ট্রাইব্যুনাল থেকে নিষ্পত্তির পর বাদ পড়া ভোটারদের কতজন শেষ পর্যন্ত ভোটদানের অধিকার ফিরে পেলেন? মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ তথ্য জানাতে পারেনি কমিশন।
মুর্শিদাবাদের লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের এক শিক্ষিকার কথায়, ‘‘আমার ভাই বিচারাধীন থেকে বাদ পড়েছেন। ট্রাইব্যুনালে অনলাইন আবেদনও করেছেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত তালিকায় আছেন কিনা জানা যায়নি।’’ কার্যত মুর্শিদাবাদ জেলার একজনও বাদ পড়া ভোটারের নাম রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।
রাজ্যের প্রথম দফার ১৬টি জেলার ১৫২ আসনে বিবেচনাধীন থেকে বাদের তালিকায় আছেন ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৮১ জন ভোটার। এদিন শেষ হয়েছে প্রথম দফার ভোটের প্রচার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী ভোটারদের মধ্যে ভোটার হিসাবে যাঁরা বিবেচিত হবেন তাঁদের জন্য অতিরিক্ত তালিকা কমিশনের প্রকাশ করার কথা। এদিন রাত পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে সরকারিভাবে কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
কমিশনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ‘‘ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের হাতে বিচারধীন পর্বে বাদ পড়া সব ভোটারদের তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসার যোগাযোগ রাখছেন।’’ এরআগে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি চিহ্নিত ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির দায়িত্ব ছিলেন ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের নিষ্পত্তির পর কমিশনের পক্ষ থেকে গভীর রাতে তালিকা প্রকাশিত হতো। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে এদিন ১৬ জেলার ১৪ লক্ষাধিক ভোটার তাকিয়ে আছেন কমিশনের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের দিকে। শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটাধিকার ফিরে পাচ্ছেন তা জানতে বুধবার সকাল হয়ে যাবে। কমিশনের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটাধিকার পাওয়া ভোটারদের হাতে বুধবারের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও’দের তুলে দিতে হবে ভোটার স্লিপ।
প্রথম দফার ভোটের ১৬ টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার বাদ পড়া আছেন মুর্শিদাবাদে। বিধানসভা কেন্দ্রের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় বাদ পড়েছেন ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন বিচারাধীন ভোটার! লালগোলা বিধানসভায় বাতিল হয়েছে ৫৫ শতাংশের বেশি বিচারাধীন ভোটার। বাতিল ভোটারের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪২০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাদ পড়া ভোটার আছেন মালদহ জেলাতে। তারপরই উত্তর দিনাজপুর জেলায় বাদ পড়া ভোটার। বিচারাধীন থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কোচবিহার(দক্ষিণ) কেন্দ্রেই আছে ৭৭.১৬ শতাংশ ভোটার। কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রে ৭৫.৭৯ শতাংশ। মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ বিধানসভা ও লালগোলা বিধানসভায় বিচারাধীন থেকে বাদ পড়ার শতাংশের হার যথাক্রমে ৬৯ শতাংশ ও ৫৬ শতাংশ। বাদ পড়া ভোটারদের জনবিক্ষোভে আছড়ে পড়েছিল মালদহের মোথাবাড়ি কেন্দ্রে। যে ঘটনায় বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী বর্তমানে এনআইএ’র হেপাজতে। সেই মোথাবাড়িতে বাদ পড়ার হার ৪৬.৭৫ শতাংশ।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে কলকাতার জোকায় জলশক্তি মন্ত্রকের ভবনে কাজ শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনালের ১৯ জন বিচারপতি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির জন্য একটি সাধারণ নিয়মাবলী তৈরি করা হবে। সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনালে ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তাঁদের কতজনের প্রথম দফার ভোটের আগে নিষ্পত্তির পর অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হয় সেটাই এখন দেখার।
গত সোমবার শীর্ষ আদালতে ট্রাইব্যুনালের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভিপুল এম পাঞ্চলীর বেঞ্চে একটি মামলা ওঠে। আইনজীবীর মৌখিক অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে রিপোর্ট চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের ভোটের দিন বাদ পড়া ভোটাররাই যে কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ভোটের সামনে বাধা হতে তা নিয়ে আশঙ্কায় প্রশাসন। সেই কারণে যে সব বুথে ব্যাপক হারে ভোটারদের নাম বাদ গেছে সেখানে বাড়তি সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে কমিশন। যার মধ্যে অন্যতম বাদ পড়া ভোটাররা যেন কোনোভাবেই বুথের ত্রিসীমানায় আসতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বলেছে কমিশন।
Voter List
প্রথম দফায় বাদ ১৪ লক্ষাধিক
×
Comments :0