West Bengal Election Tufanganj

লাল ঝাণ্ডাতেই ভরসা ভাঙ্গন কবলিত তুফানগঞ্জের

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

অমিত কুমার দেব: তুফানগঞ্জ
প্রতিবছর বর্ষা এলেই সংকোশ নদীর জলস্ফীতি তছনছ করে দেয় কোচবিহার-আসাম সীমানা ঘেঁষা পূর্ব ফলিমারি গ্রামকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি সাম্প্রতিক বন্যায় জলমগ্ন ছিল গোটা গ্রাম সহ ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, এমনকি বিঘের পর বিঘে চাষের জমি। ফসল নষ্ট, গৃহস্থের ক্ষতির পাশাপাশি এই গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। সংসার প্রতি পালনের লড়াইয়ের পাশাপাশি বন্যার ক্ষত মুছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করতে করতে আজ ক্লান্ত তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ফলিমারি, ভানুকুমারি- ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছিটবড় লাউকুঠি একাধিক এলাকা বাসিন্দারা। বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের পাশে দাড়াঁয়নি তৃণমূল কিংবা বিজেপি। বিগত পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ক ঘুরেও তাকাননি তাদের দিকে। তাই এবার সিপিআই(এম) প্রার্থী ধনঞ্জয় রাভার ওপরেই আস্থা রাখছেন তুফানগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত এই ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অসহায় মানুষেরা।
সংশ্লিষ্ট এই এলাকার পার্শ্ববর্তী বক্সিরহাটে সোমবার সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় ও পার্টি নেতা জীবেশ সরকার সহ সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের সুসজ্জিত মিছিল নিয়ে প্রচার করেন সিপিআই(এম) প্রার্থী ধনঞ্জয় রাভা। এদিন লাল ঝান্ডার এই প্রচার এই এলাকার মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তুফানগঞ্জ ২নং ব্লকের পূর্ব ফলিমারি এলাকায় সংকোশ নদী কার্যত জেলা ও ব্লক থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে গোটা গ্রামটিকে। সংকোশ নদী যেভাবে বসত ভিটের দিকে এগিয়ে আছে, হয়তো বাসিন্দাদের শেষ সম্বলটুকু আর থাকবে না। এলাকার বাসিন্দারা বাঁধের দাবিতে বারংবার প্রশাসনকে জানানোর পরও কোন সুরাহা মেলেনি। তবে এই অবস্থায় দ্রুত যদি বাঁধ না দেওয়া হয়, তবে নদীগর্ভে চলে যাবে তাদের সবটুকুই।
এই সংকোশ নদী ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত ও তুফানগঞ্জ ২নং ব্লক এমনকি জেলা থেকেও গোটা পূর্ব-ফলিমারী গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। গ্রামবাসীদের নদী ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেও এখনও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়নি এলাকায়। এবছর বর্ষার শুরুতেই প্রায় দেড় কিলোমিটার ভাঙন দেখা দেয় সংশ্লিষ্ট এই এলাকায়। এই এলাকায় সংকোশ নদী ভাঙ্গন সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর আগে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বহু কৃষি জমি সহ বসতভিটে। ভাঙনের ফলে অস্তিত্বের সংকটে অসংখ্য কৃষিজীবী পরিবার। সংকোশ নদী যেভাবে ক্রমশ বসতির দিকে এগিয়ে আসছে, তাতে গ্রামের বাকি বসতভিটেটুকুও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।       প্রশাসন থেকে এর আগেও কয়েকবার এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। এই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। এব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সীমাহীন সংকটের সম্মুখীন হবে তাঁরা। তাই লাল ঝাণ্ডাতেই ভরসা রাখছেন এই ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অসহায় গরিব মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment