পূজা বোস
শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, সবার জন্য কাজ থেকে মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সবার জন্য পানীয় জল থেকে গ্রামগুলির সার্বিক উন্নয়ন, উন্নত বাঁধ থেকে সবার জন্য ছাদের ব্যবস্থার কথা বলেছে সিপিআই(এম)। বলছে বামফ্রন্ট এবং সহযোগী দলগুলিও।
সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির মোকাবিলায় রুটি-রুজির রাজনীতিকে সামনে আনছে সিপিআই(এম)। বাংলাকে বাঁচানোর স্লোগান তুলছে। এই 'বাংলা বাঁচাও'-কে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইও লড়ছেন বামপন্থীরা। স্লোগান এবার, ‘আমিই বাঁচাবো বাংলা‘।
সিপিআই(এম) জনসভার পাশাপাশি বিভিন্ন দাবিকে দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। তৈরি হয়েছে পোস্টার।
এর আগে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' ও করেছিল সিপিআই(এম)। সেই সময়েও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায় গোটা বাংলাজুড়ে। সেই সময় এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন বৈঠকিসভা চলাকালীন সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে দাবিগুচ্ছ এক জায়গায় করা হয়েছে, জানাচ্ছেন বাম নেতৃবৃন্দ।
সিপিআই(এম)’র একটি পোস্টারে বলা হয়েছে মহিলাদের উন্নয়নে 'মেয়েদের ব্রিগেড' গড়ার কথা বলছে বাম দলগুলি। স্লোগান দিয়েছে, ‘সরকারি তত্ত্বাবধানে মহিলাদের অংশগ্রহণে ‘মেয়েদের ব্রিগেড’ তৈরি করব। গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘
পাশাপাশি মাইক্রোফাইনান্সের পোস্টারে স্লোগান, ‘দু’বছর ছাড়, তারপর চার’। সিপিআই(এম) বলেছে যে মানুষকে বাঁচাতে মাইক্রোফাইনান্সের সমস্ত ঋণ মুকুব করা, মাইক্রোফাইনান্স সংস্থাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা, মহিলাদের জন্য প্রথম দু'বছর বিনা সুদে ঋণদান সহ দু'বছরের পর থেকে ৪% হারে সুদ দেওয়ার ও ব্যবস্থা করা হবে।‘
গ্রাম উন্নয়নে প্রতি বছর বাড়তি ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ন্যায্য দামে ফসল কিনবে সরকার সেই সঙ্গে গ্রামের সব রাস্তার সংস্কার ও বিদ্যুতায়ন করা হবে।
সবাই যাতে বিদ্যুতের সুবিধা পান তার জন্য একশো ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফ্রী এবং পরের ১০০ ইউনিট অর্ধেক দামে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে পানীয় জলের সুবিধা যাতে সকলে পান সেই জন্য, ১০০ শতাংশ বাড়িতে জলের পাইপলাইন সহ সব কলে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্লক হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিট, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমারজেন্সি, ইউএসজি, এক্স রে সহ প্রতি ব্লকে অন্তত ৫টি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার লক্ষ জানাচ্ছে সিপিআই(এম)।
একটি পোস্টারে বলা হয়েছে ‘মেয়েরা যাবে কাজে নিজের মেজাজে।’ আরেকটি পোস্টারে বলা হয়েছে যে প্রতি বছর মূল্যবৃদ্ধি সূচক অনুযায়ী সমস্ত ভাতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সবার জন্য করা হবে কাজের ব্যবস্থাও। গ্রাম ও শহরে ২০০ দিন কাজের গ্যারান্টি। সেইসঙ্গে সরকারি পরিবহণে মহিলাদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াত থেকে সরকারি চাকরিতে মেয়েদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ করা হবে।
সেই সঙ্গে নদী ভাঙন রুখতে ১০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, জমি হারানোদের জন্য জমি সহ আবাস যোজনায় যুক্ত করে সবাইকে বাড়ি দেওয়ার ও ব্যবস্থা করবে সরকার।
Comments :0