অধিনায়ক ধোনির প্রত্যাবর্তন
ম্যাচ অমীমাংসিতই

অধিনায়ক ধোনির প্রত্যাবর্তন<br>ম্যাচ অমীমাংসিতই
+

সন্দীপন ব্যানার্জি : দুবাই , ২৫শে সেপ্টেম্বর —অবিশ্বাস্য কোনও ঘটনার মতো ব্যাপার। গ্যালারি যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রেস বক্সেও একই পরিস্থতি। দুবাইয়ের বাইশগজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন দুই অধিনায়ক। আফগানিস্তানের তরফে আসগর। কিন্তু ভারতের রোহিত শর্মা নন। সহঅধিনায়ক শিখর ধাওয়ানও নয়! সাত নম্বর জার্সি, নস্টালজিয়া, মহেন্দ্র সিং ধোনি।
এশিয়া কাপের ফাইনাল আগেই নিশ্চিত। নিয়মরক্ষার ম্যাচে দলে পাঁচটি পরিবর্তন করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং ধাওয়ানও বিশ্রামে। নেতা হিসেবে ধোনির চেয়ে সেরা বিকল্প হতে পারে না। ধোনির মতো অভিজ্ঞ একজন হঠাৎ এক ম্যাচে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন, সেটাও বিরাট ব্যাপার। প্রায় দুবছর আগে নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া কাউকে এভাবে দায়িত্বে দিলে হয়ত নিতেই চাইত না। দলের প্রয়োজনে ধোনি দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রশংসনীয়।
আফগানিস্তান-ভারত ম্যাচের চেয়েও আলোচনার কেন্দ্রে অধিনায়ক ধোনি। ভারতকে কেরিয়ারের ২০০তম একদিনের ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেন ধোনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন। সবমিলিয়ে প্রায় দুবছর পর নেতা ধোনিকে পেল বিশ্ব ক্রিকেট। এদিন টসে হেরে ফিল্ডিং করতে হয়। ধোনিও জানালেন, টস জিতলে ফিল্ডিংই নিতেন। নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না কত ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছি। জেনেছি, এর আগে ১৯৯ ম্যাচ ছিল। ২০০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলাম। ভালো লাগছে। তবে এগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কত ম্যাচে নেতৃত্ব দিলাম, সেটা নিয়ে মাতামাতি করার কিছু নেই।’
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৫২ রান করে আফগানিস্তান। ভারতীয় বোলিং লাইন আপে বড় পরিবর্তন। জসপ্রীত বুমরা, ভুবনেশ্বরের সঙ্গে বিশ্রামে চাহাল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হল দীপক চাহারের। দীপকের শুরুটা ভালো হল না। প্রথমে দু ওভারের স্পেলে দিলেন ২৪ রান। সবমিলিয়ে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ১ উইকেট। তুলনামূলকভাবে সফল কেরিয়ারের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ হাতি পেসার খলিল আহমেদ। ১০ ওভারে ১টি মেডেনসহ ৪৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেন খলিল। বোলিংয়ে ভারতের সবচেয়ে সফল রবীন্দ্র জাদেজা। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ভারতীয় শিবিরকে সবচেয়ে বেশি চাপে রাখলেন আফগান ওপেনার মহম্মদ শেহজাদ। 
অসাধারণ ইনিংস। কোনও বোলারকেই সেট হতে দেননি শেহজাদ। একদিক থেকে উইকেট পড়লেও রানের গতি কমতে দেননি। লড়াকু মানসিকতা ধরে রেখেছেন। জাদেজা, কুলদীপের স্পেল কিছুটা সমস্যা পড়েছিলেন। শেহজাদ কিছু ছয় মেরেছেন, যা গ্যালারির অনেক উপরে আছড়ে পড়েছে। তাঁর ইনিংস থামে ১১৬ বলে ১২৪ রানে। ১১টি চার এবং ৭টি ছয় মেরেছেন শেহজাদ। লোয়ার অর্ডারে মহম্মদ নবি ৫৬ বলে ৬৪ রান করেন।
রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটাও দারুণ হয়েছে। আই পি এল-এ ওপেনিং করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রায়াডুর। রাহুলের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়লেন। রশিদ খান অনেকক্ষণ মাঠে ছিল না। সেটা সমস্যায় ফেলেছে আফগানিস্তানকে। ওপেনিং জুটি ভাঙতেই বেশ কিছুটা সমস্যায় ভারত। ১২৭/২ থেকে ১৬৬/৪। সবচেয়ে বেশি হতাশা ব্যাটসম্যান ধোনিকে নিয়ে। চার নম্বরে নেমেছিলেন। সময় ছিল প্রচুর। ১৭ বলে ৮ রানে শেষ ধোনির ইনিংস। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের স্কোর ৩৮ ওভারে ২০২/৪।
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement