কুশপুতুলই ‘খুনের চেষ্টা’,

জামিন অযোগ্য ধারায় শিলিগুড়িতে মামলা

কুশপুতুলই ‘খুনের চেষ্টা’,
+

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শিলিগুড়ি, ২৫ সেপ্টেম্বর — মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কুশপুতুল পোড়ানোর চেষ্টাকে ‘খুনের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করল পুলিশ। আর সেই ‘অভিযোগে’ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, সি পি আই (এম)-র দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকারসহ ৯জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। মিথ্যা অভিযোগ, বামপন্থীদের দমনের এই সরকারি চেষ্টার মুখে দমে যাওয়ার বদলে মঙ্গলবারই গণকনভেনশনে পরবর্তী আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছে পার্টির পক্ষ থেকে — হবে ১৬টি পথসভা। আগামী ৫ই অক্টোবর মহামিছিল হবে শিলিগুড়িতে।
একের পর এক আন্দোলনের পথে উত্তরপূর্বের এই গেটওয়ে হয়ে উঠেছে সংগ্রামের মহাফটক।
সাজানো মামলা, মিথ্যা অভিযোগ এবং মমতা ব্যানার্জির কুশপুতুল পোড়ানো আটকাতে পুলিশের এই তৎপরতার বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তি মাত্রা পেয়েছে পার্শ্ববর্তী ইসলামপুরের ঘটনায়। শিলিগুড়ি থেকে ৮০ কিমি দূরের দাড়িভিট স্কুলের সামনে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আর সেই পুলিশ মমতা ব্যানার্জির কুশপুতুল রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শিলিগুড়িতে। 
সোমবার শিলিগুড়িতে পুলিশ ওই কাণ্ড করে। পরে সি পি আই(এম) জেলা কমিটির কার্যালয় ঘিরে ফেলে তারা। দুই পার্টিনেতা পার্থ মৈত্র এবং সুব্রত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে রাস্তা থেকে। সেদিনই পুলিশের এই আচরণে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নাগরিকদের মধ্যে। প্রবল জনমতের আঁচ পেয়ে সোমবার রাতে পুলিশ ছাড়তে বাধ্য হয় থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া দুই পার্টিনেতাকে। গভীর রাতে পুলিশ দুজনকে ছেড়ে দিলেও সি পি আই (এম) দার্জিলিঙ জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মিথ্যা মামলা রুজু করে পুলিশ। 
পার্টির জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সোমবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি থানার সামনে জমায়েত করেন কয়েকশো পার্টিকর্মী। মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো কাণ্ডে দুই পার্টিনেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অপরাধ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পরে ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের ছেড়ে দেয় শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশ। কিন্তু জামিন অযোগ্য মিথ্যা মামলা রুজু হয় অশোক ভট্টাচার্য, পার্টির জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার, পার্টিনেতা জয় চক্রবর্তী, সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে। মামলা রুজু করা হয় ছাত্রনেতা সাগর শর্মা, অভিজিৎ চন্দ, যুবনেতা প্রসূন মজুমদারসহ আরও একশ জনের নামে। সকলের বিরুদ্ধেই রুজু করা হয়েছে ৩০৭ অর্থাৎ খুনের চেষ্টা, ৩৫৩ অর্থাৎ সরকারি কাজে বাধা, ৫০৬ ভয়ভীতি দেখানো এবং ১২০ বি ষড়যন্ত্রের মামলা। এরমধ্যে ৩০৭, ৩৫৩ এই দুটো জামিন অযোগ্য ধারা। 
পুলিশি অত্যাচার যতো বাড়ছে ততই তীব্র হচ্ছে পার্টিকর্মী থেকে সাধারণ মানুষের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মনোবল। স্বৈরাচারী রাজ্য সরকার ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মিত্র সম্মিলনী হলে সি পি আই (এম) এর ডাকে হয় গণকনভেনশন। সভা থেকে শিলিগুড়ি শহর জুড়ে ১৬টি পথসভা, ৫ অক্টোবর মহামিছিলসহ একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দেন সি পি আই (এম) নেতৃত্ব। সভার সভাপতি জীবেশ সরকার বলেন, সারা রাজ্য তথা দেশে একটা সাম্প্রদায়িকতার প্রতিযোগিতা চলছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এখন একটাই স্লোগান বাই দ্য কমিউনাল, ফর দ্য কমিউনাল, উইথ দ্য কমিউনাল। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন গুন্ডা দিয়ে বামপন্থীদের আন্দোলনকে আটকাতে পারছে না, তখন পুলিশকে ব্যবহার করছে। জার্মানিতে বসে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পিয়ানো বাজান আর রাজ্যে ছাত্ররা পুলিশের গুলি খাচ্ছে। 
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূলনেত্রীর বারবার দার্জিলিঙ জেলা নেতৃত্ব বদল করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। প্রতিবারই প্রতিটি নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই জেলায় হারের হতাশা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস উন্মাদের মতো আচরণ করছে। কখনো শিলিগুড়ি পৌর নিগমের ভেতরে তৃণমূল কাউন্সিলররা অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে, কখনো জেলাশাসকসহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকদের ব্যবহার করে বাধা সৃষ্টি করছে শিলিগুড়ির বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল বা পৌর নিগমের উন্নয়নের কাজে। এই ধরনের আক্রমণ যতই বাড়বে, আন্দোলন ততই তীব্র আকার ধারণ করবে। 

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement