Petroprice Vote

ভোট মিটলেই

সম্পাদকীয় বিভাগ

ভোট প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যতই মিষ্টি-মধুর ভাষণ দিন বা ডাবল ইঞ্জিনের জাদুকরী উন্নয়নের স্বপ্নজাল বুনুন, মোদীভক্তরা নি‍‌শ্চিতভাবেই জেনে রাখুন ভোট ফুরোলেই পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস সহ যাবতীয় পেট্রোপণ্যের দাম এক লাফে অনেকটাই বাড়ানো হবে। অনেক আগেই দাম বাড়ানো হতো কিন্তু পাঁচ রাজ্যে ভোটে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে মোদী-শাহ’রা দাঁতে দাঁত চেপে মূল্য বৃদ্ধি ঠেকিয়ে রেখেছেন। অবশ্য যেসব পেট্রোপণ্যের দাম সরাসরি সাধারণ মানুষকে আঘাত করে না (যেমন বিমানের জ্বালানি এটিএফ, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) সেগুলির এই সময়কালে এক বা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামালেরও দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাসের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারেরও। ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি যুদ্ধ শুরুর মুখে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামও একপ্রস্থ বাড়ানো হয়েছিল।
বিজেপি’র রাজনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে বরাবর মোদী সরকার পেট্রোপণ্যের মূল্যের উপর পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করে। মোদী সরকারের ঘোষিত নীতিই হলো পেট্রোপণ্যের মূল্য সরকার ঠিক করবে না বাজার ঠিক করবে। অর্থাৎ অশোধিত তেলের আমদানি খরচ, পরিশোধন খরচ সহ যাবতীয় খরচের সঙ্গে মুনাফা যুক্ত করে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস ইত্যাদির দাম ঠিক হবে। সরকার এক পয়সাও ভরতুকি দিয়ে পেট্রোপণ্যের দাম কম করবে না। স্বাধীনতার পর থেকে বরাবর জনস্বার্থের কথা ভেবে পেট্রোপণ্যের সরকারি ভরতুকি চালু ছিল। মোদী ক্ষমতায় এসে ধাপে ধাপে সেই ভরতুকি পুরোপুরি তুলে দেয়। গোড়ায় পনের দিন অন্তর তেলের দাম বাড়ানো হতো। তার ফলে মোদী জমানায় রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। ডিজেল, পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় দু’গুণ।
সাম্প্রতিককালে প্রথমে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ, তারপর গাজায় ইজরায়েলি গণহত্যা ও ধ্বংস অভিযান, অতঃপর ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ সামরিক আগ্রাসনের জেরে এখন বিশ্ব বাজারে তেল, গ্যাসের দাম শুধু হুহু করে বাড়ে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাবার ফলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থাটাই কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে তেল বিশ্বে অস্থিরতা ও ববিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত যেহেতু প্রয়োজনের ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি করে তাই ইরানের যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতি তথা জাতীয় স্বার্থের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া অন্যান্য দেশ থেকে বেশি বিপদে ভারত। স্বাভাবিকভাবে যুদ্ধের প্রশ্নে ভারতের জনস্বার্থে সংঘাত হ্রাসে ভারতের বাড়তি দায়িত্ব থেকে যায়। মোদী সরকার সেই দায়িত্ব তো পালন করেইনি উলটে যুদ্ধবাজ ইজরায়েল ও আমেরিকাকে পরোক্ষে উৎসাহ ও মদত জুগিয়েছে। গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং ইরানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভারত একবারের জন্যও দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। যুদ্ধ বিরতির প্রশ্নেও ভারতকে উদ্যোগী‍‌ ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। গোটা সময়টা কার্যত দূর থেকে মজা দেখার মতো করে কাটিয়েছে ভারত। যাদের যুদ্ধোন্মাদনার জেরে তেল বিশ্বে আজ এই ঘোর সঙ্কট সেই আগ্রাসী আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গেই মোদী সরকার অতিরিক্ত ভাব-ভালবাসার সম্পর্ক বজায় রেখেছে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য কখনও জোরালো অবস্থান নেয়নি। আমেরিকা নিষেধ করেছে তাই মোদী সরকার ইরান থেকে সস্তায় তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। বিপরীতে চীন রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেছে ইরান থেকে হরমুজ দিয়ে চীনে তেল আসবে কেউ যেন বাধা না দেয়।

Comments :0

Login to leave a comment