অনির্বাণ দে
প্রথমে গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ। তারপরই বাংলাদেশি বলে আক্রমণ করা হলো মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের। ওড়িশার লিঙ্গরাজ থানা এলাকায় হয়েছে এই আক্রমণ। বিজেপি রাজ্যের সরকারে আসীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজে যাওয়া সংখ্যালঘু শ্রমজীবীর ওপর বারবারই এমন আক্রমণ হচ্ছে।
লিঙ্গরাজে আক্রান্ত হয়েছেন মুর্শিদাবাদের ৮ শ্রমিক। ১ শ্রমিক ভর্তি রয়েছেন ভুবনেশ্বর এইমসে। ১ জন ভর্তি রয়েছেন মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ শ্রমিক ফারাক্কার বাসিন্দা, ৩ শ্রমিক লালগোলার, ২ শ্রমিক ভগবানগোলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে হয়েছেন শ্রমিকদের এক ঠিকাদারও। ওই শ্রমিকদের বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বাড়ি ফিরে এসে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ভগবানগোলার কাশীপুরের বাসিন্দা আব্দুল আলিমকে । আব্দুল আলিম জানাচ্ছেন, এক শ্রমিক ভুবনেশ্বর এইমসে ভর্তি আছেন। তাঁরা পাইপ লাইন পাতার কাজ করেন। গত রবিবার জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের টিকিট কেটে ভুবনেশ্বর পৌঁছে ছিলেন। সেদিন রাতেই হয় হামলা।
আলিম জানান গত ২৪শে আগস্ট ওড়িশায় কাজে যান তিনি। রাত ১১টা নাগাদ ভুবনেশ্বরে পৌঁছান তিনি। রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমানোর সময় তাঁদের উপর হামলা হয়। পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশও তাঁদের মারধর করে বলে অভিযোগ।
আব্দুল আলিম বলেছেন, ‘‘ভুবনেশ্বরের মহাবীর নগরে কাজে গিয়েছিলাম। রাত ১১ টায় পৌঁছে যায় কাজের যায়গায়। আমরা ৭ জন ছিলাম। রাতে রান্না, খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ হামলায় ঘুম ভেঙে যায়।’’ তিনি বলছেন, “হামলাবাজদের হাতে লাঠি ছিল। প্রথমে পনেরো কুড়ি জন ছিল। এসেই প্রশ্ন করে, তোমরা গরুর মাংস খাচ্ছো? আমরা বলি, না। ওড়িশার স্থানীয় এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী আমাদের রান্না করেন। তিনিও বলেন ওরা গরুর মাংস খায় নি। কিন্তু তাঁর কথাও ওরা শোনেনি।’’
এরপর দেশে নাগরিকত্বের প্রমাণও দেখতে চাওয়া হয়। সব কাগজ দেখান শ্রমিকরা। কেড়ে নেওয়া হয় টাকা। এরপর শুরু হয় নৃশংস মার। আব্দুল আলিম বলছেন, “দুজন পা চেপে ধরল। একজন মাথা চেপে ধরল। লাগাতার মার শুরু হল। সবাই রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম, তাও থামেনি ”।
আব্দুল আলিম জানাচ্ছেন, লিঙ্গরাজ থানা এলাকাতেই তিনি ২০১৩ থেকেই কাজ করেন। এতদিন কোনোও সমস্যা হয়নি।
Musrhidabad Migrants Attacked
দল বেঁধে মার: মুর্শিদাবাদের শ্রমিকরা ফের আক্রান্ত ওড়িশায়

×
Comments :0