চাষের খরচের সঠিক খরচ হিসেব করে কৃষককে সহায়ক মূল্য দেওয়ার আবেদনে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারগুলিকে নোটিশ পাঠিয়ে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কৃষকরা ভয়ঙ্কর সঙ্কটে রয়েছেন। ফসল বিক্রি করে এমনকি চাষের খরচও উঠছে না। যে কারণে দেশজুড়ে কৃষক আত্মহত্যা হয়ে চলেছে। গত পাঁচ বছরে কেবল মহারাষ্ট্রেই ১৭ হাজার কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির মধ্যে কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর কথাও বলেছে। বলা হয়েছে যে ফসলের সহায়ক মূল্য বা এমএসপি বাড়ানো হবে ধান, আলু, আম, পাট ও চা-সহ বিভিন্ন ফসলে। কৃষকদের উন্নতমানের সার ও বীজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু দেশে বারো বছর সরকার চালিয়েও কৃষকদের মূল সঙ্কটের নিরসন করতে পারেনি বিজেপি। বরং সঙ্কট আরও বেড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়ালে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন, এমএস স্বামীনাথন কমিশন সুপারিশে বলেছিল যে খরচের ওপর ৫০ শতাংশ যোগ করে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিক করতে হবে। যাতে কৃষি জীবিকা হিসেবে আয় নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর সরকারি হিসেবে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কমিয়ে ধরা হচ্ছে। কারণ কৃষকের সব খরচকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গে ফসলের দাম না পাওয়ার সমস্যায় এখন সবচেয়ে বেশি ভুগছেন আলুচাষিরা।
উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর, রাজ্যের মানচিত্রের সর্বত্র সেই ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ধরেছে চাষের খরচের তুলনায় কমিয়ে, এই অভিযোগে রাস্তায় নামছেন কৃষকরা।
আবেদনে বলা হয়েছে যে ফসলে সহায়ক মূল্য দেওয়ার ঘোষণা করা হচ্ছে ইচ্ছুক কৃষকদের থেকে তার সবটা কিনতে হবে সরকারকে। কৃষকের সব ফসল সরকার কিনছে না। ধান এবং গমের বেশিরভাগটা সরকারি সংগ্রহ হয়, বাকি ফসল কেনার ক্ষেত্রে সামান্যই দায়িত্ব নেয় সরকার।
রাজ্যের ক্ষেত্রেও সারা ভারত কৃষকসভা সরকারি সংগ্রহে বেনিয়মের অভিযোগে সরব। রাজ্যে কৃষকদের থেকে ২৫ বস্তার বেশি ধান এবার নেয়নি সরকার। একেক বস্তায় ধরে ৬০ কেজি ধান। পাঁচ বিঘে জমিতে প্রায় ৭০ বস্তা ধান হয়, জানাচ্ছেন কৃষকরা। বাকি ধান বিক্রি করতে হয়ে কম দামে ফড়েদের কাছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার ধান কিনতে নামেও দেরিতে। কৃষককে দাদন নিয়ে চাষ করতে হয়। ফলে অভাবি বিক্রিতে বাধ্য হন কৃষক। সে সময় কম দামে বিক্রি করতে হয় ফড়েদের কাছে। শোধ করতে মহাজনের ঋণ।
কেন্দ্রের পাশাপাশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের মামলায় রাজ্যগুলির জবাবও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সহায়তায় সমস্যা আরও বাড়বে। আমেরিকার কৃষি ও ডেয়ারি পণ্যে আমদানি শুল্ক হয় কমানো নয় মকুবের পথে যাওয়া হচ্ছে। ফলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানো জরুরি। কৃষকের থেকে ধান এবং গম ছাড়াও অন্য ফসল সংগ্রহ করা জরুরি। সরকার তা করে না। রেশনে দেওয়া হয় কেবল গম এবং ধান। ফলে অন্য খাদ্য শস্য চাষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
MSP Supreme Court
সরকারি দামে ওঠে না চাষের খরচও, কেন্দ্র-রাজ্যকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের
×
Comments :0