দীপশুভ্র সান্যাল: রাজগঞ্জ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েত সহ রাজগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত সদর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ এলাকায় জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী খরেন্দ্রনাথ রায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কৃষি সঙ্কট, অবৈধ বালি-পাথর পাচার, সন্ত্রাস ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
প্রচারের ময়দানেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এলাকার জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। এই বিধানসভা কেন্দ্রে চারবার জয়ী তৃণমূল নেতা খগেশ্বর রায়কে প্রার্থী না করায় দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাঁর পরিবর্তে এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করা নিয়ে একাংশ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই গেরুয়া শিবির।
বাম শিবির সংগঠিতভাবে প্রচার বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় খরেন্দ্রনাথ রায়ের গ্রহণযোগ্যতা এলাকায় যথেষ্ট। প্রচারে গিয়ে তিনি সরাসরি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। স্থানীয় কৃষক গোপাল রায় বলেন, ‘আলুর ন্যায্য দাম পাচ্ছি না, হিমঘরের অভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে।‘
চা বাগানের শ্রমিক রোজ মেরি তিরকি জানান, “মজুরি বাড়ছে না, উপরন্তু নানা চাপ বাড়ছে।”
এছাড়াও নলবাহিত পানীয় জল, আবাসন, গ্রামীণ রাস্তার বেহাল অবস্থা, জমির খতিয়ান না পাওয়া, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক সমস্যার কথা উঠে আসে প্রচারে। রানিনগর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের অভিযোগ, শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের দাদাগিরি ও ভয় দেখানোর কারণে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শুধু শ্রমিক নয়, ঠিকায় নিযুক্ত পরিবহণ শ্রমিক, মালিক, এমনকি, বাইরে থেকে কাজ করতে আসা উচ্চপদস্থ কর্মীদের থেকেও নিয়মিত তোলা আদায় করে তৃণমূল।
নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়।
বামপন্থী দলসমূহ ও আইএসএফ সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী খরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘মানুষের সমস্যা শুনেই আমরা লড়াই করছি। বামফ্রন্টের ইশ্তেহারে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল দেড়গুণ দামে সরাসরি ক্রয়, আলু ও চা চাষে বিশেষ সহায়তা, সারের দাম কমানো এবং কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।‘
তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৭০০ টাকা করা, ১০০ দিনের কাজ বাড়িয়ে ২০০ দিন করা, চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান এবং তোলাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ করার লক্ষ্যে লড়াই বামপন্থীদের।
Comments :0