বায়োপিকের প্রস্তাব পেয়ে
আপ্লুত স্বপ্না

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ১২ই সেপ্টেম্বর— ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ দেখে স্বপ্না বর্মণও একদিন ভাবতেন, তিনিও সফল অ্যাথলিট হবেন। তাঁকে নিয়েও বায়োপিক হবে। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর সেই স্বপ্নও আর দূরে নয়। বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় বায়োপিক করার প্রস্তাবও দিয়েছেন স্বপ্নাকে। যদিও তাঁর কোচ সুভাষ সরকার এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন। বুধবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বপ্না জানান, ‘মিলখা সিংয়ের বায়োপিক দেখার পর থেকেই চাইতাম, আমাকে নিয়েও বায়োপিক হোক। মনে হতো, সফল হলে আমার কাছেও প্রস্তাব আসবে। প্রস্তাবও পেয়েছি। স্যার যদি বলেন, তাহলে হতেই পারে।’

এদিন দুই তারকা অ্যাথলিটের মধ্যে কথোপকথন হয় টেলিফোনে। ফোনের ওপারে ছিলেন দীপা কর্মকার। স্বপ্নাকে বলেন, ‘আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তুমি এত চোট ‌আঘাত পেরিয়ে দেশের জন্য সোনা জিতেছ। একজন বাঙালি হিসাবেও গর্বিত। তোমার কোচকেও অনেক অভিনন্দন। এভাবেই এগিয়ে যাও। সামনেই ২০২০ টোকিও অলিম্পিক। আশাকরি, ওখান থেকেও পদক নিয়ে আসবে তুমি।’ এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট বলেন, ‘তোমাকেও টোকিওর জন্য অনেক শুভেচ্ছা। ওখানে খুব ভালো ফল করো, এই কামনা করি।’ এদিন উপস্থিত ছিলেন বাংলা থেকে এশিয়াডে শেষবার সোনাজয়ী অ্যাথলিট সরস্বতী সাহাও।

পরিবারের ইতিহাসে কারও নেই। স্বপ্নার জন্য চিন্তায় চিন্তায় তাঁর কোচ সুভাষ সরকারের মধুমেহ রোগ ধরে গিয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি বলছিলেন, মাঝে প্রচুর ঝড়-ঝাপটা গিয়েছে। উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছি। স্বপ্নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। স্বপ্নাকে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, এশিয়ান গেমস অবধিই তিনি তাঁর সঙ্গে থাকবেন। কোচের কথায়, ‘দু’জনের মধ্যে বিশ্বাসটা আর আগের মতো ছিল না। কখনও ও হতাশ থাকত। কখনও আমি চাপে থাকতাম। এমনকী ওকে বলেওছিলাম, এশিয়ান গেমস অবধিই ওর সঙ্গে থাকব। বিশ্বাসটাই আসল। ও শেষ পর্যন্ত আমার উপর ভরসা করেছিল। ওকে একটা কথাই বলেছিলাম, শুধু আমার উপর ভরসা রাখ। বাকি পৃথিবীকে অবিশ্বাস করলেও চলবে।’ স্বপ্নার দৌড় আরও ভালো করাতে এবার ছাত্রীকে একজন স্প্রিন্টিং অ্যাথলেটিক্স কোচের কাছেও নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে সুভাষ সরকারের।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement