দেশজুড়ে শুরু
হয়েছে বদলের লড়াই

অধিকার যাত্রার সূচনা সভায় হান্নান মোল্লা

দেশজুড়ে শুরু<br>হয়েছে বদলের লড়াই
+

জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার , ১১ই সেপ্টেম্বর— দিল্লিতে একটা সরকার চলছে যেটা অব দ্য কমিউনাল, বাই দ্য কমিউনাল, ফর দ্য কমিউনাল। আর রাজ্যে একটা সরকার চলছে, যেটা অব দ্য ক্রিমিনাল, ফর দ্য ক্রিমিনাল, বাই দ্য ক্রিমিনাল। দুটো সরকারই মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাই দুটো সরকারকেই ছুটি দেবার জন্য শুরু হয়েছে মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের লড়াই। মঙ্গলবার কোচবিহার রাজবাড়ি স্টেডিয়ামের মাঠে বি পি এম ও-র ডাকে অধিকার যাত্রার সূচনা করে একথা বলেন কৃষক আন্দোলনের সর্বভারতীয় নেতা হান্নান মোল্লা।
এদিন হান্নান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের দুটি সরকারই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর বহুমুখী আক্রমণ নামিয়ে নিয়ে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সারা দেশে কৃষক-শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছেই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে দেশের সরকার। এ সত্য আজ প্রমাণিত। মোদী সরকার ভূমি আইন সংশোধন করে কৃষকের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছিল। সারা দেশের ৬০০ জায়গায় সেই বিলের কপি পুড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোদী সরকার বিলকে আইনে পরিণত করার পদক্ষেপ নিও না। ফল ভালো হবে না। বাধ্য হয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছে দিল্লির সরকার। 
তিনি বলেন, সারা দেশে ২০১ টি সংগঠন তাদের লাল-সাদা-হলুদ নানা রঙের ঝান্ডা নিয়ে গড়ে তুলেছে সারা ভারত কৃষক সংগ্রাম সমিতি। তারা সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষকের ফসলের দাম দেড়গুণ দিতে হবে সরকারকে। কৃষকের বকেয়া ঋণ মকুব করতে হবে দিল্লির সরকারকে। আগামী ৩০শে নভেম্বর দেশের ৮দিক থেকে ৮টি লঙ মার্চ সংসদ অভিযান করে মোদী সরকারকে এই দুই দাবি মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করবে। প্রয়োজনে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে কৃষকদের এই দুই দাবি পাশ করাতে হবে। দেশের ২১টি বিরোধী দল কৃষকদের এই দুই দাবির পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছে, যদি সংসদে মোদী সরকার কৃষকের স্বার্থবিরোধী বিল পাশ করাতে চায় তবে তারা তার প্রতিবাদ করবে।
হান্নান মোল্লা বলেন, সারা দেশে জন একতা জন অধিকার মঞ্চ গড়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শ্রেণিগত মৈত্রী গড়ে তুলে বহুমুখী আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পোল খোল হল্লা বোল আন্দোলন এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। দেশের কৃষি আর কৃষক এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ৫২জন কৃষক আত্মহত্যা করছে। খুঁজে দেখা গেছে প্রতিটি আত্মহত্যার পিছনে রয়েছে দুটি কারণ। ফসলের দাম নেই আর মাথায় ঋণের বোঝা। মোদীজীর কাছে দেশের কৃষক সমাজের জিজ্ঞাসা ভোটের আগে আপনি ৪০০ নির্বাচনী সভা করে বলেছিলেন, কৃষকের ফসলের দেড়গুণ দাম দেবেন। আর ভোটে জিতেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়ে দিলেন, এটা দেওয়া সম্ভব না! আপনি গদিতে বসে বিকাশের নামে বিনাশ করছেন। তিনি বলেন, লড়াই ছাড়া অধিকার আদায়ের কোন পথ নেই। লড়াই করেই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। দেশজুড়ে সে লড়াই শুরু হয়েছে। আপনারাও এই অধিকার যাত্রা থেকে আওয়াজ তুলুন, হয় সরকার তুমি নীতি বদলাও, নয়তো মানুষ সরকার বদলাবে।
এদিন সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বি পি এম ও-র রাজ্য আহ্বায়ক শ্যামল চক্রবর্তী। এদিন তিনি সূচনা অনুষ্ঠান ছাড়াও আলিপুরদুয়ারসহ মোট তিনটি সভায় বলেন, রাজ্যজুড়ে এখন সংগ্রামের সময়, লড়াইয়ের সময়। এই অধিকার যাত্রাকে আমরা মানুষের চেতনার কাছে নিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তৃণমূলের শাসনে রাজ্যের মানুষ বড় অসহায়। শুধু ভোটে সন্ত্রাস নয়, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আগ্নেয়গিরির মতো মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। অধিকার যাত্রা করে ফেরাতে হবে মানুষের অধিকার।
চক্রবর্তী বলেন, দিল্লিতে মোদী সরকার লুটেরাদের পাহারাদারি করছে। দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে। আর রাজ্যে তোয়ালে মুড়ে টাকা খাচ্ছে মন্ত্রীরা। ওদের ভাইয়েরা কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে অনার্সের সিট বেচে টাকা কামাচ্ছে। রাজ্যের ৩৪১ টি ব্লক, ১২৬টি শহর, ৪০হাজার গ্রামের মধ্য দিয়ে অধিকার যাত্রা যাবে আগামী ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত। মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে দিতে লড়াই আরও তীব্র করা হবে।
অধিকার যাত্রা সূচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোচবিহার জেলার বি পি এম ও নেতা তারিণী রায়। বক্তব্য রাখেন অনন্ত রায়, নির্মল দাস, আব্দুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন দীপক সরকার, নগেন্দ্রনাথ রায় প্রমুখ। পদযাত্রী দলের নেতা মহানন্দ সাহার হাতে পতাকা তুলে দেন হান্নান মোল্লা ও শ্যামল চক্রবর্তী। পদযাত্রীরা সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ারে গিয়ে পৌঁছালে চা বাগানের মহিলারা আদিবাসী নৃত্যের মধ্য দিয়ে পদযাত্রীদের বরণ করেন। 
বীরপাড়া মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় অধিকার যাত্রার পতাকা আলিপুরদুয়ারের বি পি এম ও নেতা বিদ্যুৎ গুণের হাতে তুলে দেন মহানন্দ সাহা। আলিপুরদুয়ার চৌপথীতে এক সভায় বক্তব্য রাখেন শ্যামল চক্রবর্তী ও তাপস দাস চৌধুরি। এরপর পদযাত্রা এগিয়ে যায় ভাটিবাড়ির দিকে। বুধবার এখান থেকেই ফের শুরু হবে অধিকার যাত্রা।

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement