রুহুল আমিন: রামপুরহাট
একের পর ট্রেন ঢুকছে রামপুরহাট স্টেশনে। প্রতিটি ট্রেন থেকে বাদুড়ের মত ঝুলে ঝুলে যাত্রীরা নামছেন স্টেশনে। তারা সবাই পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোট, তাই সবাই বাড়ি ফিরছেন। এমনি দৃশ্য দেখা গেল রামপুরহাট স্টেশনে।
পরিযায়ী শ্রমিকরা প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে শুনছেন কোনও বাস নেই। সব বাস তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে পরিযায়ী শ্রমিকরা পড়ছেন মহা ফাঁপরে।
বাসের খোঁজে উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকা সাদ্দাম শেখ, বানু শেখরা জানালেন যে তাঁদের বাড়ি কারও নলহাটি কারও মুরারই বা লোহাপুর। পাইকর, মিত্রপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলার বহুতাল, সুতি ও রঘুনাথগঞ্জ এলাকাতেও যেতে হবে তাঁদের কয়েকজনকে।
তাঁরা বললেন, ‘‘মুম্বাই মেলে হাওড়ায় নেমেছি। তারপর হাওড়া থেকে রামপুরহাট এসে নেমে দেখছি কোনও বাস নেই। এদিকে টোটো ও অটো চালকরা বেশি ভাড়া চাইছেন। কী করবো বলুন, এখন যা চাইবে সেই ভাড়া দিতে হবে।‘‘ তাঁরা বললেন, ‘‘কত কষ্ট করে এলাম কেউ চেন্নাই ও মুম্বাই থেকে। এখানে কাজ থাকলে কি আমরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতাম! পেটের দায়ে সংসার ছেড়ে ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করি। বিজেপি সরকার বলছে তারা নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য স্পেশাল ট্রেন দিয়েছে। সব বাজে কথা। জেনারেল কোচে গোরু-ছাগলের মতো আসতে হয়েছে আমাদের। ট্রেনের টয়লেটে ছিল না জল। দূর্গন্ধে টেকা দায়। এদিকে এখানে দেখছি বাস নেই। গরিবের জন্য কেউ ভাবে না।’’
তিন মাস আগে এসআইআর এর জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। এবার যখন ভোট দিতে আসছেন তখনও হয়রানি। তাঁরা বলছেন, হয়রানির জবাব ভোটে পড়বেই।
Comments :0