Malda

মালদহে বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম

রাজ্য

মালদহে এসআইআরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম। শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোফাক্কেরুলের পাশাপাশি এই ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তার সঙ্গী এক্রামুল বাগনিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বাগডোগরা থেকে মোফাক্কেরুল বেঙ্গালুরু পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন।
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে. জয়রামন জানিয়েছেন, ‘জনগণকে প্ররোচিত করার অভিযোগে আমরা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে আটক করেছি। আমরা এই ধরনের কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না। এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবে তদন্ত করে দেখব। মালদহের এই ঘটনার পর আমরা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সিএপিএফ নিরাপত্তা দিয়েছি।’
সম্প্রতি মালদহে এসআইআর নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে মোফাক্কেরুলের একটি উসকানিমূলক ভাষণ দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যদিও পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুলের দাবি, এসআইআরের বিরুদ্ধে যেখানে বিক্ষোভ চলছিল, সেখানে শুধুমাত্র উপস্থিত থাকার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই দাবি করেন।
উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলামের সোশ্যাল মিডিয়ায় ত্রিশ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। সিএএ, এনআরসি এবং এসআইআর-এর বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে সরব হয়েছেন। তার এই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইতাহর কেন্দ্র থেকে তাকে মিম প্রার্থী করে বলে খবর। 
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে গত বুধবার মালদহে এক বিশাল বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের একটি বিশাল উন্মত্ত জনতা বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ তিনজন মহিলা-সহ সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে ফেলে। 
টানা প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে এই বন্দিদশা চলে। অবশেষে রাত দেড়টা নাগাদ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশি পাহারায় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা তাদের গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের পাথর ছুড়তে এবং একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিতেও দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তভার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-এর হাতে তুলে দিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment