Double Engine

নির্লজ্জ ডাবল ইঞ্জিন

সম্পাদকীয় বিভাগ


নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকারের নাকের ডগায় ডাবল ইঞ্জিনের উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লির সরকার সাধারণ শ্রমিকদের কি নজরে দেখে কয়েকদিন আগে দিল্লি সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় দুনিয়ার সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে। উত্তর প্রদেশের গেরুয়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যখন পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে এসে দেদার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বিলোচ্ছেন ঠিক সেই সময় তাঁর রাজ্যের নয়ডায় শোষণে জর্জরিত শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি, ৮ঘণ্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের সময়ের জন্য বাড়তি মজুরির দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর হিংস্র ও বেপরোয়া অতযাচার চালাচ্ছে। যে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের রাজ্যে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে কোনোরকমে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মজুরি দেবার ব্যবস্থা করতে পারে না তারা পশ্চিমবঙ্গে এসে নির্লজ্জের মতো রোজগার বৃদ্ধির গল্প শোনাচ্ছেন।
দিল্লি এবং দিল্লি সংলগ্ন হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলে অসংখ্য কল-কারখানা ও শিল্প-বাণিজ্য সংস্থায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন। এই শ্রমিকদের বেশিরভাগ স্থায়ী ধরনের কাজে যুক্ত থাকলেও কোম্পানির অধীনে স্থায়ী শ্রমিক নন। ৯০ ভাগ কর্মীই ঠিকাদারের মাধ্যমে নিযুক্ত অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক। এদের ইএসআই নেই, পিএফ নেই। দুর্ঘটনাজনিত কোনও ক্ষতিপূরণও নেই। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক মজুরিতে কাজ করতে হয়। কাজ করতে হয় ১২ ঘণ্টা। কিন্তু মেলে না অতিরিক্ত সময়ের মজুরি। অনেক সময় সাপ্তাহিক ছুটিও পাওয়া যায় না। এই সামান্য মজুরিতে বাড়ি ভাড়া, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসা সবই চালাতে হয়। কেউ কেউ আবার একা থেকে দেশে পরিবারকে টাকা পাঠায় এই দুর্মূল্যের বাজারে এই সামান্য মজুরিতে কীভাবে মানুষের জীবন চলতে পারে মোদী-শাহ-যোগীরা খোঁজও রাখে না।
সম্প্রতি গ্যাসের দাম এবং জিনিসের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের অপরাধে ডাবল ইঞ্জিনের পুলিশ চরম অত্যাচার নামিয়ে আনে। মহিলা সহ সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। শ্রমিক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখে। অর্থাৎ মালিকের যথেচ্ছ মুনাফার জন্য শ্রমিকদের সামান্য মজুরিতে বেশি সময় কাজ করতে হবে। কোনোরকম প্রতিবাদ করা চলবে না। করলেই হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে পুলিশ। শ্রমকোড এই জন্যই। কম মজু‍‌রিতে বেশি উৎপাদন চাই, বেশি মুনাফা চাই। মোদী সরকার তারই গ্যারান্টি দিয়েছে আর ভোটের বাজারে বাংলায় এসে মজুরি বৃদ্ধি, কাজ সৃষ্টির ন্যাকামি করছে।
শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে সিপিআই(এম), সিআইটিইউ ছাড়া আর কেউ পাশে নেই। কৃষকসভায় শ্রমিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment