লিগ জয়ের উৎসবে ভাসছেন ফুটবলাররা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

লিগ জয়ের উৎসবে ভাসছেন ফুটবলাররা

মাঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১২ই সেপ্টেম্বর— পিন্টু মাহাতো ভ্যাবাচ‌্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে ঘিরে ধরেছেন পাঁচ-ছজন সমর্থক। জড়িয়ে ধরছেন। কোলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পিন্টুকে। আবেগে পিন্টুর চোখের কোণে চিকচিক করছে জল। কোনমতে জানালেন, ‘জীবনের সেরা মুহূর্ত আমার। জয়টা আমি বাবা, মাকে উৎসর্গ করছি।’ প্রায় একই অবস্থা এই লিগে নিজেকে খুজে পাওয়া সৌরভ দাস। ‘এই অভিজ্ঞতা জীবনে কখনও হয়নি। মাঠ থেকে বেরোতেই পারছিলাম না। একপ্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যাচ্ছি। চারিদিকে শুধু মানুষ। একের পর এক হাত এগিয়ে আসছে আমার দিকে। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে বড় ম্যাচ জিততে পারলে আর কোন আক্ষেপ থাকতো না’ বলছিলেন সৌরভ। কর্তা থেকে কোচ। সবার মুখে এই দুই ফুটবলারের প্রশংসা। গতবছর সুযোগ না পেয়ে হতাশ এই দুই ফুটবলারই এবার মোহনবাগানের লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন।

বড় ম্যাচ না জেতার আক্ষেপ অরিজিৎ বাগুইয়ের গলাতেও। গত বছর থেকেই দুরন্ত ফর্মে অরিজিৎ। এই লিগেও টানা ভালো খেলেছেন ডানকুনির এই রাইটব্যাক। বেশ কয়েকটি গোলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অরিজিৎ। বড় ম্যাচে দুটি গোলের ক্ষেত্রেই সেন্টার ছিল অরিজিতের। বুধবার কাস্টমসের বিরুদ্ধে হেনরির প্রথম গোলও সেই অরিজিতেরই ঠিকানা লেখা ক্রসে। অরিজিৎ জানাচ্ছেন, ‘গোল করানোটাই আমার কাজ। আমি সেটাই করেছি। আমরা সব ফুটবলাররাই শুধু খেলাতেই মনোযোগ দিয়েছিলাম। লিগ জিতেছি, দারুণ ভালো লাগছে। তবে বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও না জিততে পারার আফসোস এখনও যাচ্ছে না।’ দলের অধিনায়ক শিলটন পাল বলছেন, ‘এর আগেও ট্রফিজয়ের স্বাদ পেয়েছে। এত বছর পর কলকাতা লিগ জিততে পারাটা আলাদা অনুভূতি। এই ফর্মটা আই লিগেও বজায় রাখতে হবে। আই লিগও জিততে হবে।’

গত বছর আই লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ডিপান্ডা ডিকা। তবু আই লিগ জিততে পারেনি মোহনবাগান। এবার কলকাতা লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিকা। একার কাঁধেই প্রায় এগিয়ে নিয়ে গেছেন মোহনবাগানকে। লিগ জয়ের দিন অবশ্য গোল নেই ডিকার। তাতে অবশ্য আপশোসও নেই। ‘হেনরি জোড়া গোল করেছে বেশ ভালো লাগছে। সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার থেকে দলের লিগ জয়েই আমি বেশি খুশি। আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করেছিল। জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। সবার শুভেচ্ছাতেই এই জয়’ বলছেন ডিকা। হেনরির জোড়া গোলে লিগ জয় বুধবার সুনিশ্চিত করেছে মোহনবাগান। স্বভাবতই খুশি হেনরি কিসেকা। ‘অসাধারণ পরিবেশ। বেশ ভালো লাগছে আজ। আমার লিগে সবগুলো গোলের মধ্যে আজকের গোলকেই এগিয়ে রাখবো।’

এর মধ্যেও অবশ্য বিতর্ক কম হয়নি। অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বৈধ সদস্যকার্ড থাকা সত্ত্বেও আটকে দেওয়া হয়েছিল সদস্যদের। বলা হচ্ছিল সদস্য গ্যালারি ভর্তি। খেলা শুরুর পর মাঠে আসেন টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসুরা। আটকে দেওয়া হয় তাঁদেরও। ক্ষোভে ফেটে পড়েন সৃঞ্জয়। অভিযোগ তোলেন বাইরের লোক ঢুকে ভরিয়ে দিয়েছে সদস্য গ্যালারি। আর বৈধ সদস্যদের পুলিশ আটকে দিয়েছে। শেষ অবধি পুলিশ বাধ্য হয় সদস্যদের ঢুকতে দিতে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। ধাক্কা দেওয়া এবং শারীরিক হেনস্তাও করা হয়। মূল গেটের বাইরে সমর্থকদের উপর লাঠিচার্জও হয়। তবে যখন তাঁদের আসল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন তখন ডাহা ফেল পুলিশ। ম্যাচের পর মাঠে ঢুকে যান কয়েক হাজার সমর্থক। তাঁদের আটকে পারেননি পুলিশকর্মীরা। এই ঘটনায় আহত হতে পারতেন ফুটবলাররা। পরে কোনমতে তাঁবুতে ফেরেন মোহনবাগান ফুটবলাররা।

লিগ জয়ের দিনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অবশ্য চাপা থাকেনি। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা দেবাশিস দত্ত জানালেন, ‘আট বছর পর লিগ জয়। বেশ ভালো লাগছে। তবে মরশুমের শুরুতে দল গঠনের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি তৈরি হয়েছিল। তাঁদের তৈরি করে দেওয়া দল নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। আজ সবাই সব উত্তর পেয়ে গেছে।’ সচিব অঞ্জন মিত্র বলছেন, ‘ফুটবলারদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে আমি অনেক বাধা পেয়েছি। এই জয় সমর্থকদের উৎসর্গ করছি।’







Current Affairs

Featured Posts

Advertisement