TMC Susanta Ghosh

পুরী থেকে গ্রেপ্তার সুশান্ত ঘোষ

রাজ্য কলকাতা

পুরী থেকে গ্রেপ্তার কলকাতা পৌরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজি, হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে ফেরার ছিলেন সুশান্ত ঘোষ। এদিন পুরী থেকে রাজ্য পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। 
৫ জুন ওড়িশা পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত বেলদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুশান্তর গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরিকে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সুশান্তর গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রুবি মোড় থেকে আরবানা পর্যন্ত যেই দোকান গুলো রয়েছে সেই দোকান গুলো থেকে তোলা তুলতেন তৃণমূল কাউন্সিলর। তার হয়ে সেই কাজ করতেন সুজিত। এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আনন্দপুর থানায়। পুলিশ ইতিমধ্যে গোটা বিষয়ের তদন্ত শুরু করেছে। 
ইতিমধ্যে তোলাবাজির ঘটনায় কলকাতার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন। সবার বিরুদ্ধেই অনৈতিক ভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 
উল্লেখ্য ২৭ মে কলকাতার কর্পোরেশনের ১২ বরোর চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন সুশান্ত।
ফুটপাতের একটি স্টল সাড়ে তিন লক্ষ টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে সম্প্রতি। 
দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ২০২২ সালের নভেম্বরে ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি দোকান খুঁজছিলেন। সেই সময় সুশান্ত ঘোষ এবং তার সহযোগীরা রুবি ক্রসিংয়ের কাছে আনন্দপুর রোডের ফুটপাতে একটি সাত ফুটের স্টল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তরা অভিযোগকারীকে পুরসভার একটি ভুয়ো লাইসেন্স দেয় এবং ওই স্টলের জন্য তার কাছ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এফআইআরে বলা হয়েছে, ‘টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা নিজেদের অবস্থান বদল করে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্টলটির পরিবর্তে তারা অভিযোগকারীকে একটি ছোট চার ফুটের কাঠামো নিতে বাধ্য করে।’
অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন যে, ওই ছোট কাঠামোটি আসলে রুবি মার্কেট কমিটি অ্যাম্বুলেন্স রুম হিসেবে ব্যবহার করত এবং এর কোন বৈধ সরকারি লাইসেন্স ছিল না।
কাউন্সিলর ও তার দলবলের ভয়েই এত বছর ধরে তিনি চুপ ছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী। এই বিষয়ে আনন্দপুর থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং একটি এফআইআর দায়ের করেছি। প্রতারণা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং জালিয়াতির অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এই মামলার সব দিক তদন্ত করে দেখা হবে।’
গত ২৯ মে, ইএম বাইপাস-রুবি ক্রসিং সংলগ্ন এলাকার হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এলাকার ফুটপাতে স্টল বসানোর অনুমতির জন্য মাথা পিছু ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা করে তোলা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
হকারদের দাবি, এইভাবে ওই এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা তোলা আদায় করা হয়েছে। এই গোটা বিষয়ে তারা পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment