তেলেঙ্গানায় জোট গড়তে
কথা শুরু বিরোধীদের

সংবাদসংস্থা   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

হায়দরাবাদ, ১২ই সেপ্টেম্বর- টি আর এস-কে হটাতে জোট গড়ার আলোচনা শুরু করল বিরোধী বিভিন্ন দল। বিরোধী শিবিরের প্রধান দুই দল তেলুগু দেশম পার্টি (টি ডি পি) এবং কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে কথা হয়েছে। মঙ্গলবার এই বৈঠকে অংশ নেন সি পি আই নেতৃবৃন্দও।

রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবারই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস, টি ডি পি, সি পি আই-র সঙ্গে প্রতিনিধিদলে ছিলেন তেলেঙ্গানা জন সমিতির নেতারাও। বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এন উত্তম কুমার রেড্ডি জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে টি ডি পি এবং সি পি আই নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। ও জোট করে নির্বাচনে নামার জন্য কথা বলা হবে তেলেঙ্গানা জন সমিতি এবং সি পি আই (এম)-র সঙ্গে।

তেলেঙ্গানায় মেয়াদের আগেই বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন টি আর এস নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। আপাতত কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রয়েছেন তিনি। বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, রাওকে সর্বেসর্বা করে রাজ্যে স্বচ্ছ এবং অবাধ নির্বাচন অসম্ভব। পুরানো মামলা খুঁজে বের করে বিরোধী নেতাদের জেলে ভরছেন তিনি।

সি পি আই রাজ্য সম্পাদক সি ভেঙ্কট রেড্ডি বলেছেন, নতুন রাজ্য গঠনের সময় থেকে সরকার চালাচ্ছে টি আর এস। কিন্তু, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ধার ধারেনি কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সরকার। এই সরকারকে হটানো দরকার।

অবিভক্ত অন্ধ্র প্রদেশে কংগ্রেস এবং টি ডি পি একে অপরের তীব্র বিরোধী শক্তি ছিল। বস্তুত এন টি রামা রাওয়ের নেতৃত্বে টি ডি পি-র রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল কংগ্রেস বিরোধিতার মধ্যে দিয়েই। টি ডি পি প্রধান এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু তেলেঙ্গানায় দলের নেতাদের বিরোধী জোট গড়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি হায়দরাবাদে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

অন্ধ্র প্রদেশ ভেঙে পৃথক তেলেঙ্গানা গঠনের আন্দোলনে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল তেলেঙ্গানা যৌথ সংগ্রাম কমিটি। এই মঞ্চের প্রধান ছিলেন এম কোদণ্ডরাম। ছিলেন দীর্ঘ সময় কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সহযোগীও। কিন্তু, রাও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছু পরে একাধিক সিদ্ধান্তে বিরোধ তৈরি হয়। তেলেঙ্গানা জন সমিতি নামে নতুন দল গড়েন বিরোধিতায় নামেন কোদণ্ডরাম। জোটের সম্ভাবনা বাতিল করছেন না তিনিও।

বুধবার কোদণ্ডরাম বলেছেন, একাধিক রাজনৈতিক দল আমাদের জোটে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। প্রথমে আমরা কোনও নির্বাচনী জোটে অংশ নেওয়ার বিপক্ষে ছিলাম। কিন্তু, পরিস্থিতি এমনই যে আমরা জোটের প্রস্তাব ফের খতিয়ে দেখছি। বিশদে আলোচনা হবে দলে। তবে, প্রধান বিষয় হলো, অভিন্ন কর্মসূচি নির্দিষ্ট করে জোট করতে হবে। সব দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানও বজায় থাকা দরকার।

চন্দ্রশেখর রাওয়ের ছেলে টি আর এস নেতা কে টি রামারাও এদিন বলেছেন, ২০১৪-র বিধানসভাও আমরা একা লড়েছি। সুবিধাবাদী রাজনীতির হাত ধরে জোট গড়া হচ্ছে। মোকাবিলায় তৈরি দল।

২০১৪-র বিধানসভা ভোটে ১১৯টি আসনের মধ্যে টি আর এস জয়ী হয়েছিল ৬৩টি আসনে। গত চার বছরে বিরোধীদের ১৯জন বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়েছে টি আর এস। তার মধ্যে ১২জনই টি ডি পি-র। বিরোধীদের ক্ষোভ রয়েছে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল ভাঙানোর রাজনীতিতেও।

বুধবার উপ নির্বাচন কমিশনার উমেশ সিনহার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল প্রশাসনিক বৈঠক করেছে হায়দরাবাদে। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়ে। দিল্লিতে ফিরে গিয়ে নির্বাচনে সম্ভাব্য সূচি সম্পর্কে রিপোর্ট দেবে প্রতিনিধিদল।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement