We must create an alternative

'দুই শাসকদলের বিরুদ্ধে বিকল্প গড়তে হবে আমাদেরই', আহ্বান আব্দুল কাফি'র

জেলা

মেদিনীপুর শহরে রবীন্দ্র মূর্তির সামনে বাঙলা পুনর্জাগরণের বার্তায় সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সহ পথনাটক। বক্তা অধ্যাপক আব্দুল কাফি।

মমতা ব্যানার্জির হাতে আজ বাংলা ও বাঙালি নিরাপদ নয়। তারই হাত ধরে বাংলার রাজনীতিতে আরএসএস'এর দখলদারী ও বিজেপিকে লালন পালন করার যে কদর্য ভাবনা, ঘৃণা ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছে সেই ঘৃণার পাহাড় সাফ করতে আরও কত প্রজন্ম লাগবে তা না ভেবে আমাদের করণীয় কাজ আমাদেরই করতে হবে।শুধু কয়েকটা গান, কবিতা, নাটক বা বক্তৃতা দিয়ে তার দায় শেষ হয় না। এই বাংলা হলো রেনেসাঁসের বাংলা, স্বাধীনতা আন্দোলনের বাংলা। সেলুলার জেলে বন্দী হওয়ার বাংলা। সেই পথে বাংলার পুনর্জাগরণের দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরই কাঁধে। সামনের সারিতে থেকে রাজপথ থেকে গলিপথ এই অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে, ঘৃণার ও জাতপাতের বিরুদ্ধে চৈতন্য, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায়দের হাতে বিকশিত বাংলাকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার যে প্রতিযোগিতা দুই শাসক নেমেছে তার  বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই ও বিকল্প আমাদের তুলে ধরতে হবে আমাদেরই। এমন আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল কাফি।

শনিবার মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রমূর্তির সামনে বাংলার পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে শিল্পী সাহিত্যিক সহ সমাজের বিশিষ্ট জনদের এক সমাবেশ হয়। সেই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল কাফি। তিনি বলেন, হঠাৎ করে হাজির করা হল বাংলায় এক কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। তারপর বলা হল রোহিঙ্গা নেইতো তাহলে বাংলাদেশী রয়েছে। বাংলাদেশী না মেলায় বলা হল দেশদ্রোহী রয়েছে, ভোটার লিষ্টে যাদের নাম বাদ গেল তাদের দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া হলো। আর যারা ষড়যন্ত্র করে ভোটের অধিকার কেড়ে নিলো তাদের বিরুদ্ধে আপনাদর কাছে একটাই আবেদন,  আমাদের যাদের ভোটারাধিকার এখনও রয়েছে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইভিএম-র বোতাম টেপার সময় যেন ভূলে না যাই কাদের কারনে আজ ওই গরিব প্রান্তিক মানুষরা তাঁদের হকের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলো। আমরা যেন তার জবাব দিতে পারি।
আজ দেশজুড়ে বাংলায় কথা বললে তাকে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। ছোটো জাত বলে ঘৃণা, দলিত বলে ঘৃণা, মুসলমান হলে ঘৃণা, আবার কখনো কখনো মতুয়াদের প্রতি ও ঘৃণার মনোভাব প্রচার করছেন কেউ কেউ। একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণা নির্মাণ করা হলো আমাদের এই জন্মভূমিতে-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে আমাদেরই।
এদিনের সভায় সভাপতিত্ব করেন জয়ন্ত চক্রবর্তী। সভা শেষে ৫টি পথনাটক পরিবেশিত হয়। অংশগ্রহন করেন কৃষ্টি সংসদ,ক্রান্তিক, খড়্গপুর থিয়েটার কালচার,মৃদঙ্গম,উজান সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলি। পরিবেশিত হয় আবৃত্তি ও সঙ্গীত।
 

Comments :0

Login to leave a comment