চিকিৎসকদের চাকরি ছাড়ার
হিড়িক কল্যাণী মেডিক্যালে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২৬শে সেপ্টেম্বর , ২০১৮

কল্যাণী, ২৫সেপ্টেম্বর— সোমনাথ মাহাতো চলে গেলেন মঙ্গলবার। মৌমিতা আগেই গেছেন। মানসিক ও আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়েছে দুটি পরিবার। ওঁরা দুজনেই রাজ্যের একমাত্র স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ অব মেডিসিন অ্যান্ড জে এন এম হাসপাতালের চিকিৎসক। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনারই। একে একে সরকারি কর্মচারীদের থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলিতেও যেখানে রাজ্যে সরকারের স্বাস্থ্যবিমা চালু হলেও একমাত্র ব্যতিক্রম এই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। দুটি পরিবারকেই সম্পূর্ণ নিজেদের খরচেই চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। এখন ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে এখানে কর্মরত চিকিৎসকদের। রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা যেখানে এই সুযোগ পেয়ে আসছেন, সেখানে একই কাজ করেও তারা সরকারি স্বাস্থ্যবিমা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে এলেও টনক নড়েনি স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের।

৩৫ বছরের তরতাজা অস্থিরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোমনাথ মাহাতো ক্যানসারে ভুগে এদিন চলে যাবার পরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে। একসময় গোটা পরিবারটার পাশে তাঁর সহকর্মীরাই চাঁদা তুলে কোনোরকমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল এই ব্যয়বহুল চিকিৎসায়।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে একে একে অনেক চিকিৎসকই চাকরিও ছাড়ছেন। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ অভীক চক্রবর্তী, সার্জেন ডাঃ রুবিক রায়, মনোরোগ বিভাগ থেকে সুচরিতা মণ্ডল, অ্যানেস্থেটিস্ট ডাঃ ছন্দশ্রী নস্করসহ আরও তিনজন। জানা গেছে ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ কেশব মুখার্জি চাকরি ছাড়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন। এছাড়াও চাকরি ছাড়ার লাইনে রয়েছেন আরও অনেকেই। বিগত দুই বছরের মধ্যে ১২- ১৪জন চিকিৎসক এই মেডিক্যাল কলেজ থেকে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র কাজ খুঁজে নিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক চিকিৎসক জানালেন, এখানে চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার অ্যাডভান্স স্কিম নেই। যা রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। স্বাস্থ্যবিমা নেই। অন্যত্র ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি। এখানে অবসরের বয়স ৬০। সাড়ে তিন বছর ধরে প্রমোশন আটকে। পেনশন সে নিয়েও জটিলতা রয়েছে। মৃত পোষ্যের চাকরি তাও নেই। নতুন স্থায়ী নিয়োগ নেই। অথচ কাজের বহর ক্রমশই বাড়ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকবছর ধরে একাধিকবার একই দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়ে তদবির করলেও সমস্যা মেটেনি। এই মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সুব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্যবিমা, প্রমোশন বিষয়গুলি নিয়ে সমস্যা মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে।



Current Affairs

Featured Posts

Advertisement