Anit Thapa

জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা

জেলা রাজ্য

মঙ্গলবারই কার্শিয়াঙে মুখ্যমন্ত্রী তার জনসভা থেকে জিটিএ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত হবে বলে ঘোষণা করেন। দুর্নীতির সাথে যুক্ত প্রত্যেককে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে বিজেপি সরকার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কার্শিয়াঙ সফরের পরের দিনেই মেয়াদ উত্তীর্ন হবার আগেই চিফ এক্সিকিউটিভ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা। গোখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেন বা জিটিএ’র চিফ এক্সিকিউটিভ পদে গত ২০২২ সালে বসেছিলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান অনীত থাপা। আরও এক বছর তাঁর চিফ এক্সিকিউটিভ পদে থাকার মেয়াদ ছিলো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তার পদত্যাগকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ইস্তফা দেবার পর ভিডিও বার্তা মারফৎ অনীত থাপা জানিয়েছেন, রাজ্যের নতুন সরকার এসেছে। নবগঠিত সরকারের প্রতি পাহাড় তথা রাজ্যবাসী আস্থাশী। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছিলো জিটিএ। কিন্তু নতুন সরকার জিটিএ-কে কোন গুরুত্ব দিতে চাইছে না। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে পদে থাকার কোন কারণ দেখছি না। তবে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বা স্বতন্ত্র গোর্খাল্যান্ডের বিষয়ে নতুন বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ কি হবে সেই দিকেই নজর রাখবেন বলে জানান। 
যদিও অনীত থাপার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দার্জিলিঙের বিজেপি বিধায়ক নোমান রাই বলেছেন, নতুন সরকার পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জিটিএ যে সরকারের সময় গঠিত হয়েছিলো সেই সরকার নেই। ইস্তফা দিয়ে অনীত থাপা সঠিক কাজ করেছেন। গত ২০১১ সালে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের অধীনে সবশাসিত সংস্থা হিসেবে জিটিএ আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৮সালে প্রতিষ্ঠিত দার্জিলিঙ গোর্খা হিল কাউন্সিলের পরিবর্তে স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে জিটিএ ২০১১ সাল থেকে কাজ করতে শুরু করে। মূল লক্ষ্য ছিলো পাহাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করবে জিটিএ। মূলত দার্জিলিঙ ও কালিম্পঙ জেলার বিভিন্ন মহকুমা ও অঞ্চল নিয়ে জিটিএ’র প্রশাসনিক এলাকা গঠিত হয়। কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ত সহ প্রায় ৫৯টি বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয় জিটিএ-র হাতে। 
২০১১ সাল থেকে এই সময়কাল পর্যন্ত একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জিটিএ-র বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে জিটিএ নির্বাচনে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে জোট গড়ে তুলে লড়াই করেছিলেন অনীতের দল। সেই নির্বাচনে ৪৫টি আসনের মধ্যে অনীত থাপার দল ২৭টিতে জয়লাভ করেছিলো। যদিও গোখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেন বা জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ পদ থেকে পদত্যাগ ও জিটিএতে দুর্নীতি প্রসঙ্গে অনীত থাপাকে নিশানা করেছেন গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের অজয় এডওয়ার্ড।

Comments :0

Login to leave a comment