দেশ বিদেশ তোলপাড়, তবু
রাফালে নিয়ে মোদী নীরবই!

দেশ বিদেশ তোলপাড়, তবু<br>রাফালে নিয়ে মোদী নীরবই!
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি : ভোপাল ও নয়াদিল্লি, ২৫শে সেপ্টেম্বর — অনেক কথা বললেন, কিন্তু আসলে কিছুই বললেন না! রাফালে যুদ্ধজেট কেনা নিয়ে বড়মাত্রার দুর্নীতির অভিযোগ দেশ বিদেশে তোলপাড় ফেললেও, মঙ্গলবারও পুরোপুরি চুপ থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! নির্বাচনমুখী মধ্য প্রদেশের ভোপালে এদিন এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুললেন, নিজের প্রশস্তি গাইতে অসংখ্য বাক্য খরচ করলেন, কিন্তু রা কাড়লেন না এই মুহূর্তের সবচাইতে তপ্ত প্রসঙ্গ রাফালে নিয়ে। অথচ এই রাফালে নিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী কোন জবাব দেন কিনা, তা দেখতেই কার্যত মুখিয়ে ছিলেন সাংবাদিকরা।

গত কয়েক মাসে প্রায় প্রতিদিনই রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ দিয়ে রাফালে চুক্তিতে বড়সড় কেলেঙ্কারির জোরালো অভিযোগ তুলে চলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগের সারবত্তা প্রমাণিত হয়েছে ফ্রান্সের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ওলন্দের সাম্প্রতিক বিবৃতিতেও। ইউ পি এ আমলের চুক্তি বাতিল করে তুলনায় অত্যধিক বেশি দাম দিয়ে কম যুদ্ধবিমান কেনা এবং সর্বোপরি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড (হ্যাল)-কে হটিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকার অফসেট বরাত নিজের ‘বন্ধু শিল্পপতি’ অনিল আম্বানির অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির ঘটনায় সরাসরি আঙুল উঠেছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে। প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মুখ খুলতে’ বলে চলেছেন বিরোধী নেতারা।
কিন্তু না! মঙ্গলবারও ভোপালের জনসভায় রাফালে নিয়ে বিরোধীদের একটি প্রশ্নেরও জবাব দিলেন না মোদী! আসল জবাব এড়িয়ে তিনি শুধু পালটা অভিযোগ তুললেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কাদা ছুঁড়ে চলেছে। উন্নয়নের মতো ইস্যু নিয়ে বিতর্কের চাইতে কাদা ছোঁড়ার কাজকেই সহজ বলে মনে করছে কংগ্রেস। কিন্তু আমি ওদের বলি, তোমরা আমাদের দিকে যত কাদা ছুঁড়বে, ততই পদ্ম (বি জে পি-র প্রতীক) ফুটবে।’ ব্যস! এটুকুও বলেই এদিন প্রসঙ্গান্তরে চলে যান মোদী! অভিযোগ তোলেন, ‘দেশের ভেতরে কার্যকরী জোট গড়তে ব্যর্থ হয়ে কংগ্রেস এখন বিদেশের সমর্থনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।’ সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টুইটারে ‘জেট-গেট (রাফালে চুক্তি) নিয়ে লড়ে গেলে রাহুল গান্ধী ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, মোদী সম্ভবত সেদিকেই ইঙ্গিত করে এদিন এই অভিযোগ তোলেন। তিনি কটাক্ষ করেন, ‘এই ঔদ্ধত্যের কারণেই লোকসভায় কংগ্রেসের আসন ৪৪০থেকে ৪৪হয়ে গেছে। তবু ওরা আত্মসমীক্ষায় রাজি নয়!’
এদিন নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকরা সি পি আই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির কাছেও ‘রাফালে নিয়ে রাজনীতি’-র প্রসঙ্গ তোলেন। তৎক্ষণাৎ ইয়েচুরি বলেন, রাফালেতে কোনও রাজনীতি নেই। রাফালে সুস্পষ্ট একটি কেলেঙ্কারি। ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলন্দে এসম্পর্কে একটি অভিযোগ তুললেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোনও জবাব দিলেন না। অন্য মন্ত্রীরা শুধু বললেন, ওলন্দে ঠিক বলেননি। কিন্তু ওঁরা যা বলছেন, ওলন্দে তার উলটো বলছেন। যদি সত্যিই লুকোনোর কিছু না থাকে, তাহলে সংসদীয় তদন্তে রাজি হচ্ছে না কেন সরকার? সংসদের সদস্যরা তো এমন অবিবেচক নন যে, প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য তাঁরা বাইরে নিয়ে আসবেন। আসলে রাফালের চুক্তির দুর্নীতির দিকটাই জানা দরকার। কিভাবে চুক্তি হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে সরিয়ে দিয়ে কিভাবে একটি বেসরকারি কোম্পানির হাতে চুক্তির বরাত গেল, চুক্তির কথা ঘোষণার মাত্র বারোদিন আগে কিভাবে একজন সেই কোম্পানি খুলে ফেলল— সব বোঝা দরকার। এসব তথ্য তো প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য নয়! দায়বদ্ধতার স্বার্থে তো এসব প্রশ্নের জবাবদিহি করতে হবে।  

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement