Detention Center

মুম্বাইয়ে চালু প্রথম ডিটেনশন সেন্টার

জাতীয়

মুম্বাইতেও চালু হয়ে গেল ডিটেনশন সেন্টার। প্রায় দু’বছর আগে প্রস্তাবিত হওয়ার পর মুম্বাইয়ে ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের জন্য প্রথম ডিটেনশন সেন্টার চালু হয়েছে। মধ্য মুম্বাইয়ের ভোইওয়াড়ায় অবস্থিত এই ‘স্থিতিবদ্ধতা কেন্দ্র’-এ বর্তমানে প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে, যাঁদের দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এতদিন কেন্দ্রটি ব্যবহার করা যায়নি। অভিযুক্তরা ফৌজদারি মামলার আসামি না হওয়ায় তাঁদের জেলে রাখা যাচ্ছিল না, ফলে পুলিশকেই বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছিল। ২০২৫ সালেই এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক ও ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে পুলিশ, যাঁদের অনেককে অস্থায়ীভাবে থানাতেই রাখা হয়েছিল।
গত ২৬ মার্চ থেকে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ জন। সমাজকল্যাণ দপ্তর এর দায়িত্ব নিয়েছে। ভেতরে মহারাষ্ট্র স্টেট সিকিউরিটি ফোর্সের নিরাপত্তা রয়েছে এবং বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


দু’তলা ভবনে প্রতিটি তলায় ২০টি করে ঘর রয়েছে, যেখানে বাঙ্ক বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা অংশ রাখা হয়েছে— ৬০ জন পুরুষ ও ২০ জন মহিলার জন্য জায়গা নির্ধারিত। প্রশাসনের দাবি, খাদ্য, শৌচাগার ও শোয়ার ব্যবস্থার মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের সীমান্তে পাঠানো পর্যন্ত এখানেই রাখা হবে।
তবে বাস্তবে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে ধরে জায়গা বরাদ্দ করা হলেও, মহিলার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু মহিলাকে থানায় রাখতে হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পরিবর্তনের কথা ভাবছে প্রশাসন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে ১,০৬০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে—এর মধ্যে মুম্বাই পুলিশ ২২০ জন এবং অন্যান্য ইউনিট ১৮০ জনকে আটক করেছে। যদিও ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, প্রশাসনের দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে, ফলে চাপ কমবে।


কেন্দ্র চালু করতে দেরির পিছনে ছিল দপ্তরগুলির মধ্যে মতবিরোধ। প্রথমে সমাজ ন্যায় ও বিশেষ সহায়তা দপ্তর বিদেশি নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিল, অন্যদিকে পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা কোনও অপরাধে অভিযুক্ত নন বা বিচারাধীন নন। পরে সমাজকল্যাণ দপ্তর দায়িত্ব নেওয়ায় সমস্যা মেটে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মহারাষ্ট্র সরকার এ ধরনের দু’টি কেন্দ্র অনুমোদন করেছিল— ভোইওয়াড়ার অস্থায়ী কেন্দ্র ছাড়াও নবি মুম্বাইয়ের বালেগাঁওয়ে ২১৩ জন ধারণক্ষমতার একটি স্থায়ী কেন্দ্র। যদিও নবি মুম্বাই প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, তা এখনও চালু হয়নি।
২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার পরই ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়। গুজরাট, দিল্লি, আসাম, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে ব্যাপক ধরপাকড় চলে। তবে এই অভিযানে ধর্ম ও ভাষার ভিত্তিতে বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তড়িঘড়ি যাচাই, যথাযথ শুনানি ছাড়াই আটক, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্তে ঠেলে দেওয়া এবং এমনকি ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিমদের ‘ভুলবশত আটক’ বা ‘বিতাড়নের’ ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

Comments :0

Login to leave a comment