তুষার, বর্ষণে
হিমাচলে আটকে বহু

খোঁজ নেই কলকাতার ৯গবেষকের

তুষার, বর্ষণে<br>হিমাচলে আটকে বহু
+

সিমলা ও শ্রীনগর, ২৫শে সেপ্টেম্বর— বর্ষণ, তুষারপাতে বিপর্যস্ত হিমাচলে খোঁজ মিলছে না কলকাতার ৯জন গবেষকের। আটকে আছেন বহু পর্যটকও। বিভিন্ন এলাকায় ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কপথও। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে অন্তত ৫০০জনেরও বেশি পর্যটক এবং ট্রেকার আটকে রয়েছেন। দুশোরও বেশি পর্যটক আটকে খোকসারে। বারালাচা পাসে আটকে আরো শ’তিনেক। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে কলকাতার পাঁচজন আছেন। ৬দিন নিখোঁজ থাকার পর এদিন খোঁজ মিলেছে আরও ৪৫পড়ুয়ার একটি দলের। কিন্তু খোঁজ মিলছে না কলকাতা থেকে যাওয়া ৯জন গবেষকের। হিমাচল সরকার জানিয়েছে, এঁদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন এবং বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন একযোগে কাজ করছে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে দু-পাড় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে বিয়াস নদী। তারই সঙ্গে রাজ্যের কিছু অংশে শুরু হয়েছে তুষারপাত। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিল রুরকির আই আই টির ৩৫জন পড়ুয়াসহ আরও ১০জন। এরা লাহুল-স্পিতির হামতা পাসে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিল। ১৯শে সেপ্টেম্বরের পর তাদের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদিন উদ্ধার হওয়ার পর তারা জানিয়েছে, ফেরার সময় চন্দ্রতালের কাছে শুরু হয় তুষারপাত। এদিন এই দলটিকে সিশু গ্রামের কাছে উদ্ধার করা হয়। এই পড়ুয়াদের সিশুর সেনা বেস ক্যাম্পে এনে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের মানালি নিয়ে আসা হয়েছে। তারা নিরাপদেই আছে বলে লাহুল-স্পিতি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, এদিন কলকাতার পাঁচজন পর্যটকও উদ্ধার হয়েছে। দুজন জার্মান পর্যটককেও উদ্ধার করা হয়েছে। কলকাতার পাঁচজনকে লাহুলের কাছ থেকে উদ্ধার করে বায়ুসেনার চপারে কুলুর ভুন্টার বিমানবন্দরে উড়িয়ে আনা হয়েছে। এরা সকলেই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 
সোমবার পর্যন্ত লাগাতার তুষারপাতের জেরে হিমাচলের রোটাং পাসসহ বেশ কিছু সড়কপথ বন্ধ হয়ে যায়। লাহুল-স্পিতিতে আটকে রয়েছে কমপক্ষে ৩০০জন। কিন্তু কলকাতার ৯জন গবেষকের কোনও খোঁজ দিতে পারেনি লাহুল-স্পিতি প্রশাসন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত খবর তাঁরা ৫হাজার ৪৮০মিটার উঁচু গ্যাংস্ট্যাং হিমবাহের কাছে আটকে আছেন।
আটকে পড়া ৩০০জনকে উদ্ধারের কাজ এদিন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। মানালি-লে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কিলিং সরাই উপত্যকায় আটকে থাকা ২০০জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কেলংয়ে নিকটবর্তী ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে তাঁদের। বাকিদের উদ্ধারের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার পাঠানোর আরজি জানানো হয়েছে। তাঁদের কাছে পাঠানো হচ্ছে খাবার ও পানীয় জল। আবহাওয়া খারাপ থাকায় উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আধিকারিকরা। তবে এদিন আবহাওয়াদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে। ভরতপুরে বিদেশি পর্যটকসহ আটকে রয়েছেন ৭০জন। উদ্ধারকারীদের আরেকটি বাহিনী ভরতপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আই আই টি ছাত্রদের কোনও খোঁজ মিলছিল না। পাহাড়ি এক গ্রামে তারা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চাম্বাতে ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দেড়শো সড়কপথ। 
সোমবার পর্যন্ত চার ফুট তুষারপাত হয়েছে লাহুল এবং স্পিতিতে। রাস্তার উপর পুরু বরফের আস্তরণ। ‘বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন’ (বি আর ও) এই সড়কপথ থেকে বরফ সরিয়ে ফেলেছে। বাকি সড়কপথও পরিষ্কারের কাজ চলছে বলে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে। আই আই টি ছাত্ররা ছাড়াও আটকে পড়েছেন একাধিক ট্রাক চালক, ‘জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্স’-এর জওয়ানরাও। স্থানীয় মানুষদেরও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কোকসার এলাকায় আটকে পড়া পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষদের উদ্ধারের শুরু করবে প্রশাসন। কুলু জেলায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ধস নামার কারণে মান্ডি শহরের পর থেকে মানালি-চণ্ডীগড় রাস্তা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। একই অবস্থা পাঠানকোট-চাম্বা হাইওয়েতেও।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া খারাপ জম্মু-কাশ্মীরেও। ভারী বৃষ্টি, তুষারপাতের জেরে নামছে ধস। সোমবার ডোডার গান্ডোহতে মৃত্যু হয়েছে দুই মহিলাসহ পাঁচজনের। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। বাড়ি ভেঙে পড়েই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। ডোডা-থাথরি সড়কপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাঞ্জাব সীমান্ত সংলগ্ন কাঠুয়া গ্রামে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে হড়পা বান শুরু হয়েছে। নিম্নবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিরাপদ দূরত্বে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement