সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা হয়। সেই ঘটনা সম্পর্কে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্ম সেলিম প্রতিক্রিয়া দেন।
একদিকে তৃণমূল ভয়ে বেরচ্ছে না। আরেকদিকে উচ্ছেদ রুখতে হকাররা প্রতিরোধ গড়ছেন। সঙ্গে লাল ঝাণ্ডা। আরএসএস বলেছে, বামপন্থীরা যেন না বাড়ে। পরিকল্পনা করে গুরুত্ব হারানো তৃণমূলকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। যাতে পুলিশ প্রহরা, ‘জেড‘ ক্যাটেগরি সুরক্ষা ফিরে পায়।
শনিবার সোনারপুরে তৃণমূল নেতা এবং সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে ঘিরে জনরোষ প্রসঙ্গে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
তিনি বলেন, তৃণমূল চোর, দুর্নীতিগ্রস্ত আমরা জানি। কিন্তু লুটের টাকা ফেরত হয়নি, চোরদের শাস্তি হয়নি। তার বদলে পচা ডিম ছোঁড়া, ‘চোর চোর‘ বলে স্লোগান তোলা হচ্ছে।
সোনারপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে শনিবার যান অভিষেক ব্যানার্জি। সেখানে যাওয়ার পরই এলাকার মানুষ তাকে ‘চোর চোর‘ স্লোগান দিতে থাকে। তাঁকে উদ্দেশ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম, জুতো। শারীরিকভাবেও হেনস্তা করা হয়। ভিড়ের মধ্যে দেখা যায় প্রচুর মহিলাকে। পরে এলাকায় পুলিশ পৌঁছে অভিষেককে বের করে আনে। তাঁকে ভর্তি করা একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তৃণমূল নেত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হাসপাতালে যান।
সেলিম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, খেটে খাওয়া মানুষের উপরে যে অত্যাচার, হকার হোক বা ছোট দোকানদার, রেলের জমিতে বস্তি হোক- যেভাবে অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে তা নতুন নয়। আমরা আসাম থেকে গুজরাট পর্যন্ত এই ঘটনা দেখেছি।
তিনি বলেন, আসলে জয় হয়েছে আদানি আম্বানির। সাধারণ মানুষ, এমনকি যাঁরা মনে করেছিলেন লক্ষ্মীর ভান্ডারের পর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হবে, তাঁরাও দেখছেন যে কি কেলেঙ্কারি কান্ড। আসলে এগুলো ‘এক্সক্লুশন‘ বা বাদ দেওয়া। কেউ কেউ মনে করতে পারে ধর্মের নামে বাদ দেওয়া হচ্ছে, কেউ মনে করতে পারেন ভাষার নামে দিচ্ছে, কেউ মনে করতে পারেন মহিলাদের নামে বাদ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আসলে তা নয়। যে কোনও ফাসিস্ট শক্তি এই ভাবেই করে। বাদ দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করে। সেটা ভোটাধিকার থেকে হোক নাগরিকত্ব হোক বা উপভোক্তার তালিকা থেকেই বাদ দেওয়া হোক। আমরা চাই ‘ইনক্লুসিভ‘ ব্যবস্থা, সবাইকে নিয়ে চলতে হবে।
সেলিম বলেছেন, আমরা জানি তৃণমূল অন্যায় করেছে। দুর্বৃত্তরা চোর জোচ্চুরি করে কাটমানি খেয়েছে। কিন্তু সাময়িক যে উত্তেজনার আগুন পোহাতে হচ্ছে তা আমরা দেখেছিলাম ২০১৯ সালে। লোকসভায় কয়েকটা আসন জেতার পরে কাটমানি নিয়ে অনেক হইচই করা হয়েছিল। তারপর ছ’বছর ধরে কিছু হয়নি। আবাস যোজনার টাকা নিয়ে হোক বা ১০০ দিনের টাকা নিয়ে হোক, যে দুর্নীতি হয়েছে টাকা লুট হয়েছে তা ফেরত দেওয়ার কথা আমরা বারবার বলেছি। এটা সাধারণ মানুষের টাকা। তার বদলে কোথাও কাউকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। পুলিশও বর্তমানে দলদাস হয়েছে, যা তৃণমূলের নেতৃত্বে হয়েছে এখন বিজেপির নেতৃত্বে তাই করছে। নির্বাচনী সংস্কারের পাশাপাশি পুলিশের সংস্কারেরও দরকার আছে।
সেলিম বলেন, কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে আজকে যা হলো, অভিষেক ব্যানার্জি ঘরে ঢুকে গিয়েছিল, ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিল। তার প্রতি মানুষের ঘৃণা রয়েছে রাগ আছে ক্ষোভ আছে। কিন্তু ডিম ছোঁড়া বা ‘চোর চোর‘ বলে চিৎকার করা কোন উদ্দেশ্যে।
সেলিম বলেন, আসলে যে তৃণমূল গুরুত্ব হারিয়েছে তাকে আবার গুরুত্বপূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ আরএসএস বলে দিয়েছে। আরএসএস’র মুখপত্র ‘স্বস্তিকা‘ পত্রিকায় গত সপ্তাহে লেখা হয়েছে সিপিআইএম থেকে সাবধান। কারণ বামপন্থীদের নেতৃত্বে, লাল ঝান্ডার নেতৃত্বে গরিব মানুষ সংখ্যালঘু মানুষ মহিলা হকার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। তাই তৃণমূলকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে। দরকার হলে জেড ক্যাটেগরি সিকিউরিটি বা বাহিনী তা দিতে হবে। আমরা অন্যান্য রাজ্যের ইতিহাস থেকে জানি এ রাজ্যের ইতিহাস জানি। এর পেছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে। যাতে তৃণমূল এবং মমতা ব্যানার্জি অভিষেক ব্যানার্জি আবার খোলস থেকে বেরিয়ে আসে। তৃণমূল যাতে ভয় কাটিয়ে রাস্তায় নামে। কিন্তু পুলিশের ঘেরাটোপ না থাকলে পাহারা না দিলে তা সম্ভব নয়। সেই জন্যই বিজেপি তেমন ব্যবস্থা করবে।
Comments :0