নারদকাণ্ড মাটির তলায়,
এথিকস কমিটির শীর্ষে আদবানিই

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১২ই সেপ্টেম্বর- সুসংবাদ মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূলের সাংসদদের জন্য!

বি জে পি-র বর্ষীয়ান সাংসদ লালকৃষ্ণ আদবানিই আবার লোকসভার এথিকস কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। লোকসভার অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজন কয়েকটি কমিটি পুনর্গঠন করেছেন। এথিকস কমিটিও পুনর্গঠিত হয়েছে। লোকসভার সদস্যদের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা এই কমিটির। অভিযোগ এলে যেমন কমিটি অনুসন্ধান করে দেখে তেমন স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও কমিটি কোনও তদন্ত করতে পারে। ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিশ করার ক্ষমতা রয়েছে এই কমিটির।

২০১৬-র মার্চ মাসে এথিকস কমিটির কাছে নারদ স্টিং অপারেশনের ঘটনার অভিযোগ এসেছিল। লোকসভা থেকেই সিদ্ধান্ত হয় এথিকস কমিটি খতিয়ে দেখবে। আদবানিই ছিলেন চেয়ারম্যান। ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল এবং পরে সম্প্রচারিত হয়েছিল ৬ তৃণমূল সাংসদের অর্থ নেবার ঘটনা। একটি ভুয়ো কোম্পানির নাম করে সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল ‘উৎকোচ’ হিসাবে। বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে সুবিধা পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। লোকসভার সদস্যদের মধ্যে সৌগত রায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন ব্যানার্জি, সুলতান আহমেদ (পরে প্রয়াত), শুভেন্দু অধিকারীর (পরে সাংসদ পদ ছেড়ে রাজ্যের মন্ত্রী) বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যসভার সদস্য মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছিল। মুকুল রায় পরবর্তী সময়ে বি জে পি-তে যোগ দিয়েছেন। আদবানি কোনও সভাই ডাকেননি। এই বিষয়ে কমিটিতে কোনও আলোচনাই করেননি। সেই বছরেই লোকসভায় পরপর দুটি অধিবেশনে প্রসঙ্গ ওঠে। টেলিভিশন ক্যামেরায় সাংসদদের টাকা নিতে দেখা যাওয়া সত্ত্বেও এথিকস কমিটির কোনও হেলদোল নেই কেন, এই প্রশ্ন তুলেছিলেন সি পি আই (এম) সাংসদ মহম্মদ সেলিম। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে কমিটি পুনর্গঠিত হয়। আদবানিকেই চেয়ারম্যান করে এথিকস কমিটি তৈরি হয়। আবার, দুবছর পরে সেই আদবানিকেই শীর্ষে রেখে এথিকস কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ সম্পর্কে কোনও উচ্চবাচ্যই করতে দেননি বি জে পি-র প্রবীণ নেতা।

পরবর্তী সময়ে নারদ কাণ্ডে সি বি আই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতে সি বি আই তদন্তের রায়ই বহাল থাকে। যদিও সেই তদন্তের গতিও অস্বাভাবিক রকমের শ্লথ। কলকাতা পুলিশ পালটা মামলা সাজিয়ে নারদ নিউজের কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলসকে অভিযুক্ত করে।

বুধবার আদবানিই চেয়ারম্যান হওয়ার সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় মহম্মদ সেলিম বলেছেন, মমতা ব্যানার্জির কাছে খুবই সুখবর। তাঁর গডফাদার আবার এথিকস কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। এমনিতেই ধর্মঘট ভাঙতে তিনি যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছিলেন তাতে মোদী-শাহ জুটির পছন্দের তালিকায় তাঁর নাম পাকা হয়েছে। আশু ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।

তৃণমূল নেত্রী প্রায়ই বলে থাকেন, আদবানিকে তাঁর পছন্দ, তাঁকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। আদবানি ‘ভালো লোক’।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement