অশোক ভট্টাচার্য
উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবেই পৃথক রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ভাষাগত স্বীকৃতির দাবির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখানকার জনবিন্যাস বৈচিত্রময়, যেখানে রাজবংশী, গোর্খা, কামতাপুরী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে । এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশভাগের উত্তরকালীন জনবিন্যাসের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দিভাষী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে।
১৯৫০ সালে কোচবিহারের অন্তর্ভুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে আসা উদ্বাস্তুদের চাপের ফলে আদি বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি হয়। রাজবংশী এবং কামতাপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বঞ্চনার বোধ থেকেই পৃথক কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহারের দাবি উঠে আসে । একইভাবে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবি কয়েক দশক ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিকে অস্থির করে রেখেছে। এই অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী সুবিধা আদায় করাই বিজেপি’র একটি প্রধান কৌশল। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপি একই কৌশল অবলম্বন করেছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক শক্তিগুলি যেমন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা, জিএনএলএফ, গোর্খা জনশক্তি মোর্চা, আদিবাসী বিকাশ পরিষদ গোষ্ঠী এবং কামতাপুরী পিপলস পার্টির বিভিন্ন গোষ্ঠী অত্যন্ত সক্রিয়। তবে এই দলগুলির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো—বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস—এই আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে কৌশলে দ্বিখণ্ডিত বা কুক্ষিগত করেছে।
২০১৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বিজেপি এই অঞ্চলে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা আটটি আসনের মধ্যে সাতটি পায় এবং ২০২৪ সালে তারা ছয়টি আসনে জয়ী হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের অধিকাংশ বিজেপি’র দখলে ছিল। এই সাফল্যের মূলে ছিল পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিশ্রুতি এবং রাজবংশী ও গোর্খা জনজাতির বিভিন্ন দাবি মেটানোর আশ্বাস। তবে বিজেপি তাদের দেওয়া বহু প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি—এই কারণে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগে অভিযুক্ত।
তবে ২০২৬ সালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রতারিত বোধ কাজ করছে। কেন্দ্র সরকার গোর্খা সমস্যার সমাধানের জন্য 'ইন্টারলোকিউটার' বা আলোচক নিয়োগ করলেও আদতে কোনও রাজনৈতিক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। পরিবর্তে এখন 'লাদাখ মডেলের' কথা বলা হচ্ছে, যা মূলত বিধানসভাহীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক কাঠামো। এটি উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিটি বর্তমানে এক রাজনৈতিক টালবাহানায় পরিণত হয়েছে, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে ফায়দা লুটতে ব্যস্ত । অন্যদিকে, রাজবংশী ও অন্যান্য ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশের দাবি বামপন্থীদের কাছে ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচিত।
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হলো কৃষি এবং চা-শিল্প। কিন্তু বর্তমানে এই দুই ক্ষেত্রই গভীর সঙ্কটের মুখে। চা বাগানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রদানের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। বামফ্রন্ট সরকারের সময় উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নের যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসের মুখে। বামপন্থীদের প্রচারে কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিগুলি বিশেষ গুরুত্ব পেলেও, অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অ্যা জেন্ডায় এই বিষয়গুলি নেই। শিলিগুড়িতে তথ্য প্রযুক্তি পার্ক নির্মাণের জন্য বামফ্রন্ট সরকার ২৭ একর জমি বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেই বহুমূল্য জমি (যার বাজার মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) মাত্র এক টাকার বিনিময়ে একটি সংস্থাকে মহাকাল মন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করেছে। এমনকি রাজ্য কোষাগার থেকে ৩০০ কোটি টাকা এই মন্দির নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে "শিল্প নয়, মন্দিরই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে"। এটি উন্নয়নের মূল গতিপথকে শিল্প থেকে মন্দিরর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার এক সচেতন প্রচেষ্টা। সরকারি অর্থে মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। উত্তরবঙ্গে ধর্মকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী রাজনীতিতে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এক তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
কৃষকদের অবস্থাও ভয়াবহ। বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে গড়ে তোলা পাইন আপেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, টি-পার্ক, ড্রাই-পোর্ট এবং পেরিশেবল কার্গো সেন্টারগুলি আজ অকার্যকর। হিমাগারের অভাব এবং সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা আলুর দাম না পেয়ে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তিস্তা-মহানন্দা সেচ প্রকল্পের কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে, যার ফলে সেচের অভাবে কৃষি ক্রমেই অলাভজনক হয়ে উঠছে । শিল্প স্থাপনের বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও উত্তরবঙ্গে কার্যত কোনও নতুন শিল্প গড়ে ওঠেনি; বিভিন্ন শিল্পপার্ক প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সংগঠিত ক্ষেত্রে আয় বাড়ছে না, সেখানে অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষ সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পেলেও শাসক দলের প্রতি তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। উত্তরবঙ্গে টোটো চালক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভয়ে কিংবা বাধ্য হয়ে শাসক দলের ঝান্ডার নিচে থাকলেও তারা আসলে এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের গ্রাম ও শহরগুলিতে পঞ্চায়েত এবং পৌরসভাগুলি আজ স্থানীয় সরকার হিসাবে কাজ করার পরিবর্তে শাসক দলের নেতাদের উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গ্রামে গ্রাম সভা বা শহরে ওয়ার্ড কমিটির কোনও কার্যকর অস্তিত্ব নেই । নিয়মিতভাবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না এবং জেলা পরিকল্পনা কমিটিও নেই।
উত্তরবঙ্গের চা বাগান এবং গ্রামাঞ্চল থেকে নারী পাচারের (Trafficking) ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার গোর্খা, রাজবংশী ও আদিবাসী তরুণী নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, অথচ পুলিশ ও প্রশাসন এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে। নারী সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে ধর্মীয় রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি বা শাসক দল নারী নির্যাতনের ঘটনায় তখনই সরব হয় যখন সেখানে কোনও সাম্প্রদায়িক কোণ খুঁজে পাওয়া যায়। সাধারণ শ্রমজীবী নারীর নিরাপত্তা বা পাচার রোধে কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় স্থান পাচ্ছে না।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্কটও উত্তরবঙ্গের এক বড় বাস্তব। উত্তরবঙ্গ থেকে হাজার হাজার মানুষ বাইরে কাজ করতে গিয়ে 'সন্দেহভাজন বাংলাদেশি' হিসাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাদের জন্য আইনি সুরক্ষা বা পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের নেই।
উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত বিপর্যয় ২০২৬ সালের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দার্জিলিঙ ও কালিম্পঙ জেলায় ভয়াবহ ধস ও বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি এবং পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে । তিস্তা নদী আজ তার নাব্যতা হারিয়েছে। সিকিমের বাঁধ এবং ভুটানের থেকে আসা আকস্মিক বন্যা উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলকে বারবার বিপন্ন করছে। একমাত্র বামপন্থীরাই এই বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল বা বিজেপি পরিবেশ রক্ষার বদলে মন্দিরের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী।
এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে বামফ্রন্ট এবং বামপন্থী দলগুলি উত্তরবঙ্গের মানুষের সামনে এক বিকল্প নিয়ে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বামপন্থীদের লড়াই উত্তরবঙ্গের সমাজ কাঠামোকে রক্ষা করার লড়াই। তারা বাংলা বাঁচাতে বামপন্থার পুনরুত্থানের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্যে তাই স্পষ্ট যে উৎপাদন ভিত্তিক অর্থনীতির পুনর্জাগরণ।
তাই বামপন্থীদের প্রথম কাজ হবে প্রতীকী মন্দিরের রাজনীতির বদলে উৎপাদন ভিত্তিক অর্থনীতি। শিলিগুড়ির আইটি পার্ক পুনরুদ্ধার, বন্ধ হয়ে যাওয়া হিমুল ও কাঞ্চন সংস্থার পুনরুজ্জীবন এবং চা শ্রমিকদের জন্য বিধিবদ্ধ ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করার আন্দোলনকে তীব্র করতে হবে । কৃষকদের জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সরকারি ভরতুকি বৃদ্ধির দাবি । সেইসঙ্গে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় শাসনে গুরুত্ব। গ্রামসভা এবং ওয়ার্ড কমিটিকে পুনরায় কার্যকর করার দাবি তুলছে তারা। পঞ্চায়েত ও পৌরসভার কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে পারে। সিন্ডিকেট রাজ এবং আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। ।
অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের যে বিপুল জনসমষ্টি (টোটো চালক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিক) আজ রাজনৈতিক সমাজের অংশ হয়ে ধুঁকছে, তাদের দাবি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কেবল 'উপভোক্তা' হিসাবে নয়, বরং 'অধিকার সম্পন্ন নাগরিক' হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে নদী ও বন অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব বামপন্থীদের অগ্রাধিকার।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তব রূপায়ণ এবং উত্তরবঙ্গের নদীগুলিকে দূষণমুক্ত করার জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সাথে বন অধিকার আইন (FRA) ২০০৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে যাতে বনবস্তির মানুষরা তাদের জমির পাট্টা এবং জীবনযাত্রার সুরক্ষা পায়।
উত্তরবঙ্গে চলছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াইও এই নির্বাচনে সেটাও প্রাসঙ্গিক। বিজেপি ও তৃণমূল যেভাবে ধর্মকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যবহার করছে, তার বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গের নিজস্ব রাজবংশী, গোর্খা এবং আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক ধর্মনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে হবে। দার্জিলিঙ পার্বত্য অঞ্চলকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলিতে এবং রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজবংশী, কুরুখ ও লেপচা ভাষার শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গে একের পর এক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলির প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বহু বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অস্থায়ীভাবে কলেজের এক-দুটি ঘর ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে একই কক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, কন্ট্রোলার ও ইন্সপেক্টর অব কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের কাজ করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অব্যবস্থার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন সর্বত্র। উত্তরবঙ্গের পাহাড় অঞ্চলের ১১টি জনজাতির জন্য তফসিলি উপজাতি (ST) স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিনের। এই স্বীকৃতি পেলে তারা সাংবিধানিক অধিকার, শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ সহ বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাবে, যা তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এক অগ্নিপরীক্ষা। বঞ্চনা, প্রতারণা এবং দুর্নীতির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার জবাব দেওয়াই বামপন্থীদের বিকল্প। শাসক দুই দলের বিকল্প হিসাবে বামপন্থীরাই পারে উত্তরবঙ্গের মানুষের সততা ও সম্মানের জীবন ফিরিয়ে দিতে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালীন সাফল্যের অভিজ্ঞতা এবং সততার নজির, মানুষের আস্থা নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বাংলার ভবিষ্যতের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান আজ সময়ের দাবি।
Comments :0