ফের ডেঙ্গুতে মৃত্যু কলকাতায়,
৬ ওয়ার্ডে পরিস্থিতি খারাপ

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ১২ই সেপ্টেম্বর – আরুষ দত্তের মৃত্যুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরে আরও এক ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। উত্তর কলকাতার ১৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষ্ণা হাজরার মৃত্যু সোমবার হলেও বুধবার তা প্রকাশ্যে আসে।

স্বভাবসিদ্ধ ভাবেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর দায় এড়িয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন। কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, ডেঙ্গু হলেও মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু নয়। এদিনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় শহরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪। কলকাতা কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায়মজুমদারের দাবি, ডেঙ্গুতে যদি মৃত্যু না হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। না হলে মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু তা মেনে নিক কর্পোরেশন।

মঙ্গলবার ১১ বছরের শিশু আরুষের মৃত্যুর ঘটনায় কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ দুঃখ প্রকাশ করে পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছিল ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কথা। তবে ২৪ঘন্টা পর দায় এড়ানোর ফের পুরানো পথ নিল কর্তৃপক্ষ। এদিন ১৪নম্বর ওয়ার্ডে মুরারি পুকুর রোডের বাসিন্দা ৩৫ বছরের মহিলা কৃষ্ণা হাজরার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সোমবার বেসরকারি হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুর শংসাপত্রে স্পষ্ট লেখা হয়, ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রম (ডেঙ্গু এন এস ১, আই জি জি, আই জি এম পজেটিভ) এবং একাধিক অঙ্গ বিকলের জন্য মৃত্যু। এবিষয়ে বুধবার কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, ডেঙ্গু হয়েছিল রোগীর তবে মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, ডেঙ্গুর কারণেই একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুর সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্টই পজিটিভ।

কিছু দিন আগেই ১৪নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করে স্বাস্থ্য বিভাগের দিকে আঙুল তুলেছিলেন শাসক দলের স্থানীয় কাউন্সিলর অমল চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেছিলেন তাঁর ওয়ার্ডেই ৭২জনের উপর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। তবে চাপের মুখে পড়ে পরে তিনি দাবি করেন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন আক্রান্তের সংখ্যা আর নেই। কিন্তু কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের ৬টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অতি স্পর্শকাতর এই মুহূর্তে। সেইগুলি হলো ১৪, ৭৪, ৮২, ৩৬, ১০৮, ১০৯নম্বর ওয়ার্ড। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাসভবনের ওয়ার্ডের উলটো দিকেই ৭৪ নম্বর ও ৮২নম্বর ওয়ার্ড। এই ৬টি ওয়ার্ড ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুবই খারাপ। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরই শাসক তৃণমূলের। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গেই শাসক দলের কাউন্সিলরদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

প্রতিবারের মতো এবারও শহরে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত ও একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় সরব হয়েছেন কর্পোরেশনের বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা। বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায়মজুমদার জানান, বর্তমান পৌর বোর্ড সত্যটা মানতে চায় না। সেটা চাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়। তার ফল ভোগ করেন নাগরিকরা। মুরারি পুকুরের রোগীর মৃত্যুর কারণ চিকিৎসক ডেঙ্গু লিখেছেন। কর্তৃপক্ষ মানতে নারাজ। যদি ডেঙ্গু না হয়ে থাকে তাহলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক কর্তৃপক্ষ। আর তা না নিলে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেছে ওই মহিলার সেই সত্যটাই মেনে নিক।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement