খাড়িসেতু ফাটলে দুর্বল,
নতুনের দাবি বালুরঘাটে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

বালুরঘাট, ১২ই সেপ্টেম্বর— আত্রেয়ী খাড়ি। বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ড নাকের ডগায়। মঙ্গলপুরে। এখানেই খাড়ির উপর রয়েছে সেতু। শহরের প্রায় সব গাড়ির চাপ সহ্য করতে হয় এই খাড়ি-সেতুকেই। সেতুর বয়স নিতান্তই কম হয়নি। ১৯৫৪ সালে এর নির্মাণকাজ হয়। তারপর থেকেই একনাগাড়ে সচল রয়েছে।

জেলা সদর থেকে বেরিয়ে রায়গঞ্জ, মালদহ, শিলিগুড়ি বা কলকাতা, যেদিকেই যাওয়া হোক না কেন এই সেতুর উপর দিয়ে যেতেই হবে। স্থানীয় মানুষ জানিয়েছে, প্রতিদিন কম করে ৩০০ থেকে ৪০০ গাড়ির চাপ সইতে হয় এই প্রবীণ সেতুকে। সংস্কার কাজ নিয়ম মেনে হয় না বলেই অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে বেহালা ও শিলিগুড়ির সেতু ভাঙার পর হইচই শুরু হয়েছে। বালুরঘাটের এই সেতুটিও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে জেলা সদরের মানুষকে।

তাদের দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সেতুর রেলিং-এ দুদিকে পাকুড়গাছ মাথা তুলে দিব্যি বেড়ে চলেছে। সেতু যারা দেখভাল করেন, তাদের হুঁশ নেই। দেখেও নাকি দেখেন না। অথচ রঙ হয়। কিন্তু ফাটল মেরামত হয় না। ভেঙে যাওয়া অংশ সংস্কার হয়নি। এই বর্ষায় সেই ফাটল বেড়েই চলেছে। বট-পাকুড়ের শিকড়ও প্রতিদিন ফাটিয়ে চলেছে সেতুর দেওয়াল। দুর্বল হচ্ছে সেতুর বিভিন্ন অংশ। আর এতেই শঙ্কা বাড়ছে শহরের মানুষের। ফাটলগুলি বেশ চোখে পড়ছে।

জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক বাণিজ্য চলে। প্রতিদিন এই সীমান্তে পৌঁছতে গেলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে বালুরঘাট শহর হয়ে যেতে হয়। এবং এই আত্রেয়ী খাড়ি সেতুই একমাত্র ভরসাস্থল। ফলে চাপ বাড়ছে। পণ্যবাহী গাড়িও বাড়ছে। ১লক্ষ ২৫ হাজার মানুষের বসবাস সদর শহরে। জেলায় এই সংখ্যা কমবেশি ১৬ লক্ষ। সিংহভাগ মানুষের ভরসা এই সেতু। অভিযোগ সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন ক্ষয় হয়ে চলেছে সেতুর শরীর। সংস্কার জরুরি।

আত্রেয়ী খাড়ির উপর আরও একটি সেতু রয়েছে। সেটি বালুরঘাট শহরের অপরপ্রান্তে। নাম ‘আন্দোলন সেতু’। আগে থেকেই এই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যানবাহন বা পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত তা জানেন না বাসিন্দারা, গাড়ি চালকেরা কেউই। এই সেতুর উপর দিয়ে কাছারি রোড চলে গেছে। রয়েছে জেলাশাসকের দপ্তর। কিন্তু কোনও বড় যানবাহন চলাচল করে না। করতে দেওয়া হয় না। জেলাশাসকের দপ্তরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আত্রেয়ী নদী। তার উপর রয়েছে ‘শরৎ সেতু’। এই সেতু দিয়ে বড় গাড়ি চলাচল করতে পারে না। যদি পারত তাহলে খাড়ি সেতুর উপর চাপ কমত। এখন প্রয়োজন সেতুগুলিকে রক্ষা করা। এবং জেলা সদরকে সচল রাখতে নতুন সেতু নির্মাণের ভাবনা চিন্তা করা। প্রশাসন বা জেলা পূর্তদপ্তরকে এখুনি গুরুত্ব অনুধাবন করে কাজে হাত দেওয়া প্রয়োজন। কারণ নতুন সেতুর দাবি কিন্তু তুলেছেন শহরের মানুষ। এবার ভাবুক সরকার। সরকার এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement