দেখেছিলেন কারখানার গেটে আন্দোলন করতে। তাঁকে রাস্তায় ফল বিক্রি করতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন যুবতী, পেশায় সাংবাদিক। মজুরির লড়াই থেকে তোলাবাজি, সবই ধরা পড়ছে কথোপকথনে। আর তাই নিয়েই নাট্যধর্মী ছোট্ট ভিডিও উপস্থাপনা।
ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ, পশ্চিমবঙ্গের প্রচারে এবার গুরুত্ব পেয়েছে ভিডিও উপস্থাপনা। সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে প্রচারে মিলছে ভালো সাড়াও। গণনাট্য সঙ্ঘ বরাবরই মেহনতির লড়াইয়ের কথাকে সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে হাজির করেছে। এবার সেই দক্ষ কর্মীরাই কথা তুলে ধরছেন সোশাল মিডিয়ায়। এমন একাধিক ভিডিও দেখা যাচ্ছে ফেসবুক পেজ ‘আইপিটিএ ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এ।
দেশে বামপন্থী শক্তি বারবারই বলছে যে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির অঙ্গনে লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বের। এ রাজ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো শক্তি। দুর্নীতি কেবল নয় বিভাজনের রাজনীতিকেও হাতিয়ার করেছে। ফলে আরএসএস’র দুই দলের বিরুদ্ধে এ রাজ্যে লড়াই বামপন্থীদের। বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করতে জীবন জীবিকার দাবি, সেই সঙ্গে সম্প্রীতি এবং ঐক্যকে হাতিয়ার করেছে বামপন্থীরা। গণনাট্য সঙ্ঘের প্রচারে মেহনতির একজোটে দাবি আদায়ের লড়াইকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠে ময়দানে বামপন্থীদের পক্ষে বরাবরের মতোই সংস্কৃতিক কর্মসূচিও করছেন গণনাট্য সঙ্ঘের কর্মীরা।
ভিডিও দেখাচ্ছে, ফল বিক্রেতা আগে কারখানার শ্রমিক ছিলেন তবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেটের দায়ে ফল বিক্রি করেন তিনি। ছেলে বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়ে এক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়। সব শেষে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, "যারা কাজ দিয়ে তোলা চায়, হকের কথা বললে যারা কাজ কেড়ে নেয়, পরিযায়ী শ্রমিক যদি কাজ করতে গিয়ে মারা যান তাহলে তার দায় কার?"
কখনও গানের মাধ্যমে আবার কখনও নাট্যধর্মী উপস্থাপনায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে দুই শাসকদলের দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা।
আবার একটি ভিডিও-তে র্যাপ গানের কথায় উঠে এসেছে, ".... নিজের মনের কাছে প্রশ্ন কি করেছো?\... তোমার অধিকার কিভাবে চুরি হয়ে যায়" আবার একটা লাইনে বলা হচ্ছে, " একবারও কি ভেবেছো,কেন গোটা শিক্ষার দপ্তর জেলে গেল?মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ৪৯ কোটি থরে থরে সাজানো টাকা বেড়োলো।"
আবার কীর্তনের সুরে একটি গানের কথায় উঠে এসেছে, " টাটাকে তাড়িয়ে,গুজরাটে পাঠিয়ে, বাংলা ভাসায় জলে\ইস্কুল কলেজ ফাঁকা..."। ব্যবহার করা হয়েছে কবিগানের আঙ্গিক।
গানগুলিতে কথা এবং সুর দিয়েছেন কঙ্কন ভট্টাচার্য, গোপাল অধিকারী এবং অভিনয় করেছেন গণনাট্যের কর্মীরা।
Comments :0