প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলো মেসির টিমের পক্ষ থেকে। মেসির সাথে সেদিন মাঠে থাকা তার দলের এক সদস্য এই অভিযোগ ইমেইল মারফত জানিয়েছে বলে খবর। সেদিনের গোটা বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তারা দায়ী করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস বার বার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন, ছবি তোলার জন্য কাঁধে এবং কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। অরূপের সঙ্গে বহু মানুষ সে দিন মাঠে ঢুকেছিলেন, যাদের মাঠে ঢোকার কথা ছিল না। অতিরিক্ত লোক মাঠে ঢোকায় মেসি বিরক্ত বোধ করেন এবং তারপর তিনি মাঠ ছাড়েন।
ইতিমধ্যে মেসি কান্ড নিয়ে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। মামলা করেছেন সেদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। বার বার পুলিশের পক্ষ থেকে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠালেও অরূপ হাজিরা দেয়নি।
মেসি কান্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এদিন জানিয়েছেন তদন্তকারি সংস্থা আইন অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাবে। তলব করা হলে অরূপকে হাজিরা দিতে হবে। এছাড়া আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপকে।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় বেসরকারি উদ্যোগে আনা হয়েছিল মেসিকে। সেই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আয়োজক শতদ্রু। পরে তিনি অভিযোগ করেছিলেন বেআইনি ভাবে প্রভাব খাটিয়ে তৎকালিন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে গোটা অনুষ্ঠানটিকে পন্ড করেন।
ডালমিয়া সিমেন্টের মতো বিভিন্ন সংস্থার হাতে এই গোটা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। কর্পোরেট সংস্থা সব সময় নিজের মুনাফার দিকেই নজর রাখবে এটাই স্বাভাবিক। মেসিকে সামনে রেখে বিপুল টাকা তোলাই তাদের লক্ষ্য। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ২০০৮ সালে ৫০ টাকা খরচ করে যেই কলকাতা মারাদোনাকে দেখেছিল সেই কলকাতা মেসি, মার্টিনেজকে দেখার জন্য খরচ করেছিল ১৫ হাজার টাকা। ছয় হাজার টাকার টিকিটও ছিল। অনেকে কষ্ট করে টাকা জমিয়ে একবারের জন্য দেখতে এসেছিলেন মেসিকে। কিন্তু সেই আশা তাদের পুরণ হয়নি। মাঠের বাইরে যেই জলের বোতল ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, ভিতরে তার দাম ১৫০ টাকা।
মাঠে যখন মেসি প্রথম ঢোকেন তখন প্রথম থেকেই তাকে ঘিরে ছিলেন বেশ কয়েকজন। শতদ্রুর কথায় যা থাকার কথা নয়। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। একে বারে মেসির পাশে ছিলেন তিনি। দর্শকদের অভিযোগ এই মানুষদের মাঝে তারা তাদের প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি। বিক্ষুব্ধ এক দর্শক সেই সময় বলেন, ‘একজনকেই শুধুমাত্র দেখতে পেয়েছি। সে হলো অরূপ বিশ্বাস।’
মেসিকে দেখতে না পেয়ে মাঠেই ক্ষোভে ফেট পড়েন দর্শকরা। মাঠে উড়ে আসতে থাকে জলের বোতল। যুবভারতীর বাকেট চেয়ার তুলে মাঠে ছুঁড়তে শুরু করেন দর্শকরা। তারপর মাঠের ব্যারিকেড টোপকে মাঠে ঢুকে পড়েন দর্শকরা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ভিআইপিদের জন্য রাখা সোফায় এবং সামিয়ানায়।
মেসির এই কলকাতা সফরে যুবভারতীতে মোহনবাগান এবং ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে একটা প্রদর্শনী ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সেটাও বাতিল হয়েছে।
মাঠের পরিস্থিতি এমন হয় যে র্যােফ নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে প্রশাসন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়া স্টেডিয়াম মুখো হননি তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং শাহরুখ খান। ক্ষুব্ধ দর্শকরা অরূপ বিশ্বাস এবং আয়োজকদের গ্রেপ্তারির দাবি জানায়।
Messi Kolkata Tour
টিম মেসির পক্ষ থেকে অরূপের নামে অভিযোগ জমা পড়লো পুলিশের কাছে
×
Comments :0