Agony of Potato Growers in Bengal

‍বিপন্ন কৃষকের পাশে বামেরাই

সম্পাদকীয় বিভাগ

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসক যখন বেপরোয়া ও মরিয়া তখন প্রধানত ছ’-সাতটি জেলায় আলুচাষিদের বিনিদ্র রজনী কাটছে বিপুল লোকসান আর ঋণ খেলাপির আতঙ্কে। আলুচাষ পর্বে এই কৃষকদেরই বারেবারে সামলাতে হয়েছে এসআইআর’র যন্ত্রণা। চাষের কাজ ফেলে প্রথমে আবেদনপত্র জমা দিতে কেটেছে কয়েক দিন। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করাও ছিল এক হ্যাপা। অতঃপর খসড়া তালিকা প্রকা‍‌শের পর দেখা যায় বিপুল সংখ্যককে ডেকে পাঠানো হয় শুনানিতে। যাবতীয় নথিপত্র জোগড় করে সব কাজ ফেলে লাইন দিতে হয় শুনানির জন্য। তারপরও যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতির জন্য আটকে যায় হাজার হাজার চাষি পরিবারের সদস্যদের নাম। এদের ভবিষ্যৎ ঝুলে আছে ট্রাইব্যুনালের উপর। আপাতত এবার ভোট দিতে পারবেন না তারা। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো আলুচাষি পরিবারগুলি ডাবল যন্ত্রণার শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। একদিকে ক্রমবর্ধমান চাষের খরচের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে আলু চাষ করেছেন লাভের আশায় বুক বেঁধে। কিন্তু এখন সেই আলু বিক্রি করতে গিয়ে তাদের মাথায় হাত। মাঠে আলুর দাম কেজি প্রতি এক টাকা থেকে পাঁচ টাকার মধ্যে। এই দামে আলু বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা ঋণের টাকার অর্ধেকও শোধ করা যাবে না।
রাজ্যে কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা তৃণমূল জমানায় পুরোপুরি ফড়ে ও ব্যবসায়ীদের কবজায় তুলে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি সরকারের তরফে আলু কেনার যে পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা অতীতে ছিল তৃণমূল এসে সব লোপাট করে দিয়েছে। এখন নাম-কা-ওয়াস্তে সরকার কিছু আলু কেনে বটে তবে সেটা সরাসরি নয়। সরকারের অনুগত ব্যবসায়ী বা হিমঘরের মালিকের মাধ্যমে। তাতে কৃষকরা যেমন সরকার ঘোষিত মূল্য পান না তেমনি সেই আলু অনেক বেশি দামে কিনতে হয় সাধারণ মানুষকে। দেখার কেউ নেই। এবারও এই ঘোরতর সঙ্কটের মধ্যে ভোটের বাজারে মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে কথা বলেছেন সরকার নাকি আলু কিনছে। কিন্তু কৃষকরা আলু বিক্রির জন্য সরকারকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে বিপুল লোকসানে আলু যথাসম্ভব কম বিক্রি করে চাষিরা বাড়তি গচ্চা দিয়ে হিমঘরে যতটা সম্ভব আলু সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন। ফলে এবার হিমঘরে আলু রাখা হয়েছে ১৬ কোটির বেশি বস্তা। গত বছর থেকে ১.৭০ কোটি বস্তা বেশি। মে মাস থেকে যখন হিমঘর থেকে আলু বের করা শুরু হবে তখন বেশি দাম পাবেন বলে আশায় আছেন কৃষকরা। কিন্তু সে আশাও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়।
এদিকে যে ঋণ নিয়ে তারা আলু চাষ করেছেন সেই ঋণ শোধ করতে হবে ৩১ আগস্টের মধ্যে। তার আগে ৩১ মার্চের মধ্যে শোধ করার কথা ছিল আমন ধান চাষের জন্য নেওয়া ঋণ। চাষিদের মাথায় হাত। আলু বিক্রি না হলে বা লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হলে ঋণ শোধ করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময় পেরোলেই সুদের হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ হয়ে যাবে। এমন এক মহাসঙ্কটের মধ্যে কৃষকরা দিশাহারা। কি রাজ্য, কি কেন্দ্র কোনও সরকারই নেই আলুচাষিদের পাশে। অসহায় পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
আলুচাষিদের এই সঙ্কটের জন্য প্রধানত দায়ী মমতা সরকার। বিহার, ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, আসাম সহ অন্যান্য রাজ্যে আলু রপ্তানি বন্ধ করেছে এই সরকার। তাই আলুর বাজার নেই। কৃষকরা দাম না পেয়ে বিপুল লোকসান করছেন। রাজ্যের কৃষকরা যখন ঘোর দুর্বিপাকে তখন কেন্দ্রের মোদী সরকার দূর থেকে মজা দেখছে। এখন ভোটের মুখে নির্বাচনী সভায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলছেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে পরদিন থেকে অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানি শুর হবে। বিজেপি একমাত্র জিতলে বিপন্ন মানুষের পাশে থাকবে বলছে। হারলে দূর থেকে মজা দেখবে। বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন যেমন কৃষকের পাশে ছিল, তেমনি তার পরও কৃষকদের দাবি নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। বামপন্থীরাই একমাত্র কৃষকদের বিশ্বস্ত সাথি।

Comments :0

Login to leave a comment