মেহতাব হোসেন
কিলিয়ান এমবাপে (২), আর্লিং হালান্ড (২) ও লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক। স্বভাবতই গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দিকে। মেসি ও তিনি দু’জনই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। বিশ্বকাপ জেতার শেষ সুযোগ রোনাল্ডোর কাছে। সবাই আশা করেছিল, তেড়েফুঁড়ে ঝাঁপাবেন রোনাল্ডো। বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স আশানরূপ নয়। রোনাল্ডোর থেকে আরও ভালো খেলার আশা করেছিলাম। চেষ্টা করেছে ঠিকই। দল রোনাল্ডোর থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স আশা করবে দ্বিতীয়ার্ধে। জোয়াও ক্যান্সেলো, রোনাল্ডোর উদ্দেশ্যে একটা থ্রু বল বাড়িয়েছিল। কিন্তু একচল্লিশের রোনাল্ডো সেই বলটা ধরতে পারলো না। সেরা সময়ের রোনাল্ডো কিন্তু একশোর মধ্যে নব্বইবার ওই বল ধরে নিতো।
রোনাল্ডোর মতোই পর্তুগালের খেলা সেভাবে ভালো লাগেনি। দলটায় এত প্রতিভা। ভারসাম্য-গভীরতা। কিন্তু সেভাবে খেলতে পারছে না। প্রচুর পাস খেলছে ঠিকই। স্পেনের মতোই পেনিট্রেশনের অভাব রয়েছে পর্তুগালের খেলায়। বিপক্ষের ডিফেন্সিভ থার্ডে গিয়ে সেভাবে মারণ কামড় বসাতে পারছে না। ম্যাচের ছ’মিনিটে পেড্রোর নেটোর সেন্টার থেকে শূন্যে অনেকটা লাফিয়ে কম উচ্চতার জোয়াও নেভেস আনমার্কড অবস্থায় দুরন্ত হেড করে দলকে এগিয়ে দিলো। ওই গোলের মুভ ও নেভেসের হেড ছাড়া পর্তুগালের খেলা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। নজর কাড়ার মতো আরও কোন মুহূর্ত তৈরি করতে পারেনি আ সেলেকাওরা।
মাঝমাঠে ও কঙ্গোর ডি বক্সের কাছে সৃজনশীলতার অভাব প্রকট হল। কারণ, মাঝমাঠে ভিটিনহা ও ব্রুনো ফার্নান্ডেজ স্বমহিমায় খেলতে পারছে না। ব্রুনোকে গোটা বিশ্ব অ্যাসিস্ট কিং হিসেবে চেনে। এবারের প্রিমিয়ার লিগে থিয়েরি অঁরি ও কেভিন ডি ব্রুইনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গোটা প্রথমার্ধে ওর পা থেকে কোনও ভালো থ্রু দেখতে পেলাম না। পর্তুগালকে এই ম্যাচ বের করতে হলে ভিটিনহা ও ব্রুনোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বাড়তি লোড নিয়ে খেলতে হবে। নজর কাড়লেন কঙ্গোর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুথুস্বামী। কী খেলছে ছেলেটা। পুরো মাঝমাঠকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে। মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে একাই খেলা নষ্ট করে দিচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন ফুটবলার এভাবে খেলছে, সেটা দেখে একজন ভারতীয় হিসেবে ভীষণ গর্ব অনুভব হচ্ছে। ওর খেলা মনে করিয়ে দিচ্ছে ফ্রান্সের এনগোলো কান্তে, ম্যাকলেলেকে। বল যেখানে সেখানেই মুথুস্বামী। কঙ্গো গোল হজম করার পরেও নিজেদের অর্ধে থেমে থাকেনি। প্রতি আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। তার ফল পেল প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। সেটপিস গোল করে ম্যাচে সমতায় ফিরে আনল ওরা। মাসুয়াকুর কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করল ইউয়ানে উইজা। শুরুতে কঙ্গো গোল না হজম করলে প্রথমার্ধে ওরা এগিয়ে শেষ করতে পারত। বেশিরভাগ সময়ই দাপট ছিল কঙ্গোর।
কঙ্গো কিন্তু কেপ ভার্দের মতো লো-ব্লক করে খেলছে না। ওরা মিড ব্লক করে, মাঝমাঠেই পর্তুগালের আক্রমণ থামিয়ে দিচ্ছে। পর্তুগাল অ্যাটাকে গেলেই পায়ের জঙ্গল তৈরি করে ফেলছে কঙ্গো। আর পর্তুগালের আক্রমণগুলি ডানদিক বরাবর হচ্ছে। কিছুটা নুনো মেন্ডেস ও পেড্রো নেটো চেষ্টা করছে গোলের মুভ তৈরি করা বা নিখুঁত মাইনাস করার। তবে কঙ্গোর দুই সেন্টার ব্যাকের মধ্যে এত ভালো বোঝাপড়া, সমস্ত বল ক্লিয়ার করে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালকে গোল করতে বিপক্ষের ডিফেন্সিভ থার্ডে আরও ম্যান বাড়াতে হবে। বিহাইন্ড ডিফেন্স রান নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। সর্বোপরি জ্বলে উঠতে হবে রোনাল্ডো সহ বাকিদের। প্রতিবেদন লেখা অবধি, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া ঝাঁপায় পর্তুগাল। ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর দুর্ধর্ষ গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হল। কয়েক মিনিটের মধ্যে উইজার শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। না হলে কঙ্গোও এগিয়ে যেতে পারতো ম্যাচে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফলাফল ১-১।
FIFA World Cup 2026
নজর কাড়তে ব্যর্থ পর্তুগাল, রোনাল্ডোও
×
Comments :0