ছাত্র খুনের বিচার চেয়ে
জোর বিক্ষোভ কলকাতায়

ছাত্র খুনের বিচার চেয়ে<br>জোর বিক্ষোভ কলকাতায়
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২৫শে সেপ্টেম্বর— ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঘৃণা ছিল মজুত। কিন্তু প্রতিবাদের এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের কর্মসূচিতে ছাত্র নেতৃত্বের তরফে প্ররোচনায় পা না দেওয়ার সতর্কতাও ছিল। পুলিশের গুলিতে ছাত্র খুনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েই এদিন রাজভবন অভিযানে শামিল পাঁচটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের হুঁশিয়ারি এল রাজ্যের মানুষ এবার মুখ্যমন্ত্রীর বিসর্জনের বাজনা বাজাবেন। ধর্মতলার মোড়ে রাজপথের ওপর প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা গোটা গোটা অক্ষরে লিখলেন, ‘রাজেশ, তাপস আমার ভাই/ ওঁদের খুনের শাস্তি চাই’।

মঙ্গলবার দুপুর থেকেই মেঘ-বৃষ্টির আকাশ মাথায় নিয়ে মৌলালির মোড়ে ছাত্র খুনের প্রতিবাদে রাজভবন অভিযানে শামিল হতে পাঁচটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সংগঠকরা জড়ো হচ্ছিলেন। জটলা ঘন হয়ে মাঝেমধ্যেই স্লোগান, এরপর প্রচার গাড়িতে বাঁধা মাইকে সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দেওয়া। এখানেই ছাত্র জমায়েত হওয়ার মাঝে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব এবং ওঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে শামিল হওয়া শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বও এদিন বক্তব্য রাখলেন। তাঁরাও এদিন ছাত্রদের সঙ্গেই পায়ে পা মিলিয়ে মিছিলে হেঁটেছেন। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির রাজ্যনেতা মৃন্ময় রায় এদিন মৌলালির ছাত্র সমাবেশে বলেছেন শিক্ষকপদ পূরণের দাবিতে পথে নেমে যাঁরা পুলিশের গুলিতে শহীদ হলো তাঁদের আন্দোলনে সাড়া দিয়ে আমরা একসঙ্গে রাজপথে পা মেলাবো। শিক্ষক আন্দোলনের নেতৃত্বও এদিন বললেন, যারা অপরাধী তাদের আড়াল করার চেষ্টায় নেমেছে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ছাত্রদের এই রাজভবন অভিযানে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বার্তা পাঠান সাহিত্যিক পবিত্র সরকার, কবি মন্দাক্রান্তা সেন, অভিনেতা বাদশা মৈত্র প্রমুখ বিশিষ্টজনেরা।
সওয়া তিনটেরও কিছু পরে এদিন রাজভবন অভিযানের উদ্দেশ্যে পথচলা শুরু হল মৌলালির মোড় থেকে। ইসলামপুরে সরকারি মদতে পুলিশের গুলিতে ছাত্র খুনের প্রতিবাদে রাজভবন অভিযানে শামিল —এস এফ আই, এ আই এস এফ, এ আই এস বি, পি এস ইউ এবং এ আই এস এ—এই ৫টি সংগঠনের ছাত্রছাত্রীরা। এস এন ব্যানার্জি রোড ধরে এগিয়ে চলা ছাত্র মিছিলকে ঘিরে গোড়া থেকেই যেন বাড়তি তোড়জোড় সরকারের পুলিশবাহিনীর। একটা রাজভবন অভিযানের হাঁক দিয়ে যেন পথে নামা ছাত্ররা নবান্ন দখল করতে চলেছে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেই এগিয়ে চলা মিছিলের মুখ যেখানে থামানো হল ধর্মতলার মোড়ে, সেখানে ইস্পাতের ব্যারিকেড তৈরি করে কয়েকশো পুলিশ হাতে লাঠি নিয়ে বর্ম পড়ে তৈরি। কিন্তু চোখ রাঙানোকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না প্রতিবাদী ছাত্ররা। মঙ্গলবার বিকাল চারটে নাগাদ ব্যারিকেড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে এমন সংঘাতের গোড়াতেই হাতের ঝান্ডা নিয়ে ছোটে ছাত্ররা। মাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং পুলিশের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার সতর্কতামূলক আবেদন রেখে এস এফ আই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য ছাত্র কর্মী-সংগঠকদের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পথেই আন্দোলনে সাড়া দেওয়ার কথা বললেন।
এরপর এস এন ব্যানার্জি রোডের মুখে ইস্পাতের ব্যারিকেডের দিকে ঘৃণা ছুঁড়ে দিয়েই ছাত্র সমাবেশে নেতৃত্ব বক্তব্য রাখলেন এবং ৪জনের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যপালের কাছে দাবিসনদ পেশ করতে গেলেন। সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশ্বজিৎ মাইতি, নওফল মহম্মদ সফিকুল্লাহ এবং শুভম ব্যানার্জি। সভা পরিচালনা করেন এস এফ আই রাজ্য সভাপতি প্রতিকূর রহমান। প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই বক্তব্য রাখেন পি এস ইউ-র প্রসেনজিৎ দাস, এ আই এস বি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৌম্যদীপ সরকার, এ আই এস এফ-র শুভম ব্যানার্জি, তরুশ্রী মণ্ডল, অর্জুন রায়, রাণা রায়, নওফল মহম্মদ সফিকুল্লাহ প্রমুখ। এদিন ছাত্র বিক্ষোভের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা দেবজ্যোতি দাস।
এস এফ আই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এদিন ক্ষোভের সঙ্গেই ছাত্র সমাবেশে বললেন, রাজ্যে পুলিশ প্রশাসন বলতে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। রাজ্যে ছাত্র যখন পুলিশের গুলিতে শহীদ হচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী নিরোর মতো বাজনা বাজাচ্ছেন। কিন্তু এবার রাজ্যের মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর বিসর্জনের বাজনা বাজাবেন। এদিন এস এফ আই রাজ্য সভাপতি প্রতিকূর রহমান বললেন, এই সরকার ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তকে পিটিয়ে মেরেছিল। গত ৭বছরে রাজ্যে নানা আক্রমণ চলেছে শাসকদলের দুষ্কৃতীবাহিনীর এবং স্বৈরাচারী পুলিশ প্রশাসনের। কিন্তু আমরাও জানি ছাত্রদের অধিকার কিভাবে রক্ষা করতে হয়। এমন অরাজক সরকারের বিরোধিতায় রাস্তাতেই থাকবে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা।
এদিন রাজভবনে অভিযানে সোচ্চার বামপন্থী ছাত্র সমাবেশ আরও একবার দাবি তুলল ইসলামপুরে ছাত্র খুনের ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের। এদিন রাজ্যপালের কাছে পেশ করা দাবিসনদে পাঁচটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন জানিয়েছে এমন ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের চরম অপদার্থতা। দাবি তুলেছে ছাত্র সমাবেশ অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। শুধু তাই নয়, এই অপরাধ আড়াল করার চেষ্টায় নামা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে প্রতিবাদী ছাত্ররা। ছাত্র নেতৃত্ব এদিন বলেন, ইসলামপুরের এমন ঘটনা নিয়েই সাম্প্রদায়িক শক্তি বি জে পি-র ছাত্র সংগঠন ধর্ম নিয়ে মানুষকে ভাগাভাগির ষড়যন্ত্রে নেমেছে। প্ররোচনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে শাসকবিরোধী ক্ষোভকে পরোক্ষভাবে প্রশমিত করার লক্ষ্য নিয়েই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement