মহিলাদের ক্ষমতায়ন নয়, তিনটি বিলের মাধ্যমে দেশের সংসদীয় কেন্দ্র গুলোর মানচিত্র বদল করতে চাইছে সরকার। মহিলা সংরক্ষণ বিল সহ তিনটি বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনা বললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
বিরোধী দলনেতা বলেন, সরকার পক্ষ ভালো ভাবে জানেন যে বিরোধীরা এই বিলে সম্মতি জানাবেন। কিন্তু তাও তারা এই বিল পেশ করেছে। নরেন্দ্র মোদী দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এক ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদল করার এবং মহিলাদের কাছে প্রমাণ করার যে তিনি তাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে চিন্তিত।
রাহুল বলেন, যেই বিল পেশ করা হয়েছে আমরা তার বিরোধীতা করছি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে যেই বিল পাশ হয়েছে সংসদে সেই বিলকে আমরা সমর্থন করি।
সরকারকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘এই বিল এনে সরকার জাতি ভিত্তিক জনগণনাকে আড়াল করতে চাইছে। আমরা জানি পিছিয়ে পড়ার অংশের মহিলাদের প্রতিদিন কি কি সমস্যার মুখে পড়তে হয় সমাজে। সরকার পক্ষ সংবিধানকে মান্যতা না দিয়ে মনুবাদকে মান্যতা দিতে চাইছে।’
বৃহস্পতিবার থেকে সংসদে শুরু হয়েছে ৩ দিনের বিশেষ অধিবেশন। বাজেট অধিবেশনের এই বিশেষ পর্বে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ ও তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই ৩টি বিল হল, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করার জন্য ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল যাতে একসঙ্গে পাস করা যায়, সেই লক্ষ্যে লোকসভার ৬৬ নম্বর নিয়মের বিধান স্থগিত করার জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করবেন আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘাওয়াল। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ পেশ করেন তিনি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ পেশ করেন।
২০২৩’এর সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাশ হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। বিল পাশ হলেও কবে থেকে তা কার্যকর করা হবে তা নিয়ে থেকে যায় জল্পনা। কারণ ২০১১ সালের পর ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
মহিলা সংরক্ষণ আইনে রাজ্য বিধানসভা এবং সংসদের মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় বলেন, ‘মহিলা বিলের বিরোধিতা করেছে একটি দল। ভোটের সময় যারা এর বিরোধিতা করেছেন, মানুষ তাদের জবাব দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করছেন, মেয়েরা তাদের ক্ষমা করবে না।’
উল্লেখ্য বিরোধীদের পক্ষ থেকে কখনই মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধীতা করা হয়নি। তাদের বিরোধীতা এই বিলের সাথে ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তার প্রথম কাজ হবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ২০২৩ সালের বিলে বলা হয়েছে, প্রথমে জনগণনা হবে, তারপর তার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হবে, তারপর সংরক্ষণ চালু হবে।
Rahul Gandhi
মহিলা সংরক্ষণ বিলের নাম করে দেশের ভোট মানচিত্র বদল করতে চাইছে বিজেপি : রাহুল গান্ধী
×
Comments :0