ভারতের নির্বাচনী গণতন্ত্রের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী দলগুলি।
কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া ব্লকের বেশ কয়েকটি বিরোধী দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিরোধী দলগুলির সাংসদরা জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার এই প্রস্তাবটি সংসদে পেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, ১৩০ জন লোকসভা এবং ৬৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ সহ ২০০ জনেরও বেশি সদস্য জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। সংসদের কোন সভায় এই নোটিস পেশ করা হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে
শুক্রবারই সংসদের অন্তত একটি কক্ষে এই নোটিস পেশ করা হতে পারে। যদি এটি গৃহীত হয়, তবে স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মিলে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।
আম আদমি পার্টির সাংসদরাও জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য স্বাক্ষর করেছেন। ইন্ডিয় জোট ছাড়াও, আপ সাংসদরাও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাবের নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন। তবে, আপ ইন্ডিয়া জোটের অংশ নয়। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই ধরনের নোটিশ দাখিল করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য প্রস্তুত নোটিশে বিরোধী দলগুলি বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। নোটিশে তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, নির্বাচনী কারচুপির তদন্তে বাধা এবং ব্যাপকভাবে ভোটারদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য লোকসভার কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভার ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। নোটিশ গ্রহণের পর, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি অভিযোগগুলি তদন্ত করে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে অপসারণের প্রক্রিয়ার অনুরূপ। এটি কেবল প্রমাণিত অভিযোগ বা অক্ষমতার ভিত্তিতেই সম্ভব। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রস্তাব সংসদের যেকোনো কক্ষে উত্থাপন করা যেতে পারে। এটি পাসের জন্য বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উভয় কক্ষে উপস্থিত এবং ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারা প্রস্তাব পাস হওয়ার পর, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের আদেশ জারি করেন।
Comments :0