Election North Dinajpur 2026

এক হাতেই লাল সেলাম শরিফের, লাল সুনামি করণদিঘিতে

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

করণদিঘিতে বিশাল সমাবেশের একাংশ।

বিশ্বনাথ সিংহ ও তপন বিশ্বাস: রায়গঞ্জ


হেমতাবাদের ভাটোল গ্রামে মহম্মদ সেলিম পৌছাতেই মানুষের উচ্ছ্বাস। সঙ্গে সিপিআই(এম) প্রার্থী তনুশ্রী দাস। চলছিল রোড শো। গাড়ি থেমে গেল শরিফ আনসারির জন্য।
শরিফ আনসারি বিশেষভাবে সক্ষম যুবক। দুটো পা নেই, একটা হাত নেই। এক হাতেই সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কে লাল সেলাম জানিয়ে বললেন ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই/ লড়াই করেই বাঁচতে চাই’। 


হেমতাবাদ, করণদিঘি, ইসলামপুরে সিপিআই(এম) প্রার্থীদের সমর্থনে বৃহস্পতিবার একের পর এক প্রচার সভায় বিপুল সাড়া মিলেছে জনতার। করণদিঘিতে প্রার্থী হাজি সাহাবুদ্দিনের সমর্থনে জনসভা দেখে সেলিম বলেছেন, ‘সেলিম করণদিঘিতে বলেন, প্যান্ডেল ছোট হয়েছে লোক বেশি হয়ে গিয়েছে। রসাখাওয়া ফুটবল মাঠের এই সভা প্রমাণ দিচ্ছে বাংলার আবহাওয়া পালটাচ্ছে।‘
এদিন প্রচারে অংশ নিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পলাশ দাস। করণদিঘির সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহন সিংহ। ছিলেন সিপিআই(এম) উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক আনোয়ারুল হক, পার্টিনেতা গোকুল রায়, মনিকা হেমব্রম, আশিস ঘোষ। 


সেলিম বলেন, ‘‘এখানে মুসলিম, নমঃশূদ্র, উদ্বাস্তু, আদিবাসী সবাই এককাট্টা হলে নতুন ইতিহাস লেখা যায়। আপনারা হবেন নতুন ইতিহাসের কারিগর।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘আগে বলছিল লাল ঝাণ্ডাকে ভোট দিয়ে কী হবে। এখন বলছে ভোটে জিতলে কী করবেন। প্রশ্ন পালটে গিয়েছে মিডিয়ার। উত্তরও পালটে গিয়েছে। প্রথম কাজ বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে আনা। হিন্দু-মুসলমান ঐক্যকে দৃঢ় করব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঝেঁটিয়ে বাইরে পাঠাবো। বাংলার মানুষ যাতে আগের মতো সম্প্রীতিতে দিন কাটাতে পারে তা নিশ্চিত করব।’’
সেলিম বলেন, ‘‘প্রতিদিন দাঙ্গা হচ্ছে, মা-বেনের ইজ্জত নিয়ে খেলা হচ্ছে। কাজ নেই যুবকের। পরিযায়ী হচ্ছে। তাঁরা ভাষার নামে, ধর্মের নামে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে। বিজেপি আক্রমণ করছে।’’
জনতার উদ্দেশ্যে সেলিম বলেন, ‘‘তৃণমূল বলেছিল বিজেপি-কে আটকাবে। বামফ্রন্ট সরকারের সময় বিজেপি ছিল? 
সমস্বরে জবাব জনতা ‘না‘।
প্রশ্ন সেলিমের, তা’হলে কোত্থেকে এল?
ফের জনতার জবাব, ‘দিদি নিয়ে এল‘।
সেলিম বললেন, ‘‘খাল কেটে কুমির আনার মতো করে বিজেপি-কে নিয়ে এসেছেন। তাই এবার যখন বিদেয় করতে হবে মমতা এবং মোদীকে একসঙ্গে বিদায় করতে হবে।’’


এদিন একের পর এক এলাকায় সিপিআই(এম)-কে ঘিরে আবেগ দেখা গিয়েছে বারবার। হেমতাবাদে প্রবীণ মহিলা নেত্রী জ্যোৎস্না দাস বড্ড অসুস্থ অবস্থাতেও ফুলের স্তবক দিয়ে নেতৃত্বকে সংবর্ধনা দিলেন। 
লালঝাণ্ডার জয় আসবেই বললেন মসলন্দপুর কুস্তল গ্রামে কাকতরি খাতুন। মমতা নাম কেটেছে, লালঝাণ্ডা জিতলে সব নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম তোলার কাজ করতে হবে। 
সন্ধ্যায় ইসলামপুর বাসস্টান্ডে সিপিআই(এম) প্রার্থী সামি খান ওরফে রাজুর সমর্থনে নির্বাচনী সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল করিম। বক্তব্য রাখেন আর এস পি জেলা নেতা জাহিরুদ্দিন,  সি পি আই নেতা পবন যাদব, আনোয়ারুল হক, পলাশ দাস প্রমুখ।
এখানে সেলিম বলেন, ‘‘মন্দির মসজিদ নয় কাজের কথা বলো।
একশো দিনের কাজের কথা বলো, মজুরির কথা বলো।
লাল ঝান্ডার কারণে আজকে মোদী, অমিত শাহ , যোগীকে কাজের কথা বলতে হচ্ছে, মিথ্যা হলেও। মমতাকেও আর মন্দিরের কথা বলতে হচ্ছে না, বলতে হচ্ছে কাজের কথা, শিক্ষার কথা।’’
সেলিম বলেন, ‘‘এটা এখন দরকার রুটি রুজি, জীবন ও জীবিকার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসা। সেই লক্ষেই বামপন্থীরা লড়াই করছে। বামপন্থীরা দুর্বল হওয়া মানে কৃষকের ফসলের দাম না পাওয়া। সারের দাম কালো বাজারি হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যে উন্নতমানের বীজ দেওয়া হতো তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে। কীটনাশক, সার, বীজ বহুজাতিক সংস্থার থেকেই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।’’
ইসলামপুরে পলাশ দাস বলেছেন, ‘‘মানুষ বলছেন যে এক নম্বরে হাজি সাহবুদ্দিন। বিজেপি-তৃণমূল কোনও বুথে নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ কানে কানে বলছে বামপন্থীদের ভোট দিলে তৃণমূল জিতবে। আবার কেউ বলছে বিজেপি জিতবে।
বিজেপি’র যে প্রাক্তন সভাপতি বলছেন আপনি বিজেপি-কে ভোট দিন, না পারলে তৃণমূলকে দিন, বামপন্থীদের দেবেন না। শওকত মোল্লা তৃণমূলের, সে বলল, তৃণমূলকে না দিতে পারলে বিজেপি-কে দাও। 
মনে রাখবেন যারা বলছে ত্রিশঙ্কু বিধানসভার কথা, তাদের মনে রাখতে হবে, আগে তৃণমূল-বিজেপি সরকারে থেকেছে, এখন মুসলিম ভোটের জন্য নাটক করছে, ফের একসঙ্গে সরকারকে টিকিয়ে রাখবে।’’
দাস বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে বামপন্থীরা কৃষকের, শ্রমিকের, জমির লড়াইয়ে বামপন্থীরা। বাংলায় এবং দেশে। সেই লড়াইয়ের উত্তরাধিকারী বামপন্থীরা।’’ 

Comments :0

Login to leave a comment