Lok Sabha Women's reservation bill

পেশ হওয়া তিনটি বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হবে ১২ ঘন্টা, আগামীকাল ভোট

জাতীয়

মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে লোকসভায় ১২ ঘন্টা আলোচনা হবে বলে জানালেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ১৮ ঘন্টা আলোচনা করতেও রাজি সরকার। জানানো হয়েছে আগামীকাল আলোচনা শেষে বেলা ৪টে নাগাদ হবে ভোটাভুটি। এদিন সংসদে বিল পেশের সমর্থনে ভোট পড়েছে ২০৭টি, ৮৬ জন এনডিএ সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৬টি। 
বৃহস্পতিবার থেকে সংসদে শুরু হয়েছে ৩ দিনের বিশেষ অধিবেশন। বাজেট অধিবেশনের এই বিশেষ পর্বে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ ও তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই ৩টি বিল হল, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করার জন্য ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল যাতে একসঙ্গে পাস করা যায়, সেই লক্ষ্যে লোকসভার ৬৬ নম্বর নিয়মের বিধান স্থগিত করার জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করবেন আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘাওয়াল। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ পেশ করেন তিনি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ পেশ করেন। 
২০২৩’এর সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাশ হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। বিল পাশ হলেও কবে থেকে তা কার্যকর করা হবে তা নিয়ে থেকে যায় জল্পনা। কারণ ২০১১ সালের পর ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। 
মহিলা সংরক্ষণ আইনে রাজ্য বিধানসভা এবং সংসদের মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। 
উল্লেখ্য ২০০৮ সালে মনমোহন সিংহ সরকার রাজ্যসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করালেও লোকসভায় তারা তা করাতে পারেনি। সেই সময় সমাজবাদী পার্টি এবং আরজেডি’র মতো ইউপিএ শরিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি মহিলাদের জন্য আলাদা সলরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার। কিন্তু সেই সময় ইউপিএ ১ সরকার সেই দাবি মানেনি। যার ফলে লোকসভায় ঐক্যমত্যায় না আসায় বিল পাশ করতে পারেনি কংগ্রেস। তবে এই বিল প্রথম পেশ করা হয় ১৯৯৬ সালে দেবে গৌড়া সরকারের সময়। সেই সময় লোকসভা ভেঙে যাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। 
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তার প্রথম কাজ হবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ২০২৩ সালের বিলে বলা হয়েছে, প্রথমে জনগণনা হবে, তারপর তার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হবে, তারপর সংরক্ষণ চালু হবে। 
১২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া। ৮১ তম সংবিধান সংশোধনী। সিপিআই(এম) সাংসদ সোমনাথ চ্যাটার্জি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদের অনুরোধে প্রশ্নোত্তর পর্ব বাদ দিয়ে ওই বিল পেশ করার অনুমতি দেন অধ্যক্ষ পিএ সাঙমা। 
সেই প্রথম লোকসভায় পেশ হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। যেখানে বলা হলো সংসদের দুই কক্ষ সহ রাজ্য বিধানসভা গুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের করতে হবে।
সেইদিন লোকসভায় এই বিলের বিষয় আলোচনা করেন এ রাজ্যের সিপিআই(এম) সাংসদ সন্ধ্যা বাউড়ি। বাউড়ি বলেছিলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজ্যে মহিলারা সব দিক থেকেই বঞ্চনার শিকার। সমগ্র নারী সমাজের ওপর অত্যাচার ও আক্রমণ নেমে আসছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এই সংশোধনী বিলটি ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিলটি শুধু পাশ করালেই চলবে না, এর প্রকৃত বাস্তবায়নও প্রয়োজন।’’ 
সিপিআই’র পক্ষ থেকে গীতা মুখার্জি বলেছিলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ এই বিল নিয়ে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। উচিত বিলটিকে সরাসরি গ্রহণ করা।’’ 
সোমনাথ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‘এদিনই এবং এখনই এই বিলটি পাশ করানো উচিত।’’
কিন্তু সেদিন লোকসভায় এই বিল পাশ করানো যায়নি। কারণ ওই দিন লোকসভায় কোরামের অভাবে বিল পাশ করাতে ব্যার্থ হয় দেবেগৌড়া সরকার। তারপর লোকসভা ভেঙেছে বিলটিও তার অস্তিত্ত্ব হারিয়েছে।
উল্লেখ্য সেদিন কংগ্রেস (আই) সাংসদ, যিনি বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরাসরি এই বিলের বিরোধীতা করেন। তিনি বলেন, ‘‘এইভাবে চক্রাকারে সংরক্ষণের আমি বিরোধী।’’

Comments :0

Login to leave a comment