সাতসকালে কাঁপলো উত্তরবঙ্গ,
আতঙ্কে মৃত্যু যুবকের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ১২ই সেপ্টেম্বর— বুধবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল শিলিগুড়িসহ উত্তরবঙ্গের নানা এলাকা। বিশাল কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও ভূমিকম্পের জেরে শিলিগুড়িতে একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নিম্ন আসামের কোকরাঝাড় এলাকা। এদিন সকাল ১০টা ২০মিনিটে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। আসাম সীমান্তবর্তী ভুটানেও জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এদিন উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি ছাড়াও পাহাড়ি এলাকা দার্জিলিঙ, কার্শিয়াঙ এবং কালিম্পঙে ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে। জলপাইগুড়িতেও বেশ কিছু জায়গায় জোরালো ভূমিকম্প হয়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে এদিন শিলিগুড়িতে আচমকা সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। শিলিগুড়ির শান্তিনগরের বৌবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত যুবকের নাম সম্রাট দাস (২২)। বুধবার সকালে ভূমিকম্পের সময় বাড়ির তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় আচমকা পা পিছলে পড়ে জ্ঞান হারায় সম্রাট। তাঁর নাক মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মা উষা দাস চোখে মুখে জলের ছিটে দিয়ে জ্ঞান ফেরালেও কোন কথা বলতে পারেনি সে। ফের জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সম্রাট। এরপর দ্রুত একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা সম্রাটকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গেছে, সম্রাট দাস মুর্শিদাবাদ বি এড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। কলেজ ছুটি থাকায় কিছুদিন আগে মুর্শিদাবাদ থেকে বাড়ি ফিরে এসেছিল সে। এই ঘটনায় সম্রাটের এলাকা জুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণেই সম্রাটের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক‌্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের ছোট ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃত সম্রাটের মা উষা দাস ও বাবা অমিত দাস।

এদিন সকালে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সকলেরই চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। এর আগে ২০১১সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর ও ২০১৫সালের ২৫শে এপ্রিলও এমনই ভূমিকম্প অনুভূত হয় শিলিগুড়িতে। সেইসময় নেপালে বহু মানুষের মৃত্যু হয় ভূমিকম্পে। এদিন শিলিগুড়িতে সেবক রোডে বেশ কয়েকটি বহুতলে ফাটল দেখা দিয়েছে। শহরবাসীর মনে আতঙ্ক বেশ কিছুটা রয়েই গেছে।

এদিকে বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি শহর ও শহরতলিতে ভূমিকম্পের জেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। অনেককেই দেখা যায় রাস্তায় বেরিয়ে এদিক ওদিক ছুটছেন। রাস্তার গাড়িগুলো আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে। ফণীন্দ্র দেব বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছোটাছুটি করে স্কুলের সামনের মাঠে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। মোটরবাইক নিয়ে চালানোর সময় পড়ে গিয়ে সামান্য জখম হয়েছেন একজন। এদিকে বুধবার বেলা ১০টা ২১মিনিটে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য অংশের সঙ্গে মালদহ জেলাতেও বেশকিছু এলাকা কেঁপে উঠল ভূমিকম্পে। ঠিক যখন অফিসযাত্রীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায়, ছাত্রছাত্রীদের কেউ বা স্কুল থেকে ঘরে ফেরার পথে। আচমকা মাটি কেঁপে উঠতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। তবে ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন না হওয়াতে কিছুক্ষণ পর আতঙ্ক কমে আসে। মালদহ জেলার কোন জায়গা থেকেই অবশ্য এমন ভূমিকম্পের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement