হেনরির জোড়ায় লিগের রঙ সবুজমেরুন

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

Image

+

লিগ জয়ে সবুজ-মেরুন উৎসব বাঁধভাঙাই

মোহনবাগান ২(হেনরি)— কাস্টমস ০

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১২ই সেপ্টেম্বর— বালির বাঁধ দিয়ে খুব জোর স্রোতহীন নদীকে আটকে দেওয়া যায়। প্রবল ঝড়ে উত্তাল সমুদ্রকে নয়। মুহূর্তে ভেঙে যায় সেই বালির বাঁধ। সব ভাসিয়ে দিয়ে আপন খেয়ালে এগিয়ে যায় সমুদ্রের ঢেউ।

ঠিক যেমন গেল বুধবার। মোহনবাগান মাঠে। এ সমুদ্র মানুষের সমুদ্র। এ সমুদ্র বাঁধভাঙা আবেগের সমুদ্র। ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে ঢোকার লোহার গেটটা খুলে গেল দুদিকে। প্রবল ভিড়ের চাপে। কিছুক্ষণ ব্যর্থ চেষ্টা করলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তারপর হাল ছেড়ে দিলেন তাঁরাও। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো মানুষ ঢুকে গেল মাঠে। শুরুটা হয়েছিল সদস্য গ্যালারির দিক থেকে। কয়েক মুহূর্ত পর দেখা গেল গোটা মাঠে মানুষ। উঁচু ফেন্সিং টপকে মাঠে। তারপর শুধু দৌড়। যে যেদিকে পারছে। আট বছর পর লিগ জয় যেন ভেঙে দিয়েছে সব সীমানা। পুলিশকর্মীরা উদ্দেশ্যহীনভাবে দৌড়াচ্ছেন। কতজনকে আর বের করা সম্ভব? কেউ লাফাচ্ছেন পাশের সমর্থককে জড়িয়ে ধরে। কেউ আবিরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন অচেনা কোন গাল। পরিচয় একটাই। মোহনবাগান সমর্থক। জঙ্গলমহলের পিন্টুই হোক। কিংবা কেরালার মৎস্যজীবী পরিবার থেকে উঠে আসা ব্রিটো। লিগ জয়ের নায়কদের একবার ছুঁয়ে দেখার আকুতি। ডিকাকে ঘিরে ধরে উল্লাসে মাতলেন প্রায় শ’খানেক সমর্থক। নাচের তালে পা মেলালেন ডিকাও। উৎসব, উৎসব আর শুধুই উৎসব। কলকাতা লিগ জয়ের উৎসব। আট বছর পর। বুধবার ক্যালকাটা কাস্টমসকে ২-০ ব্যবধানে হারালো মোহনবাগান। জোড়া গোল হেনরি কিসেকার। আর এই জয়েই এক ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান।

তখনও সাড়ে তিনটে বাজেনি। মোহনবাগান মাঠের জেনারেল গ্যালারি হাউসফুল। টিকিট নেই। গালে আবির মেখেই মাঠে এসেছিলেন এক বছর ২৫-এর সমর্থক। লিগ জয়ের মুহূর্তটা মিস করতে চাননি। কিন্তু টিকিট কোথায়? মোহনবাগান গ্যালারির পিছন দিকে মাঠের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে যাচ্ছিলেন। দিশাহারা ভাবে। ‘দাদা একটা এক্সট্রা টিকিট পাওয়া যাবে?’ শেষ পর্যন্ত পেয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। এক ব্ল্যাকার এক গোছা টিকিট নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে শেষপর্যন্ত পালিয়ে বাঁচতে হলো। না, পুলিশের তাড়া খেয়ে নয়। সমর্থকরা ঘিরে ধরেছিলেন তাঁকে। কিন্তু অতজনকে দেওয়ার মতো টিকিট কোথায়? ভিড়ও বাড়ছিল। শেষপর্যন্ত কোনমতে টিকিট বিক্রি ফেলে পালিয়ে গেলেন।

সদস্য গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। তাই মাঠের বাইরেই পুলিশ আটকে দিল বহু সদস্যকে। কার্ড থাকা সত্ত্বেও। উৎসবের সব বারুদই মজুত ছিল। বিস্ফোরণ হতে সময় লাগলো মাত্র ৪ মিনিট। ডান দিক থেকে অরিজিৎ বাগুইয়ের ক্রস। রিসিভ করে কোণাকুনি দুরন্ত শটে গোল হেনরির। গ্যালারির সমবেত চিৎকার পৌঁছে গিয়েছিল বহু দূর। জানান দিয়েছিল লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানই। ৪০ মিনিটে হেনরির পাসে ডিকার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ঠিক চার মিনিট পরই নিশ্চিত হয়ে যায় মোহনবাগানের লিগ জয়। ডিকার পাসে নিজের দ্বিতীয় গোল করে যান হেনরি কিসেকা।

দ্বিতীয়ার্ধে জুড়ে শুধুই সেলিব্রেশনের মেজাজ। হাতে হাতে রঙমশাল। একের পর এক ফানুস ছাড়া হচ্ছে গ্যালারি থেকে। জ্বালানো হচ্ছে তুবড়িও। বারবার ঘোষণা হচ্ছে, ‘আপনারা মাঠে আতসবাজি ফাটাবেন না।’ কিন্তু এ কথা কে শুনবে? অন্তত লিগ জয়ের দিনে? কেউ শোনেওনি। দ্বিতীয়ার্ধে আজহারউদ্দিনের একটি হেড পোস্টে লাগে। তাই গোলের সংখ্যা আর বাড়েনি। প্রয়োজনই বা কি? মোহনবাগানের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আটকানোর সাধ্য যে আর কারোর ছিল না। কেউ পারেওনি। ২০০৯ সালের পর আবার কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো মোহনবাগান।

মোহনবাগান : শংকর, অভিষেক (রানাওয়াডে), কিমকিমা, কিংসলে, অরিজিৎ, ব্রিটো (আজহারউদ্দিন), সৌরভ, শিলটন (কেলডেরা), পিন্টু, ডিকা, হেনরি

কাস্টমস : শুভম, অরিজিৎ, সৌরভ, স্যামুয়েল, সৌভিক, অমিত (নির্মল), রাকেশ, জন, পাইতে (রাজন), রাম, স্যাটানলি





Current Affairs

Featured Posts

Advertisement