। যার ফলে লিস নদীর জল সাওগাও কৃষি জমিতে ঢুকতে শুরু করেছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সাওগাঁও গ্রামকে বাঁচাতে এই এক কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ তৈরি হয়েছিল। এখন বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বহু কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে নদীর জলে।
এদিকে জলমগ্ন পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের দাবিতে মঙ্গলবার রাজ্য সড়কের ওপরে তাঁবু টাঙিয়ে অবরোধ করলেন বিপন্ন মানুষ। মালবাজার মহকুমার নাগরাকাটা ব্লকের শুল্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সার্কাস লাইনের বাসিন্দারা এভাবেই রাস্তার ওপর তাঁবু খাটিয়ে অবরোধ করার ফলে রাস্তা জুড়ে ব্যাপক যানজট হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিবার রাতভর বৃষ্টিতে ভগতপুর ঝোরা নামে একটি ছোট কালভার্টের ভিতর থেকে জল যেতে না পেরে এলাকার প্রায় একশো বাড়িকে ভাসিয়ে দিয়েছে। জলের স্রোতে বাড়ির আসবাবপত্র এমনকি চাল, ডাল, তেল, নুন, শাকসবজি ভেসে যায়। সোমবার ব্লক প্রশাসন থেকে এমন পরিস্থিতি দেখে গেলেও এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের কাছে কোনও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। গত ২৪ ঘন্টা অনাহারে থাকা বিপন্ন মানুষ ক্ষোভে রাস্তার ওপরেই তাঁবু টাঙিয়ে অবরোধ করেন। এলাকার দাবি কালভার্ট বড় করা হোক এবং বিপন্ন সকলকেই ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হোক।
সোমবার সেবক এলাকায় ধস নামার পর রাস্তা কিছুটা পরিষ্কার করে দেওয়া হলেও ফের নতুন করে মঙ্গলবার ধস নামায় এই মুহূর্তে আর রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ সম্ভব হচ্ছে না টানা বৃষ্টির কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় সড়কের ওপর প্রায় ৫০মিটার রাস্তা সারাইয়ের কাজ থমকে গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের গোড়ায় বড় ধরনের ধস নামে ৫৫নং জাতীয় সড়কে পাগলাঝোরা এলাকায়। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা বড় বড় পাথরের চাঁই ধসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে ন্যারোগেজ ট্রেন চলাচল। ফলে পাহাড়ি পথে টয়ট্রেন চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার ফের মঙপুতে ৩১নং জাতীয় সড়কে ধস নামার ঘটনায় শিলিগুড়ি-সিকিম ও ডুয়ার্সের যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়লো। শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সের বেশিরভাগ যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি সেবক ও মঙপু হয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু ধসের কারণে ৩১নং জাতীয় সড়ক বন্ধ হওয়ায় এই মুহূর্তে গজলডোবা হয়ে যেতে হচ্ছে।
ধস নামার আগে যে সমস্ত যানবাহন শিলিগুড়ি থেকে চলে এসেছিল তারা ঘটনাস্থলেই সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাস্তা মেরামত না হওয়া পর্যন্ত পিছনোর উপায় নেই। অসুবিধার মধ্যেই রাস্তা সারানোর কাজ শুরু হয়েছে। এদিন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে সহকারী বাস্তুকার সুব্রত সরকার বলেন, আশা করা যায় বিকেলের মধ্যে রাস্তা খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। ধস এলাকায় রাস্তার ধার ঘেঁষে রেলের গাইড বাঁধ। তিস্তার জল ওখানে ধাক্কা খাওয়ার ফলে মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। রেল লাইনের মাটি আলগা হওয়ার কারণে সোমবার থেকেই শিলিগুড়ি-আলিপুরদুয়ার ট্রেন চলাচল বন্ধ। নিত্যযাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, এতদিনেও সেবকে বিকল্প সেতু তৈরি হলো না কেন? উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের সময় পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় ভূতল পরিবহণ মন্ত্রী টি আর বালুকে নিয়ে বিকল্প সেতুর জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু তারপর সরকার বদলের পর আজ পর্যন্ত কোনও তৎপরতা নেওয়া হয়নি। ডুয়ার্সে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগঠন বিকল্প সেতুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে ধূপগুড়ির মানুষ নাজেহাল। জলমগ্ন ধূপগুড়ি পৌরসভার একাধিক এলাকা। গ্রামীণ কৃষি এলাকাতেও রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নদীর জল ক্রমেই বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী বৃষ্টি থাকবে আরও দুথেকে তিনদিন। এমন জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন ধূপগুড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিল রায়ের শোওয়ার ঘরে ঢুকে পড়ে বিষাক্ত সাপ। গোটা ৪নং ওয়ার্ডেই এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুয়ার্স এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বানারহাট এলাকা থেকেও উদ্ধার হয়েছে একটি বিষাক্ত সাপ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement