Md Salim and Dipankar Bhattacharya

গণতন্ত্র ফেরাতে বিকল্প বামপন্থীরাই, রাসবিহারির জনসভায় বললেন সেলিম-দীপঙ্কর

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

রাসবিহারির জনসভায় বৃহত্তর বাম ঐক্যের বার্তা মহম্মদ সেলিম, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের।

পূজা বোস ও অরিজিৎ মণ্ডল

নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে নেমেছে বিজেপি। সেই জন্য এসআইআর। আর ভোটের আগে রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরানোর বক্তৃতা দিচ্ছে। রাজ্যে গণতন্ত্র আক্রান্ত তৃণমূল সরকারের শাসনে। তাকে ফেরাতে হলে বিকল্প বামপন্থীরাই।
মঙ্গলবার কলকাতার রাসবিহারিতে নির্বাচনী জনসভায় এই মর্মে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।
এদিন রাসবিহারি কেন্দ্রের বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন-র প্রার্থী মানস ঘোষর সমর্থনে জনসভা হয়। বক্তব্য রাখেন লিবারেশনের কলকাতা জেলা সম্পাদক অতনু চক্রবর্তী প্রমুখ।
এদিন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন , পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বাংলায় পরিবর্তন দেখেছি অনেক, তবে এবারের মতো ভোট আমরা কখনও দেখিনি। বাংলাকে দখল করার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে কেউ যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন তা দেখা। তবে এখন কাজ হয়েছে যত বেশি সম্ভব নাম বাদ দেওয়া যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট এই প্রথম।
তিনি বলেন, লালকেল্লায় বোমা বিস্ফোরণে হলে সামরিক বাহিনী পাওয়া যায় না। কিন্তু ভোটের আগে এরাজ্য সামরিক ছাউনিতে পরিণত হয়েছে। 
তিনি বলেন যে তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণের নাম করে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে চাইছিল কেন্দ্র। তার কারণ আসনের সীমানা এমন করে বেঁধে দাও, যাতে বিরোধীরা না জিততে পারে। 
তিনি বলেন, বাংলাকে বিজেপি-র হাতে তুলে দেবেন না। এদের প্রত্যাখান করুন। বাংলার শ্রমিককে বাংলাদেশী বলে তাদের ওপরে অত্যাচার নামানো হচ্ছে। নয়ডায় কি হচ্ছে, ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে। 
দীপঙ্কর ভট্টচার্য বলেন, ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারে রয়েছে। কিন্তু এখানে সব নেতাদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ। আর তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ বেকার যুবদের। অভয়া ঘটনা ঘটল। এখন মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে গলা ফাটানো হচ্ছে। কিন্তু মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে কোন কথা নেই দুই সরকারের মুখে।
সেলিম বলেন, এসআইআর-র আবহে এই নির্বাচন। কমিশন নির্ভুল ভোটার লিস্ট তৈরি করতে পারল না। বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার ‘রোহিঙ্গা‘ বলছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বললেন আসামের মতো করতে হবে বাংলাকে। আসামে ওরা রবীন্দ্রনাথের গান বন্ধ করেছে। 
তিনি বলেন, বিজেপি জন্মানোর আগে থেকে বাংলার উপর আঘাত নামানো হয়েছে। আমরা এখানে লড়াই করেছি মানুষের অধিকারের জন্য- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান নিয়ে। এখানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে কিছু হবে না। সেটা বুঝতে বুঝতে পেরে ওঁরা ‘রোহিঙ্গা‘, ‘জেহাদি‘ বলে প্রচার করছে। এই বিষের চাষ করে আজ বাংলাকে কোথায় দাঁড় করানো হয়েছে। 
সেলিম প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে? আমরা ছিলাম তৃতীয় বিশ্বের নেতা। আমরা বলেছিলাম আমেরিকার লেজুর বৃত্তি করা যাবে না । তিনি বলেন,  যে যে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার সেখানের অবস্থা কি? কৃষকের ফসলের দাম নেই সেখানেও। 
সেলিম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম মানুষের দাবি নিয়ে ভোট হোক আর ওরা ধর্ম নিয়ে ভোট করতে চেয়েছে। জ্ঞানপাপী জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে নেমেছে। আর এখন বিজেপি বলছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। ধর্মকে বর্ম বানিয়ে অপকর্ম করা হয়েছে। 
সেলিম বলেন, বিধানসভায় বিরোধী সাজানো হলে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করলে ফেল করে। জনপ্রতিনিধিরা ফেল করলে তখন গুন্ডারাজ, দুর্নীতির রাজ হয়। তিনি বলেছেন যে সেই কারণেই মানুষের প্রকৃত চাহিদা নিয়ে রাজনীতি করে এমন জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচন করা জরুরি।
সেলিম বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূলকেও আজ শিক্ষা, কর্মসংস্থানের কথা বলতে হচ্ছে। এটি বামপন্থীদের একটা জয়। রাজ্যজুড়ে জোরদার হচ্ছে এই দাবি। মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য আমাদের একসঙ্গে নামতে হবে। লালঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে ।

Comments :0

Login to leave a comment