Kerala

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেরালা মডেল’ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আমন্ত্রণ পিনারাই বিজয়নের

জাতীয়

আসন্ন কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বাম সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি। এবার তারই কড়া জবাব দিলেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
নিজের একটি ফেসবুক পোস্টে বিজয়ন বলেন, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া হয়েছে। নিজের রাজ্যের দুর্বলতাগুলি লুকিয়ে তিনি কেরালা এবং কেরালার জনগণকে অবজ্ঞা করছেন বলে অভিযোগ করেন বিজয়ন।
বিজয়ন তার পোস্টে লেখেন, ‘নিজের রাজ্যে গরীবের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার বিষয়টি সুবিধাজনকভাবে এড়িয়ে গিয়ে তিনি কেরালাকে সামাজিক অগ্রগতি এবং জনকল্যাণ নিয়ে জ্ঞান দিতে চাইছেন। এটা স্পষ্ট যে কেউ তাকে মারাত্মকভাবে ভুল তথ্য দিয়েছে।’
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে কেরালার কল্যাণমূলক মডেল সম্পর্কে জানতে কেরালায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, কেরালা টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।
কেরালা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজয়ন বলেন, কেরালা দেশের অন্যতম স্বচ্ছ রাজ্য। সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দুই রাজ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র পেশ করেন। বিজয়ন বলেন, নীতি আয়োগ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (২০২৩–২৪) অনুযায়ী কেরালা ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে, যেখানে তেলেঙ্গানার অবস্থান ষষ্ঠ।
দারিদ্র্যতার হারের দিক থেকে নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় দারিদ্র্যের হার মাত্র ০.৫৫ শতাংশ (যা ভারতের মধ্যে সর্বনিম্ন)। অন্যদিকে, তেলেঙ্গানায় এই হার ৫.৮৮ শতাংশ।
সাক্ষরতার হারের দিক থেকে কেরালায় সাক্ষরতার হার ৯৫.৩ শতাংশ, যা তেলেঙ্গানার (৭৬.৯ শতাংশ) তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে কেরালায় প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মে শিশুমৃত্যুর হার মাত্র ৫ জন। বিজয়ন উল্লেখ করেন, তেলেঙ্গানায় এই হার প্রায় চারগুণ বেশি।
গড় আয়ুর ক্ষেত্রে শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে একজন সাধারণ ভারতীয়ের তুলনায় একজন মালায়ালির গড় আয়ু ৫ থেকে ৭ বছর বেশি।
বিজয়ন প্রশ্ন তোলেন, ‘যখন তার নিজের সরকার কেরালার বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিতে চাইছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বা কীভাবে সেগুলোকে উপহাস করেন? এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক ভণ্ডামি আর কী হতে পারে?’
রেভান্ত রেড্ডির দাবি ছিল, কেরালা সরকার কেন্দ্রের সাথে গোপন আঁতাত করেছে। এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজয়ন উল্টে কংগ্রেসকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস এমন অনেক কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে যা রাজ্যগুলিকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
আগামী ৯ এপ্রিল কেরালার বিধানসভা নির্বাচন। সেই উপলক্ষ্যে ইউডিএফ (UDF) প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করতে এসে রেভান্ত রেড্ডি বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প থমকে থাকলেও কেরালা সরকার নীরব রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment