Students Health Home

কিশোর কবির শতবর্ষে, ১০০ জন পড়ুয়ার বিনামূল্যে অস্ত্রপচার করবে স্টুডেন্টস হেলথ হোম

রাজ্য কলকাতা

প্রতীম দে

কিশোর কবির অকাল মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা সমাজকে। যক্ষ্মা রোগে মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রয়াত হন। সেই সময় বিনা চিকিৎসায় একাধিক ছাত্র ছাত্রীর মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্র সমাজকে। তৈরি হয়েছিল স্টুডেন্টস হেলথ হোম। সুকান্ত ভট্টাচার্যের শতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে স্টুডেন্টস হেলথ হোম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক পবিত্র গোস্বামী জানিয়েছেন, এই বছর ১০০ জন ছাত্র ছাত্রীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিসেবা দেবে স্টুডেন্টস হেলথ হোম।  তিনি বলেন, ‘ছাত্র ছাত্রীদের কোন অস্ত্রপচার হলে তার জন্য নুন্যতম খরচ নেয় হেলথ হোম। ছোট কোন অস্ত্রপচার হলে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। বড় কোন অস্ত্রপচার হলে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া বাইরে কোন পরীক্ষা হলে তার খরচও হেলথ হোম বহন করে। কিন্তু এবার সুকান্তের স্মরণে সবটাই হবে বিনামূল্য। শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষিত করা হবে যার মাধ্যমে বুঝতে পারবে কোন ছাত্র ছাত্রী রোগ রয়েছে বা অস্ত্রপচার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারপর চিকিৎশক দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে হেলত হোমের পক্ষ থেকে।’
চিকিৎসক পবিত্র গোস্বামী বলেন, ‘এই কাজের জন্য পড়ুয়া পিছু ২০,০০০ হাজার টাকার খরচ হবে। ইতিমধ্যে অনেকে এই দায় ভার নিতে শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হবে সাধ্য মতো সাহায্য করার জন্য।’
তিনি জানান, সুকান্ত রচনাবলি হেলথ হোমের পক্ষ থেকে ছাপানো হচ্ছে। প্রতিবছর সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য ভিত্তিক ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা হয় যার নাম ‘উৎসব’। সেখানে অংশ নেওয়া সবাইকে ওই বই দেওয়া হবে।  
এছাড়া ২ সেপ্টেম্বর সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মরণে হবে রক্তদান শিবির। তার উদ্বোধন করবেন প্রবীন বামপন্থী নেতা বিমান বসু। বিকেলে ‘রানার আবার কেন ফিরছে’ এই বিষয় আলোচনা করবেন সাংবাদিক তথা সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী।


চিকিৎসক অমিয় বসুর ধর্মতলার চেম্বার থেকে স্টুডেন্টস হেলথ হোমের যাত্রা শুরু। নিহার মুন্সির মতো চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন এই সংগঠনের পক্ষ থেকে।
পবিত্র গোস্বামী বলেন, ‘যখন এই হেলথ হোম তৈরি হচ্ছে তখন তৎকালিন যাদবপুরের অধ্যক্ষ ত্রিগুনা সেনের নজরে বিষয়টি আসে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে টাকা তুলে দেন উদ্যোক্তাদের হাতে এবং প্রস্তাব দেন যাদপুরের ছাত্রদের সেখানে কম পয়সায় চিকিৎসা দিতে হবে। সেই থেকে শুরু হলো সার্বজনীন সদস্যপদ। এখনও পর্যন্ত যাদবপুর এবং রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য পদ রেখেছেন।’
তবে ২০১১ সালের রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে কোপ নামিয়ে আনে এই সংস্থার ওপর। এক ঝটকায় বন্ধ করে দেওয়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্টুডেন্টস হেলথ হোমকে দেওয়া রাজ্য সরকারের ৯০ লক্ষ টাকা অনুদান। সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। আর্থীক তছরূপ হয়েছে। 
পবিত্র গোস্বামীর কথায়, ‘২০১১ সালের পর থেকে সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিধানসভায় জ্যোতি বসু প্রস্তাব দেন এই হেলথ হোমকে সাহায্য করার সরকারের পক্ষ থেকে। সেই নিয়ে তর্ক হয় তারপর বিধানচন্দ্র রায়ের সরকার অনুদান চালু করেন। সুব্রত মুখার্জি মেয়র থাকাকালিন কর মুকুব করেন। দল মত নির্বিশেষে মানুষ এই সংস্থার উন্নতির জন্য কাজ করেছে। এই ইতিহাস না জেনে না শুনে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০১১ সালের চিঠি আসে সরকারের পক্ষ থেকে যে এখানে আর্থীক তছরূপ করা হচ্ছে। তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যার ফলে অনুদান বন্ধ রয়েছে।’
কিন্তু অনুদান বন্ধ রেখেও স্টুডেন্টস হেলথ হোমকে কেন ভাবে থামাতে পারেনি তৃণমূল সরকার। উল্টে এখন এখানে কম পয়সায় সাধারণ মানুষজনের চিকিৎসা করা হয়। রয়েছে চারটি আইসিইউ বেড সহ ৫৪টি বেড। হেলথ হোমে বর্তমানে সর্ব সাধারণের জন্য বেড ভাড়া এবং আয়া নিয়ে দিনে ১৩০০ টাকা, আইসিইউ ভাড়া ৪৫০০ হাজার টাকা।
চিকিৎসক গোস্বামী বলেন, ‘মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে এসে একটা বাড়ির পরিবেশ পায়। তারা জানে এখানে তাদের থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না। এই সংস্থা কোন লাভজনক সংস্থা নয়। প্রতিনিদিন বহু মানুষ এখানে আসেন চিকিৎসা করাতে। দিন দিন সেই মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছে।’ 
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করেনি স্টুডেন্টস হেলথ হোম। ছাত্রের চিকিৎসা করে এখানে চিকিৎসকরা এক টাকাও নেয়নি। ৩৫টি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে হেলথ হোমের। বছরে ১০ টাকা চাঁদা ছাত্রদের। একক ছাত্র সদস্য হয় না, সামগ্রী বিদ্যালয় কলেজ তার সদস্য হয়। এখানে ছাত্র ছাত্রী অসুস্থ হলে দেখাতে এলে আউট ডোরে তার কোন চিকিৎসকের ফি নেই, ওষুধ খরচ পাঁচ টাকা। ভর্তি হলে ওষুধ খরচ ১০ ছাত্র সদস্য ভর্তি হলে সব কিছু নিয়ে ৩০ টাকা বেড ভাড়া, আইসিইউ ভাড়াও একই।’

Comments :0

Login to leave a comment