সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে তীব্র
প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

হরিনাভি, ১২ই সেপ্টেম্বর— মানুষের দাবি নিয়ে আরও জোরদার লড়াই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের সিন্ডিকেটরাজ, জুলুম, তোলাবাজি, অত্যাচার, আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। নাগরিকদের স্বার্থে উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পৌরসভা পরিচালনা করার দাবিতে লালঝান্ডার এ লড়াইয়ে সবাই শামিল হোন। বুধবার সোনারপুরের হরিনাভিতে এক সভায় এই আহ্বান জানালেন সি পি আই (এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক শমীক লাহিড়ী।

রাজপুর-সোনারপুর পৌর এলাকার নাগরিকদের সমস্যার সমাধান ও পৌর এলাকার উন্নয়নের দাবিতে বামফ্রন্টের আহ্বানে পৌরসভার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণডেপুটেশন কর্মসূচি হয়। বুধবার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হরিনাভি মোড়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন শমীক লাহিড়ী।

তিনি বলেন, রাজপুর-সোনারপুরে দ্রুত জনবসতি বাড়ছে। তৃণমূলের কাউন্সিলররা লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধীশূন্য পৌরসভা, পঞ্চায়েত গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলায় কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই শাসকদলের। টাকা দিয়ে ভোটের টিকিট কিনছে, ভোট লুট করছে। টাকা দিয়ে ভোটের টিকিট নিয়ে ব্যবসা করতে নেমেছে তৃণমূলের কাউন্সিলররা। প্রোমোটারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেআইনি পুকুর, জলাশয় ভরাটের অনুমতি দিচ্ছে। বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দিচ্ছে। সর্বত্র একই অবস্থা চলছে। জিজিয়া করের মতো কাউন্সিলর ট্যাক্স চালু হয়েছে। কাউন্সিলররা আদায় করছে। তিনি বলেন, এরাজ্যে চুরি করলে এখন শাস্তি হয় না। মন্ত্রী, মেয়র ঘুষ খাচ্ছে দেখলেন। কিছু হলো? সারদা, নারদ কেসে কয়েক দিন জেরা হলো। ওদিকে রাজ্যসভায় বিল পাস করায় এসব আবার ধামাচাপা পড়ল। পৌরসভার দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজির বিরুদ্ধে মানুষ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে আতঙ্কর পরিবেশ তৈরি করছে। এসবের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে বিক্ষোভ, প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে। পুলিশ দিয়ে আক্রমণ, মিথ্যা মামলা করছে মানুষের ওপর।

তিনি বর্ষায় বাড়িতে জল জমার ঘটনায় চৌহাটি এলাকার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ আন্দোলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ঘরে জল ঢুকছে মানুষ কি প্রতিবাদ করবে না। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন। পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর, পৌরপ্রধান কেউ গেলেন না। পুলিশ দিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হলো। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সভায় তিনি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সি পি আই (এম) নেতা কমল গাঙ্গুলি, স্বপন ধর, তপন ভট্টাচার্য, সি পি আই নেতা তড়িৎ চক্রবর্তী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন হরপ্রসাদ সমাদ্দার। সভা থেকে কমল গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ৮জনের এক প্রতিনিধি দল দশ দফা দাবিতে নাগরিকদের স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি পৌরপ্রধানের কাছে পেশ করে আলোচনা করেন।

ডেপুটেশন দিয়ে ফিরে গিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার প্রাক্তন প্রধান কমল গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পৌরসভায় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, দলতন্ত্র, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ চলছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। ৩৫টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। পৌরসভায় কোনও মাস্টারপ্ল্যান নেই। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি বলেন, নিকাশি সমস্যার সমাধানে বামপন্থী পৌরবোর্ড মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে দিল্লিতে জে এন এন ইউ আর এম-র অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিল। নরেন্দ্রপুর রেল কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় পাম্পিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। তৃণমূলের পৌরবোর্ড এবিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। একটাও খাল কাটেনি। পুরানো খাল সংস্কার করেনি। তিনি বলেন, দশ দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশনে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা দাবিগুলি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শারদোৎসবের পরে আরও বেশি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধকরে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নাগরিকদের দাবি নিয়ে বামফ্রন্টের আহ্বানে এই ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চৌহাটি থেকে হরিনাভি মোড় পর্যন্ত একটি মিছিলে বহু সাধারণ মানুষ যোগ দেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement